শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩১ ১৪৩২
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩১ ১৪৩২

সাংবাদিকেরা হবেন কর্পোরেট প্রভাব থেকে মুক্ত: মাহমুদুর রহমান

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৪, ১১:৫৮ এম
সাংবাদিকেরা হবেন কর্পোরেট প্রভাব থেকে মুক্ত: মাহমুদুর রহমান

দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী আ.লীগের আমলে সত্য প্রচারে সাংবাদিকদের উপর যে চাপ ছিলো তা থেকে আমরা মুক্ত হয়ে নতুন করে স্বাধীনতা পেয়েছি। আমাদের সত্য প্রচারে নির্ভীক হতে হবে। আমরা এমন সাংবাদিকতা দেখতে চাই যেখানে সাংবাদিকেরা হবেন কর্পোরেট প্রভাব থেকে মুক্ত। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এজন্য আমাদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে হবে। এক্ষেত্রে সম্পাদকদের রাখতে হবে সজাগ দৃষ্টি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সকল মিডিয়াগুলো গণজাগরণ মঞ্চকে প্রমোট করছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় স্বৈরাচারি হাসিনা সরকার আমাকে নানাভাবে হত্যাচেষ্টা করেছে, আমার উপর অত্যাচার চালিয়েছে। মামলা দিয়েছে। এখন সময় এসেছে। আমাদের স্বাধীন সাংবাদিকতার দিকে ঝুকতে হবে। শুক্রবার রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব মিলনায়তন, সিটি বাজার (কৈলাশ রঞ্জন স্কুল মার্কেট)-এ রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে ও রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের যৌথ আয়োজনে বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে কেমন সংবাদ মাধ্যম চাই শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, স্কাইপ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ডিজিটাল আইনের পিতা আইন তথ্য প্রযুক্তি আইন ৫৭/৫৮ ধারায় এ সরকার আমাকে এক নাম্বার আসামি করে মামলা করে। তথ্য প্রযুক্তি আইনের সন্তান হলো সাইবার নিরাপত্তা আইন। আপনারা সাংবাদিকেরা এখন এ আইন নিয়ে কোনো কথা বলেন না।তিনি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে স্বরণকে বলেন, আবু সাঈদের রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই নতুন স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সাংবাদিকাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে হবে।তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার সম্পাদক-বার্তা সম্পাকদের উদ্দেশে বলেন, কর্পোরেট প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে হবে। কেউ যেন আমাদেরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ যেন হাসিল করতে না পারে সেই ব্যাপারে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।অনুষ্ঠানে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে সভাপতি আলহাজ্ব সালেকুজ্জামান সালেকের সভাপতিত্বে ও রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব এবং রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নানের সঞ্চলনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আমার দেশের বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, পরিচালক শাকিল ওয়াহেদ, ইনস্টিডিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ-আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বক্তব্য রাখেন, দৈনিক সংবাদ ও একুশে টিভির ব্যুরো প্রধান এবং রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের সদস্য সচিব লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, আমাদের প্রতিদিনের সম্পাদক এবং দৈনিক যুগান্তরের রংপুর ব্যুরো প্রধান মাহবুব রহমান হাবু, দৈনিক দাবানলের সম্পাদক খন্দকার মোস্তফা সরওয়ার অনু, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাফফর হোসেন,এটিএন নিউজের রংপুর প্রতিনিধি মাহবুবুল ইসলাম, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে সহ-সভাপতি চঞ্চল মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মানিক, সিটি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির মানিক,বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মমিনুল ইসলাম রিপন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক বায়ান্নর আলোর সম্পাদক তাজিদুল ইসলাম লাল, মোহনা টিভির ব্যুরো প্রধান শফিউল করিম শফিক, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা আনছারি, সাঈদ আজিজ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ বাদশাহ ওসমানী, ক্রীড়া সম্পাদক আঞ্জুমনোয়ারা রেখা, সদস্য কামরুল ইসলাম চুন্নু, চ্যানেল২৪ রংপুর ব্যুরো প্রধান ফখরুল শাহীন, মাহিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবলু নাগ, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে দপ্তর সম্পাদক হারুন উর রশিদ সোহেল, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মেজাবাহুল হিমেল, ডেইলি অবজারভারের জেলা প্রতিনিধি লাবনী ইয়াসমিন লুনি, কালবেলার জেলা প্রতিনিধি রেজওয়ান রনি, যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক উদয় চন্দ্র বর্মন, ইত্তেফাকের ফটো সাংবাদিক রাশেদ রাব্বী, আমাদের প্রতিদিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইফতেশাম সায়নাভ, নাগরিক টিভির রংপুর প্রতিনিধি ফাহাদ হোসেন, বাংলা টিভির রংপুর প্রতিনিধি রাফাত হোসেন বাঁধন, রুপালী বাংলাদেশের রংপুর প্রতিনিধি সাহানুর রহমান, এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি মামুন, দৈনিক খবর পত্রের রংপুর প্রতিনিধি নুর ইসলাম চান, সকালের বাণীর স্টাফ রিপোর্টার সেলিম সরকার, বাংলাদেশ বার্তার জেলা প্রতিনিধি আবু রায়হান প্রমুখ।

