ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, রাজপথে সক্রিয় ও কারা নির্যাতনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছাত্রনেতা মঈনুল হাসান খান রাকাত আলোচনায় থাকা অন্যতম নাম।
সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা রাকাত বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবাসের মুখোমুখি হয়েছেন। এসব কারণে তাকে ‘পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী’ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
রাকাতের দাবি, ২০২১ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে চার দিন গুম অবস্থায় রাখে এবং ওই সময় অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করা হয়। তিনি বলেন, ওই সময় তাকে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ করেও তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেননি।
চার দিন পর তাকে প্রকাশ্যে আনা হলে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান বলে জানান তিনি।
মামলা ও কারানির্যাতনের বর্ণনায় রাকাত বলেন, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে চারটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তিনি প্রায় ১৬৯ দিন কারাগারে ছিলেন। কারাগারে নির্যাতনের কারণে প্রায় ২১ দিন বিছানা থেকে উঠতে পারেননি তিনি।
তিনি আরও বলেন, “রিমান্ডের নাম শুনলেই অনেকের মনে ভয় কাজ করে। কিন্তু সেই নির্যাতনের বাস্তব অভিজ্ঞতা আমি নিজের শরীরে বহন করছি। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পা ও মেরুদণ্ডের সমস্যার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।”
কারাবন্দি থাকার সময় দলের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হোক এমন আশঙ্কায় তিনি জামিন ও কারাগারের ভেতরের খরচসহ সব কিছু পরিবারের মাধ্যমেই পরিচালনা করেছেন বলে জানান। তার দাবি, দলের কাছ থেকে তিনি কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতা নেননি।
রাকাত বলেন, “দলকে ভালোবেসে রাজপথে নেমেছি। কোনো কিছু পাওয়ার জন্য নয়, বরং সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। মহান আল্লাহ তায়ালা যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন যেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পাশে থেকে সংগঠনের জন্য কাজ করতে পারি সবার কাছে সেই দোয়া।”
ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন নাম আলোচনায় থাকলেও তৃণমূলের একটি অংশ রাকাতের মতো রাজপথের কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।।