ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার ইউনিয়নে সুদের টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে এক ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও একটি ল্যাপটপ লুট করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে তার স্ত্রী ও সন্তানদের অপহরণের হুমকির অভিযোগও উঠেছে।
গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার অষ্টধার ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নাহিদ হাসান অষ্টধার ইউনিয়নের সেনেরচর গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি ২০১৪ সাল থেকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নাহিদ হাসানকে স্থানীয় কয়েকজন দাদন ব্যবসায়ী জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা চড়া সুদের টাকা পরিশোধ না করলে তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। পরে সেখান থেকে মুক্ত হয়ে আত্মরক্ষার্থে তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।
নাহিদ হাসানের দাবি, এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি কার্ডধারীদের সঞ্চয়ের টাকা ও পরিষদের মধুমতী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ তুলে স্থানীয়দের ক্ষেপিয়ে তোলা হয়। পরে উত্তেজিত জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তার নতুন বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর যেন তিনি মামলা করতে না পারেন সে উদ্দেশ্যে গত ৬ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সংবাদে অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বারেক আরজু মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাহিদ হাসানের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নেওয়ার পর মূল টাকা ও সুদের একটি অংশ পরিশোধ করলেও তারা অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন ব্যক্তি মিলে তার কাছে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি করছেন। এসব টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তারা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ইউনিয়ন পরিষদের কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, সিসি ক্যামেরা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি লুট করে নেওয়া হয়।
বর্তমানে তিনি পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন। দাদন ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতির কারণে তিনি মামলা করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদের নারী উদ্যোক্তা ও নাহিদ হাসানের স্ত্রী ইসরাত জাহান স্বর্ণা আক্তারকে নিয়েও বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাকে স্বামীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং তালাক দিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তালাক না দিলে তাকে অপহরণ এবং তাদের দুই নাবালক সন্তানকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।