নরসিংদীর মাধবদীতে বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে ছিনিয়ে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যতম আসামি হযরত আলী (৩২) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের ছিলিমপুর এলাকার একটি বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন করিম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ দল ও গৌরীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সোহাগবাজার মোড়ে চা পানরত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, হযরত আলী অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে সে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল সিমটি মূল অবস্থান থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সোহাগী এলাকায় ফেলে রেখে আসে। সে নরসিংদীতে ভ্যানচালক হিসেবে কাজ করত। গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের দুই শ্রমিকের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে সে ওই এলাকায় এসে আত্মগোপন করে।
এর আগে বুধবার রাতে নিহত কিশোরীকে নিয়ে তার বাবা খালার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বখাটে নূরা ও হযরত আলীসহ ছয়জন যুবক তাদের গতিরোধ করে। এ সময় বাবার সামনেই কিশোরীকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায় তারা।
সারা রাত খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার সকালে পার্শ্ববর্তী একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত কিশোরীর বড় ভাই জানান, “আব্বা ওরে নিয়া খালার বাড়ি যাচ্ছিল। পথে নূরাসহ ছয়জন ওরে তুলে নিয়ে যায়। সারা রাত খুঁজছি, সকালে লাশ পাই।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগেও নূরা ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছিল। ওই ঘটনার বিচার চাইতে স্থানীয় সাবেক এক ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহর কাছে গেলে তিনি উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। প্রভাবশালী মহলের এমন আচরণের কারণেই পরিবারটি কিশোরীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে চেয়েছিল বলে জানায় স্বজনরা। তবে পথেই ঘটে মর্মান্তিক এই ঘটনা।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নূরার সঙ্গে কিশোরীর পূর্বপরিচয় ছিল। বাবার কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরদিন সকালে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।