বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

জেলা প্রশাসককে প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ ছেড়ে প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম
জেলা প্রশাসককে প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ ছেড়ে প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন

জেলা প্রশাসককে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ থেকে অবিলম্বে সরে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া তথাকথিত প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা। বুধবার (০৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক আজগর হোসেন রবিন এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম আহ্বায়ক আজহারুল আলম। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সংস্কার কমিটির সদস্য সচিব শিবলী সাদিক খান, মুখ্য সংগঠক মোঃ আরিফ রেওগীর, আলমগীর কবির উজ্জল খান, গোলাম কিবরিয়া পলাশ, সুমন ভট্টাচার্য্য, নজরুল ইসলাম মিন্টু, রোকসানা আক্তার, তাসলিমা রত্না, সাদেকুর রহমান সাদেক, নাজমুল হাসান রাজু খান ও সেলিম সাজ্জাদ।

এছাড়াও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সংগঠক জহর লাল দে, যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ খান লিটন, সংগঠক আরিফ রব্বানী, ইয়াহিয়া আরিফ, আবুল কালাম আজাদ, এজি জাফর, খায়রুল বাশার, নিহার রঞ্জন কুন্ডু, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল হাকিম, আব্দুল মালেক, মোঃ আজাহারুল ইসলাম, মমতাজ বেগম পপি, মোমেনা আক্তার, দিলরুবা আক্তার, নূরুন নাহার মুক্তি, জামাল উদ্দিন, রাফিদুল ইসলাম সোহেল, দ্বীন ইসলাম, আতিকুর রহমান শাওন, শেখ সোহেল মিয়া, মোঃ জুয়েল, এহতেশামুল হক সুমন, মোঃ মাকছুদুল হুদা, মোছাঃ রিক্তা বেগম, মাসুদ রানা প্রমুখসহ প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবকে প্রকৃত অর্থে “প্রেসক্লাব ফর প্রেসম্যান” হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সর্বপ্রথম কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের একটি সঠিক ও স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি একটি যুগোপযোগী গঠনতন্ত্রের খসড়া তৈরি করে তা সাধারণ সভার মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে এবং এরপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, একটি পেশাজীবী সাংবাদিক সংগঠন বা ক্লাবে শুধুমাত্র সাংবাদিকরাই সদস্য হতে পারেন। অসাংবাদিক ব্যক্তি যেমন, আমলা, আইনজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের প্রেসক্লাবের সদস্যপদ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও নীতিবিরোধী। এতে করে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং প্রেসক্লাব তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের আসন্ন তথাকথিত প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করার জন্য জোর দাবি জানান। তারা বলেন, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। বক্তারা এ বিষয়ে দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান চেয়ে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সভাপতি পদে থাকা জেলা প্রশাসকের নিকট আহ্বান জানান।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি উপেক্ষা করে যদি বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা হয় এবং এ সংক্রান্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসককেই বহন করতে হবে। মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও প্রেসক্লাব সংস্কারের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে এসআই শাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মুক্তা, তামান্না ও রুনা নামের তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ শিবিরুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ এম
ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের একাংশে খাস হালট জমি দখল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ দখল কার্যক্রমের ফলে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা খাস জমি দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে করে খালটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। খালটি বালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি বহন করে পাশের ঢাকুয়া ইউনিয়নে পৌঁছে দেয়, যা পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাল ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পড়েছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল খালটি পুনরুদ্ধার এবং দখলমুক্ত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।

ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আকুয়া মড়লপাড়া এলাকায় এক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বর্তমানে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সুলতানা হাফিজুন নাহার তার স্বামী শফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আলীপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. মাসুদ রানার সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গার্মেন্টস পণ্যের শিপমেন্ট ব্যবসায় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ৩ মে ও ৫ জুন দুই দফায় মোট ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে মূল টাকা ও লভ্যাংশসহ মোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছেন বলেও দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাওনা টাকা চাইতে ফোন করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, একদিকে তারা অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন, অন্যদিকে অভিযুক্তের হুমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কোতোয়ালী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।