ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন-এর আওতাধীন চরপাড়া এলাকায় একটি খালের উপর ও খালের সীমানা লঙ্ঘন করে ১২ তলা ‘ইউনিয়ন হাসপাতাল’ নির্মাণের অভিযোগে নগরজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মৌলিক বিধি বিশেষ করে সেটব্যাক (ফাঁকা জায়গা) পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১২ তলা ভবনের ক্ষেত্রে চারপাশে নির্ধারিত ন্যূনতম ফাঁকা জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক। অথচ সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটি খালের একেবারে গা ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রশস্তকরণের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এতে করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সংকট ও পরিবেশগত ঝুঁকি বহুগুণে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু চরপাড়া নয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও ড্রেনের উপর কিংবা সীমানা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ক্রমেই সরু হয়ে যাচ্ছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে।

এদিকে নতুন সরকার গঠনের পর ময়মনসিংহ সদর-এর সংসদ সদস্য তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে অবৈধ দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন এমন প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে খাল, রাস্তা ও ড্রেন দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, দায়ীদের জবাবদিহি এবং বেআইনিভাবে নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না তা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনার, যিনি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা ও অনুমোদনের ফাইল তলব করেছেন। বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের আওতায় আনার প্রস্তুতিও চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, “নগর উন্নয়ন যদি আইন, পরিবেশ ও জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে হয়, তবে তার মূল্য দিতে হয় নাগরিকদের। চরপাড়া খালের উপর হাসপাতাল নির্মাণের ঘটনাটি এখন শুধু একটি ভবনের প্রশ্ন নয়, এটি ময়মনসিংহ শহরের নগর শাসন ও আইন প্রয়োগের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা।”

নিজস্ব সংবাদদাতা।।