বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ১৪৩২

নির্বাচনের ছয় দিন পরও ময়মনসিংহ নগরজুড়ে ঝুলছে পোস্টার–ব্যানার, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের ছয় দিন পরও ময়মনসিংহ নগরজুড়ে ঝুলছে পোস্টার–ব্যানার, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে এখনো ঝুলছে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্যানা–পোস্টার ও ব্যানার। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রচারসামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ময়মনসিংহ–৪ সদর আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে বিজয়ী হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–সমর্থিত প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ। তবে নির্বাচন শেষ হলেও নগরের প্রধান সড়ক নতুন বাজার, গাঙ্গিনারপাড়, চরপাড়া, জিলা স্কুল মোড়, টাউন হল মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও বড় আকারের বিলবোর্ড ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। শুধু প্রধান সড়কই নয়, অলিগলিতেও শত শত নির্বাচনী সামগ্রী টানানো রয়েছে।

বুধবার বিকেলে গাঙ্গিনারপাড় ও ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখনো পোস্টার অপসারণ করা হয়নি। এ সময় ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় পথচারী হামিদুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও পোস্টার–ব্যানার সরানো হয়নি। শহরজুড়েই একই অবস্থা। দ্রুত এগুলো অপসারণ করা উচিত।”

এদিকে নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী অপসারণের বিষয়ে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সময় শহর ও গ্রামকে আগের মতো পরিষ্কার ও সুন্দর করে তোলার। জনদুর্ভোগ ও পরিবেশ দূষণ এড়াতে রাস্তাঘাট, দেয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও জনসমাগমস্থলে টাঙানো প্যানা, বিলবোর্ড দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সবাইকে নিজ নিজ প্রচারণাসামগ্রী সরিয়ে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “প্রার্থীদের আবারও অনুরোধ করা হচ্ছে, তারা যেন নিজেদের নির্বাচনী সামগ্রী নিজেরাই অপসারণ করেন। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোকে এ কাজে সহায়তার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

ময়মনসিংহে গৃহকর্মী নিখোঁজ; রহস্যজনক ভূমিকায় মালিক 

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
ময়মনসিংহে গৃহকর্মী নিখোঁজ; রহস্যজনক ভূমিকায় মালিক 

ময়মনসিংহে নগরীর সানকিপাড়া শেষ মোড় এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের বাসা থেকে গৃহকর্মী হ্যাপি (১২) নিখোঁজ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত (৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৫ ঘটিকায় নিখোঁজের ঘটনাটি ঘটে। গৃহকর্মী হ্যাপি নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার তেরোতোপা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের কন্যা।

এঘটনার প্রেক্ষিতে নিখোঁজ হ্যাপির পিতা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে তার মেয়ে আমিরুল ইসলামের বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি করে মেয়েকে না পেয়ে গত (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরীর ৪নং ওয়ার্ডের সানকিপাড়া শেষ মোড় অবস্থিত অভিযুক্তর বাসায় গিয়ে কন্যা হ্যাপির সন্ধান চাইলে তাকে অপমান-অপদস্ত ও হুমকি দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমানে সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবী করা হয়।

এবিষয়ে আমিরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি নিখোঁজের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমার বাসা থেকে ১২ হাজার টাকা ও মালামাল নিয়ে কাজের মেয়ে হ্যাপি পালিয়েছে। তবে কি কি মালামাল নিয়ে গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে আমিরুল সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। এসময় তার গ্রামের বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি সাক্ষাৎ করার কথা বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ময়মনসিংহে ইউনিয়ন হাসপাতালের বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন

খালের উপর দাঁড়িয়ে ১২ তলা ভবন! কে দিল অনুমোদন?

নিজস্ব সংবাদদাতা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩২ এম
খালের উপর দাঁড়িয়ে ১২ তলা ভবন! কে দিল অনুমোদন?

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন-এর আওতাধীন চরপাড়া এলাকায় একটি খালের উপর ও খালের সীমানা লঙ্ঘন করে ১২ তলা ‘ইউনিয়ন হাসপাতাল’ নির্মাণের অভিযোগে নগরজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মৌলিক বিধি বিশেষ করে সেটব্যাক (ফাঁকা জায়গা) পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।

নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১২ তলা ভবনের ক্ষেত্রে চারপাশে নির্ধারিত ন্যূনতম ফাঁকা জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক। অথচ সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটি খালের একেবারে গা ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রশস্তকরণের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এতে করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সংকট ও পরিবেশগত ঝুঁকি বহুগুণে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু চরপাড়া নয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও ড্রেনের উপর কিংবা সীমানা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ক্রমেই সরু হয়ে যাচ্ছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে।

এদিকে নতুন সরকার গঠনের পর ময়মনসিংহ সদর-এর সংসদ সদস্য তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে অবৈধ দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন এমন প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে খাল, রাস্তা ও ড্রেন দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, দায়ীদের জবাবদিহি এবং বেআইনিভাবে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না তা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনার, যিনি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা ও অনুমোদনের ফাইল তলব করেছেন। বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের আওতায় আনার প্রস্তুতিও চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, “নগর উন্নয়ন যদি আইন, পরিবেশ ও জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে হয়, তবে তার মূল্য দিতে হয় নাগরিকদের। চরপাড়া খালের উপর হাসপাতাল নির্মাণের ঘটনাটি এখন শুধু একটি ভবনের প্রশ্ন নয়, এটি ময়মনসিংহ শহরের নগর শাসন ও আইন প্রয়োগের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা।”

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দর্শন “দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো”, বাস্তবে বেড়েছে ৩০ লাখ দারিদ্র্য মানুষ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩২ পিএম
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দর্শন “দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো”, বাস্তবে বেড়েছে ৩০ লাখ দারিদ্র্য মানুষ

দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্য বিমোচনের প্রতীকী এক দর্শনের কথা বলে আসছেন, “দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো।” ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তিনি দারিদ্র্যবিরোধী আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। ফলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব গ্রহণের সময় জনগণের প্রত্যাশাও ছিল স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ড. ইউনূস দারিদ্র্য বিমোচনের দর্শন বাস্তবায়নের এক বিরল সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সে সময়কালে দেশে দারিদ্র্য কমার পরিবর্তে নতুন করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন, যা উদ্বেগজনক এবং হতাশাজনক।

অবশ্য এ বাস্তবতার পেছনে কেবল একজন ব্যক্তিকে দায়ী করা কতটা যুক্তিসংগত, সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে। অন্তর্বর্তী সরকার মূলত একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বড় ধরনের সম্প্রসারণ এসব উদ্যোগ নেওয়ার মতো রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তাদের থাকে না। উপরন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং পূর্ববর্তী সময়ের কাঠামোগত দুর্বলতাও দারিদ্র্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তবু প্রশ্ন থেকেই যায়, নৈতিক উচ্চতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে কি আরও দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রত্যাশা করা অযৌক্তিক ছিল? দারিদ্র্য বিমোচন কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়; এটি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাহসী সিদ্ধান্তের সমন্বিত ফল। এ জায়গায় ড. ইউনূসের দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতার মধ্যে এক ধরনের ফাঁক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন একদিকে যেমন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ ছিল, অন্যদিকে তেমনি জনগণের উচ্চ প্রত্যাশার ভারও বহন করছিল। এই অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানোর স্বপ্ন যতই মহৎ হোক না কেন, রাষ্ট্রীয় বাস্তবতায় তা বাস্তবায়নের পথ অনেক বেশি জটিল ও কঠিন।