এসময় রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব, সিটি প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট-ইলেটনিক ও অনলাইন মিডিয়া কর্মরত সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এর আগে শুক্রবার সকালে তাঁকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন ও রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। পরে তিনি পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করল সিলেট–চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন

শহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৪:১০ পিএম
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করল সিলেট–চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন

“মানুষ মানুষের জন্য”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানবিক সংগঠন সিলেট–চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায়, এতিম, হতদরিদ্র ও প্রতিবন্ধী পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকার সেন্ট্রাল মোহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম-এর দিকনির্দেশনায় ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফারহানা আফরোজ এবং সাংগঠনিক সচিব স. ম. জিয়াউর রহমান অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চান্দগাঁও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি শিউলী চক্রবর্তী, সেন্ট্রাল মোহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে সিলেট–চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম সুনামের সঙ্গে পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, ভবিষ্যতেও তারা গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।

প্রতিটি খাদ্য প্যাকেটে সেমাই, নুডলস, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ, চিনি, মুড়ি ও আলু দেওয়া হয়।

নায়েব থেকে কোটিপতি! ময়মনসিংহে জীবন কুমার বিশ্বাসের সম্পদের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন!

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম
নায়েব থেকে কোটিপতি! ময়মনসিংহে জীবন কুমার বিশ্বাসের সম্পদের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন!

ময়মনসিংহ পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) জীবন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনিয়ম-দুর্নীতি করে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ভালুকা উপজেলায় চাকরি করার সময় ঘুষ, অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও তার সম্পদের উৎস নিয়ে এখনো কোনো তদন্ত হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে একজন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বেতনে কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবন কুমার বিশ্বাসের পারিবারিক অবস্থা একসময় খুব একটা স্বচ্ছল ছিল না। কিন্তু ভূমি অফিসে চাকরিতে যোগদানের পরই ধীরে ধীরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরীর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন কিসমত মৌজায় প্রায় ৬ একর জমি, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার নামে-বেনামে ব্যাংকে মোটা অঙ্কের অর্থ জমা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, ময়মনসিংহ নগরীর জিলা স্কুলের পাশে নজরুল সেনা স্কুল সংলগ্ন একটি বাড়ি, নতুন বাজার সাহেব আলী রোড-বাউন্ডারি রোড এলাকায় ভবন, ধোপাখোলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় ‘ড্রিম টাওয়ার’ নামে একটি ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া কিসমত মৌজায় প্রায় ৬ একর জমির ওপর স্থাপনা নির্মাণ করে সেগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জীবন কুমার বিশ্বাস ১৯৯৬ সালে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলখ্যাত ভালুকা উপজেলার সদরসহ হবিরবাড়ী ও মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ভূমি অফিসকে ঘুষ ও অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি, খাজনা পরিশোধ, ডিসিআর বা বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত কাজে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। নামজারির জন্য অনলাইনে আবেদন করলেও প্রতিবেদন পেতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হতো। টাকা না দিলে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও জানা গেছে, নামজারি মঞ্জুর হওয়ার পর ডিসিআর পেতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হতো। হোল্ডিং নম্বর বা অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত কাজে গেলেও একই ধরনের অভিযোগের মুখে পড়তে হতো সেবাগ্রহীতাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা পেলেই অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করতেন তিনি।

