রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

তাজিয়া ইসলামের মূল দর্শনের পরিপন্থী: আল্লামা ইমাম হায়াত

মঈনউদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৮ পিএম
তাজিয়া ইসলামের মূল দর্শনের পরিপন্থী: আল্লামা ইমাম হায়াত

ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পুনরুজ্জীবনকারী, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত তাজিয়া মিছিলের বিরোধিতা করে বলেছেন, মহররম হলো ঈমানি শোক, মহান কারবালার শাহাদাতের স্মরণ এবং সেই শাহাদাতের লক্ষ্য বাস্তবায়নে জীবনপণ অঙ্গীকারের মাস।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মহররম মাসে কৃত্রিম কাঠামো নির্মাণ করে পবিত্র স্থান বা ব্যক্তিত্বের প্রতীকী উপস্থাপন ইসলামের মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষায়, তাজিয়া হলো প্রতীকী মাজার বা কবর নির্মাণের একটি প্রথা, যা তিনি ইসলাম পরিপন্থী বলে মনে করেন।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “তাজিয়া মানে বাতিল শিয়াবাদ। তাজিয়া মানে পবিত্র আহলে রাসুল (আ.)-এর অবমাননা।” তাঁর মতে, তাজিয়ার মাধ্যমে শোক প্রকাশ প্রকৃত মহব্বতের প্রকাশ নয়; বরং এটি আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি বেয়াদবি এবং মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করার একটি মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, ইসলামে কৃত্রিমতা বা প্রতীকী উপাসনার কোনো স্থান নেই। নকল মাজার বা কৃত্রিম কাঠামো নির্মাণ করে আসল পবিত্র স্থান ও ব্যক্তিত্বের মর্যাদাকে খাটো করা ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের পরিপন্থী।

আল্লামা ইমাম হায়াতের মতে, তাজিয়া ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠান ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ঈমানি চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে তিনি ১০ মহররম, তথা শাহাদাতে কারবালা দিবস যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ দিনকে শুধু আশুরা হিসেবে নয়, বরং “মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় ঈমানি শহীদ দিবস” এবং “মানবতার মুক্তির মহাশাহাদত দিবস” হিসেবে স্মরণ করা উচিত।

তিনি তাজিয়া ও অন্যান্য প্রতীকী আয়োজন পরিহার করে কারবালার প্রকৃত শিক্ষা, সত্য, ন্যায়, ঈমান, মানবিক মর্যাদা ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ র‍্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, “হকের দুশমন বাগি, মুনাফিক ও জালিমদের আদর্শ যেমন বাতিল, তেমনি শিয়াবাদও বাতিল। তাজিয়া বা পবিত্র আহলে রাসুল (আ.)-এর নামে নির্মিত নকল মাজার ও মণ্ডপ তাঁদের শানে চরম বেয়াদবি এবং ইসলামের প্রকৃত চেতনার পরিপন্থী।”

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, কারবালার শিক্ষা হলো সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকা। মুসলিম উম্মাহকে বিভেদ ও কৃত্রিম আচার-অনুষ্ঠান থেকে দূরে থেকে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।

সবশেষে তিনি বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব আয়োজিত আগামী ১০ মহররমের শাহাদাতে কারবালা দিবস উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসী, বিশেষ করে ঈমানদার নারী-পুরুষকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

মিঠামইনের ঘাগড়া ইউপি নির্বাচন: প্রচারণায় আলোচনায় সমাজসেবক মোস্তফা কামাল

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৮ এম
মিঠামইনের ঘাগড়া ইউপি নির্বাচন: প্রচারণায় আলোচনায় সমাজসেবক মোস্তফা কামাল

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ৪ নম্বর ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনো তফসিল ঘোষণা না করলেও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ইতোমধ্যে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও গণসংযোগ বাড়িয়েছেন। এরই মধ্যে তরুণ সমাজসেবক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্থানীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে ঘাগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন মোস্তফা কামাল। তিনি ইউনিয়নের ভরা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে মোস্তফা কামাল এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন। গণসংযোগকালে তিনি ঘাগড়া ইউনিয়নকে আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।

