বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

জেলা প্রশাসককে প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ ছেড়ে প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম
জেলা প্রশাসককে প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ ছেড়ে প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন

জেলা প্রশাসককে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ থেকে অবিলম্বে সরে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া তথাকথিত প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা। বুধবার (০৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক আজগর হোসেন রবিন এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম আহ্বায়ক আজহারুল আলম। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সংস্কার কমিটির সদস্য সচিব শিবলী সাদিক খান, মুখ্য সংগঠক মোঃ আরিফ রেওগীর, আলমগীর কবির উজ্জল খান, গোলাম কিবরিয়া পলাশ, সুমন ভট্টাচার্য্য, নজরুল ইসলাম মিন্টু, রোকসানা আক্তার, তাসলিমা রত্না, সাদেকুর রহমান সাদেক, নাজমুল হাসান রাজু খান ও সেলিম সাজ্জাদ।

এছাড়াও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সংগঠক জহর লাল দে, যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ খান লিটন, সংগঠক আরিফ রব্বানী, ইয়াহিয়া আরিফ, আবুল কালাম আজাদ, এজি জাফর, খায়রুল বাশার, নিহার রঞ্জন কুন্ডু, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল হাকিম, আব্দুল মালেক, মোঃ আজাহারুল ইসলাম, মমতাজ বেগম পপি, মোমেনা আক্তার, দিলরুবা আক্তার, নূরুন নাহার মুক্তি, জামাল উদ্দিন, রাফিদুল ইসলাম সোহেল, দ্বীন ইসলাম, আতিকুর রহমান শাওন, শেখ সোহেল মিয়া, মোঃ জুয়েল, এহতেশামুল হক সুমন, মোঃ মাকছুদুল হুদা, মোছাঃ রিক্তা বেগম, মাসুদ রানা প্রমুখসহ প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবকে প্রকৃত অর্থে “প্রেসক্লাব ফর প্রেসম্যান” হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সর্বপ্রথম কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের একটি সঠিক ও স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি একটি যুগোপযোগী গঠনতন্ত্রের খসড়া তৈরি করে তা সাধারণ সভার মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে এবং এরপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, একটি পেশাজীবী সাংবাদিক সংগঠন বা ক্লাবে শুধুমাত্র সাংবাদিকরাই সদস্য হতে পারেন। অসাংবাদিক ব্যক্তি যেমন, আমলা, আইনজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের প্রেসক্লাবের সদস্যপদ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও নীতিবিরোধী। এতে করে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং প্রেসক্লাব তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের আসন্ন তথাকথিত প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করার জন্য জোর দাবি জানান। তারা বলেন, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। বক্তারা এ বিষয়ে দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান চেয়ে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সভাপতি পদে থাকা জেলা প্রশাসকের নিকট আহ্বান জানান।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি উপেক্ষা করে যদি বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা হয় এবং এ সংক্রান্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসককেই বহন করতে হবে। মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও প্রেসক্লাব সংস্কারের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর ঘটা রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১.৭ শতাংশ ঘটনার সাথে বিএনপি যুক্ত।

আজ (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ২০.৭ শতাংশ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ৭.৭ শতাংশ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী এবং ১.২ শতাংশ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পৃক্ততা রয়েছে।

‘স্বৈরাচারের পতনের দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটির ফলাফল টিআইবি-র সম্মেলন কক্ষে প্রকাশ করা হয়।

টিআইবি জানায়, বিভিন্ন দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৫০টিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, আর ১২৪টি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সদস্যরা জড়িত ছিল। এই সময়ে জামায়াত ৪৬টি ঘটনায় জড়িত ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

টিআইবি-র মতে, সরকার পতনের পর আগে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের দখল নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, সিলেটের পাথর কোয়ারি ও নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন এবং ব্রিজ, বাজার, ঘাট, বালু মহাল ও জলাশয়ের ইজারা দখলের লড়াই।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকাংশেই অকার্যকর ছিল এবং দলগুলো সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নিজ কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তফসিলের পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী: টিআইবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
তফসিলের পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী: টিআইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ মাসে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৭ হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫০টি ঘটনায় (৯১ দশমিক ৭ শতাংশ) বিএনপি, ১২৪টি ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ (২০ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং ৪৬টি ঘটনায় (৭ দশমিক ৭ শতাংশ) জামায়াতে ইসলামী সম্পৃক্ত ছিল।

টিআইবি জানায়, তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ৪০১ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১ হাজার ৩৩৩ অস্ত্র নিখোঁজ ছাড়াও ডিপফেক ও ভুল তথ্যের বাড়তি হুমকি, সংখ্যালঘুদের ওপর পঞ্চাশের বেশি হামলার ফলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, আন্দোলন, লুটপাট, অরাজকতা অব্যাহত রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৬৭ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৫৫ কোটি ডলারে নেমে আসে। যা ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ময়মনসিংহে অলিম্পিক ভিলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

নির্বাচনে সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায়ের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
নির্বাচনে সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায়ের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও ধৈর্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ সফরকালে তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট থাকে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তিনি নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এর আগে ও পরে সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ত্রিশালে প্রস্তাবিত ‘অলিম্পিক ভিলেজ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

সেনাপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, অলিম্পিক ভিলেজ আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।