ভালুকা উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, হবিরবাড়ী ইউনিয়নে বিভিন্ন শিল্পকারখানার জমি সংক্রান্ত কাগজপত্রে গড়মিল দেখিয়ে কম দামে জমি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ নিতেন তিনি। এভাবে অনেক জমির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও সরকারি পুকুর ও খাসজমি লিজ দেওয়া, জমির খাজনা খারিজসহ বিভিন্ন কাজে বাধ্যতামূলক ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি সরকারি জমি দখল ও পজিশন বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, “একসময় যাদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো, তারা এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। একজন নায়েবের বেতনে এত সম্পদ অর্জন সম্ভব কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।”

এ বিষয়ে জীবন কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অনেকেই মনে করছেন, দুদকের তদন্ত হলে সম্পদের প্রকৃত উৎস বেরিয়ে আসতে পারে।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিয়োগ বাণিজ্য ও জমি দখল- সম্পদের পাহাড় গড়েছেন যুবলীগ সভাপতি সেলিম!

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিয়োগ বাণিজ্য ও জমি দখল- সম্পদের পাহাড় গড়েছেন যুবলীগ সভাপতি সেলিম!

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্য, কৃষিজমি দখলের চেষ্টা, সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভাবখালী দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হন সেলিম। ওই সময় মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী, ঝাড়ুদারসহ একাধিক পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই মাদ্রাসায় জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত প্রায় ৭ লাখ টাকা এবং নারায়নপুর তোরার মোড় জামে মসজিদের ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ভাবখালী মৌজায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ভাসমান কিছু জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন ফসলি জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপনে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে ভাবখালী গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাশে কৃষিজমিতে পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নামে জমি কেনার উদ্যোগ নেন সেলিম। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই জমিগুলোতে গম, ভুট্টা, মরিচ, বাদাম, ধান ও পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ফসল চাষ হয়। প্রতিবছর এসব জমি থেকে কয়েক হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৯ সাল থেকে এলাকায় পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও সাবেক যুবলীগ নেতা ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর নেতৃত্বে কিছু দালালের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে জমি কেনার চেষ্টা শুরু হয়। তবে অধিকাংশ কৃষক জমি বিক্রি করতে অনিচ্ছুক থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়াই কিছু জমিতে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড বসানো হলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা তা ভেঙে ফেলেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বারের ছেলে মকবুল হোসেন বলেন, “গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা এই কৃষিজমি। কিন্তু প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা করে সেলিম কৃষকদের মতামত ছাড়াই শিল্পকারখানা নির্মাণের পায়তারা করছেন। ইতোমধ্যে অনেকের জমি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জমি ছেড়ে দিতে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকিও দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “জমি রক্ষা ও জনজীবন নিরাপদ রাখতে আমরা বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ময়মনসিংহ ও আশপাশের এলাকায় জমি কেনাবেচা, দালালি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যেও তিনি জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ময়মনসিংহ ও নিজ এলাকায় হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালী ময়নার মোড় এলাকায় জমিসহ একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২ নম্বর ভাবখালী ইউনিয়নের ভাবখালী গ্রামের মাথালিয়া বাড়ি এলাকায়। স্কুলজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ভাবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী মীরের হাত ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। পরে ছাত্রলীগ থেকে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ভাবখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক যোগাযোগের সূত্র ধরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। পরবর্তীতে বিশেষ সুপারিশে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে কাগজে-কলমে দায়িত্বে থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিস করতেন না এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় থেকেই জমি কেনাবেচা, দালালি, ঘুষ ও মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেলিম। বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার জন্য জমি কেনার ব্যবস্থা করে দিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকরা আপত্তি জানালে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করে তা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষর জাল করা বা নকল সিলমোহর ব্যবহার করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়।

তবে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আইনের আওতায় এলেও সেলিম এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলছেন, সেলিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।