সম্ভাব্য নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়নের স্কুল-মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, মসজিদ-মাদ্রাসার সংস্কারে সহায়তা, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।

স্থানীয় বাসিন্দা সিহারা গামের গোলাপ মিয়া বলেন, “মোস্তফা কামাল বিভিন্ন সামাজিক কাজে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। দক্ষিণ হাটির মসজিদের কাজেও তিনি সহযোগিতা করেছেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে বলে আমরা আশা করি।”

এদিকে মাঠপর্যায়ে গণসংযোগের কারণে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মোস্তফা কামালের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর প্রার্থীদের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীসংখ্যা, দলীয় সমর্থন ও ভোটারদের মনোভাবের ওপর নির্ভর করে ঘাগড়া ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠ আরও সরগরম হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে গণসংযোগ চালিয়ে আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।

হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ায় ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের নিয়ন্ত্রক কে এই ‘গরু আলম’?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম
হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ায় ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের নিয়ন্ত্রক কে এই ‘গরু আলম’?

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আলম মিয়া ওরফে ‘গরু আলম’ নামের এক ব্যক্তি। তিনি স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিখালী, ঝলঝলিয়া, গাবড়াখালী, কড়ইতলী, আয়নাতলীসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন পণ্য দেশে আনা হচ্ছে। এসব পণ্যের মধ্যে ভারতীয় গরু, জিরা, কম্বল, কসমেটিকস, ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্যও সীমান্তপথে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরাচালানের পাশাপাশি ‘হুন্ডি’ ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে ওই সিন্ডিকেট। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন এবং সরকারের রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন আলম মিয়া। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কতিপয় সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করে চোরাচালানের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের কাছে আলম মিয়া নামের চেয়ে ‘গরু আলম’ নামেই বেশি পরিচিত বলে জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি সীমান্ত এলাকায় তাঁর প্রভাব ধরে রেখেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ভারত থেকে আমদানি নিষিদ্ধ বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য আনার মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি না থাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলম মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ২০ মিনিট পর কথা বলবেন বলে জানান। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

প্রতিবেদকের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

রাজপথের সংগ্রাম থেকে নগর পরিচালনায় রোকনুজ্জামান রোকন

সুমন ভট্টাচার্য, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৮ পিএম
রাজপথের সংগ্রাম থেকে নগর পরিচালনায় রোকনুজ্জামান রোকন

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে।

রাজনীতির রাজপথে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার নগর পরিচালনার দায়িত্বে রোকনুজ্জামান রোকন। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নগর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে নগরবাসীর মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

রোকনুজ্জামান রোকন ময়মনসিংহ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি।

তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের ভাষ্য, রোকনুজ্জামান সরকার রোকনের নেতৃত্ব একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে হামলা-মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেছেন তাঁর সহকর্মীরা।

ছাত্রদলের কর্মী থেকে নেতৃত্বে আসা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন, পরবর্তীতে জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব এবং সর্বশেষ জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন—প্রতিটি পর্যায়েই তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল আলোচনায়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার পর ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব তাঁর জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নাগরিক সেবা ও নগর ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন তিনি।

নগরবাসীর অনেকের মতে, মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রশাসকের দায়িত্ব পালনে রোকনুজ্জামান রোকনকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও নগর পরিচালনায় ভূমিকা রাখছে।

তবে নগরবাসীর প্রত্যাশাও বড়। ময়মনসিংহকে আরও পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত, যানজটমুক্ত ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি নাগরিক সেবার মান বাড়ানো, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনা এবং প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে তাঁদের।

রাজনৈতিক সহকর্মীরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এখন নগর উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন রোকনুজ্জামান রোকন। আর নগরবাসীর প্রত্যাশা—রাজপথে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এবার নগর উন্নয়নেও তেমনি দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তিনি।

নেতৃত্ব যে শুধু পদ-পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কাজের মাধ্যমেই তার মূল্যায়ন হয়—রোকনুজ্জামান রোকনের বর্তমান দায়িত্ব পালনের দিকে তাকিয়ে এখন সেই পরীক্ষার সময়। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে তাঁর কর্মকাণ্ড আগামী দিনে নগরবাসীর প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।