বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে স্কুলের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ; সীমা নির্ধারণের দাবি করেছে স্থানীয়রা

রাকিবুল হাসান আহাদ, গফরগাঁও।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
ময়মনসিংহে স্কুলের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ; সীমা নির্ধারণের দাবি করেছে স্থানীয়রা

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি অবৈধ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকার স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪২ নং ছোট বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দানকৃত জমির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় দাতা পরিবার—মরহুম আব্দুল আওয়াল খান (চেয়ারম্যান), মরহুম জহুর আলী খান ও মরহুম আবদুল জব্বার শেখ—বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেন। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত জমির সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ ও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমির প্রকৃত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, একই খতিয়ান নং ১৭৭ ও বিআরএস দাগ নং ১৫৯-এ বিদ্যালয়ের ৫৪ শতাংশ জমি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও মোঃ শহীদ খান নামের এক ব্যক্তি ওই জমির ২১ শতক অংশ ক্রয় সূত্রে নিজের মালিকানা দাবি করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা: আফতাবুন নাহার রোজি জানান, ৫৪ শতাংশ জমি স্কুলের সীমানা নির্ধারণ না থাকায় বিদ্যালয়ের জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু স্কুল থেকে ৫ফুট দূরে ভবন নির্মাণ করছে বলেই মৌখিক ভাবে শহীদ খানকে স্থাপনা করার অনুমতি দিয়েছি।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও দাতা পরিবারের পক্ষ থেকে হাফেজ জহিরুল আমিন কয়েক মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন করেন। আবেদনটির অনুলিপি সহকারী কমিশনার (ভূমি) গফরগাঁও, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং নিগুয়ারী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কর্মকর্তার কাছেও প্রদান করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে বিদ্যালয়ের জমি পুরোপুরি বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে জমির ৫৪:শতাংশ জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত মোঃ শহীদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।