শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে গৃহকর্মী নিখোঁজ; রহস্যজনক ভূমিকায় মালিক 

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
ময়মনসিংহে গৃহকর্মী নিখোঁজ; রহস্যজনক ভূমিকায় মালিক 

ময়মনসিংহে নগরীর সানকিপাড়া শেষ মোড় এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের বাসা থেকে গৃহকর্মী হ্যাপি (১২) নিখোঁজ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত (৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৫ ঘটিকায় নিখোঁজের ঘটনাটি ঘটে। গৃহকর্মী হ্যাপি নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার তেরোতোপা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের কন্যা।

এঘটনার প্রেক্ষিতে নিখোঁজ হ্যাপির পিতা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে তার মেয়ে আমিরুল ইসলামের বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি করে মেয়েকে না পেয়ে গত (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরীর ৪নং ওয়ার্ডের সানকিপাড়া শেষ মোড় অবস্থিত অভিযুক্তর বাসায় গিয়ে কন্যা হ্যাপির সন্ধান চাইলে তাকে অপমান-অপদস্ত ও হুমকি দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমানে সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবী করা হয়।

এবিষয়ে আমিরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি নিখোঁজের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমার বাসা থেকে ১২ হাজার টাকা ও মালামাল নিয়ে কাজের মেয়ে হ্যাপি পালিয়েছে। তবে কি কি মালামাল নিয়ে গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে আমিরুল সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। এসময় তার গ্রামের বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি সাক্ষাৎ করার কথা বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জ্বালানি তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি, ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
জ্বালানি তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি, ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০

দেশে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কেরোসিনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। নতুন এই দাম রোববার থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দামের তুলনায় সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

একইভাবে কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, ফলে লিটারে ১৮ টাকা বেশি গুণতে হবে ভোক্তাদের। অন্যদিকে অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, যা লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা বৃদ্ধি।

এছাড়া পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে, যেখানে লিটারে ১৯ টাকা বেশি দিতে হবে।

জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল হোস্টেলে সংঘর্ষ: রড-হাতুড়ির আঘাতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত, গ্রেফতার ১

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩২ এম
ময়মনসিংহ মেডিকেল হোস্টেলে সংঘর্ষ: রড-হাতুড়ির আঘাতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত, গ্রেফতার ১

ময়মনসিংহ নগরীর বাঘমারা এলাকায় মমেক এর একটি ছাত্রাবাসে ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ ঘটনায় অন্তত দুইজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো হোস্টেল এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সরেজমিনে ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হামিদুর নামের এক শিক্ষার্থী ২০২ নম্বর কক্ষে মোয়াজ নামে আরেক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। এর জের ধরে সন্ধ্যার দিকে হোস্টেল ক্যান্টিনে চা পান করতে গেলে হামিদুরের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় মোয়াজ লোহার রড দিয়ে তাকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহত হামিদুরকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে রাতে পুলিশ মোয়াজকে গ্রেফতার করতে গেলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় হামিদুরের পক্ষের নাফিউল নামের আরেক শিক্ষার্থী পুলিশের সামনেই মোয়াজকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে মোয়াজ গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই নাফিউলকে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনার পর পুরো হোস্টেল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ত্রিশালে ওসির সখ্যতায় এক বছরেও অধরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের আসামিরা!

শামীম খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৯ এম
ত্রিশালে ওসির সখ্যতায় এক বছরেও অধরা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের আসামিরা!

থানায় মামলা হয়েছে ঠিক এক বছর আগে। দায়েরকৃত এজাহারে সুনির্দিষ্ট ১১ জন আসামির নামসহ ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামার উল্লেখ আছে। আছে লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ। অথচ রহস্যজনক কারণে দীর্ঘ ১২ মাসেও একজন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানা পুলিশ। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কর্মকর্তার সাথে আসামীদের গভীর সখ্যতা আর অনৈতিক লেনদেনের কারণে থমকে আছে বিচারের চাকা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ত্রিশালের বিয়ার্তা উত্তরের চরে জহির এগ্রো ফার্ম-এ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। বাদী খাদিজা খাতুনের ছেলে মোঃ খাইরুল বাশার হামীমের এই খামারে ঢুকে চারটি দোচালা ঘর ভাঙচুর, প্রায় ২০০ ফলজ ও ওষুধি গাছ নিধন এবং পুকুর থেকে মাছ লুটে নেয় তারা। এখানেই শেষ নয়, খামারে থাকা প্রায় ৫০টি ছাগল (যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। বাধা দিতে গেলে খামারের মালিক হামীম, ম্যানেজার মাকসুদুল এবং লেবার মনির হোসেনকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। প্রাণভয়ে তারা পালিয়ে গেলে ৪নং আসামির হুকুমে ১নং ও ৫নং আসামি পেট্রোল ঢেলে স্টুডিও রুমে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মূল্যবান ভিডিও ক্যামেরা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, আইপিএস, ফ্রিজ ও এসি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এই নৃশংস ঘটনার পর ১৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ত্রিশাল থানায় ১৮(০৪)২৫ নং মামলাটি রুজু করেন ওসি মনসুর আহমেদ ও তদন্ত ওসি গোলাম মোস্তফা রুবেল।

কিন্তু আজ পর্যন্ত তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, ত্রিশাল থানার বর্তমান ওসি মনসুর আহমেদ ও ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা রুবেলের সাথে আসামিদের চরম ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

বাদী খাদিজা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ সব জেনেও নীরব। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, ওসি তদন্ত আসামিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের আড়াল করছেন। পর্যাপ্ত সাক্ষী ও প্রমাণ থাকার পরও এক বছরে একজনকেও গ্রেফতার না করা কি স্বাভাবিক? আমরা কি তবে পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হব? আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে দায় এড়াচ্ছে। এর ফলে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মামলা তুলে নিতে আসামিরা নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অতি দ্রুত এই মামলাটি পিবিআই বা উচ্চতর কোনো সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং পুলিশের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই বিষয়ে জানতে ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আইনের রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় কিংবা অপরাধীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে, তখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?