সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ ১৪৩২
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ ১৪৩২

ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয় পুলিশ কর্মকর্তা, ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয় পুলিশ কর্মকর্তা, ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ৩ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে তার কঠোর অবস্থানের কারণে ক্ষুব্ধ একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসআই সোহেল রানা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “কিছু অসাধু ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগেও এমন অপপ্রচারের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তারা সফল হয়নি। আইন সবার জন্য সমান এবং সত্য একসময় প্রকাশ পায়।”

স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর দাবি, অপপ্রচারের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের মতে, এসআই সোহেল রানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর ভূমিকা পালন করছেন। তার নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হওয়ায় মাদককারবারীদের আর্থিক স্বার্থে বড় ধরনের আঘাত লেগেছে। ফলে সরাসরি মোকাবিলা করতে না পেরে ওই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “অপরাধ দমনে কঠোর ভূমিকা রাখায় কিছু অসাধু মহল তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মনোবল দুর্বল করতেই সাধারণত এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়।”

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপপ্রচার একজনের ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ময়মনসিংহে অশোভন আচরণে শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠান বর্জন করলেন সাংবাদিকরা

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৭ পিএম
ময়মনসিংহে অশোভন আচরণে শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠান বর্জন করলেন সাংবাদিকরা

ময়মনসিংহের দুই শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা থেকে সাংবাদিকদের চলে যেতে বলা ও অশোভন আচরণের কারণে অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ইলেক্ট্রনিক প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকরা। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহের টাউনহলের তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।

উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, মতবিনিময় সভায় আমরা ক্যামেরা ও সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রবেশ করেন এবং বলেন ‘সাংবাদিকদের থাকার দরকার নেই, আপনারা চলে যান।

শিক্ষামন্ত্রী এ-ও বলেন, সার্কিট হাউজের ডাকবাংলোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলব। তার এ কথা বলার পরই উপস্থিত বেশ কয়েকজন শিক্ষক সাংবাদিকদের জোর করে অশোভন আচরণ করে ধাক্কা দিয়ে অডিটোরিয়াম থেকে বের করে দেন। কেউ কেউ ‘ঘুষি’ মারতেও উদ্যত হন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।

এ ঘটনার পরই শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানটি বর্জন করে সকল সাংবাদিকরা বাহিরে অবস্থান নিয়েছেন।

জানা গেছে, আজ সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ড এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি ঘিরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সাংবাদিকরা।

ময়মনসিংহে স্কুলের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ; সীমা নির্ধারণের দাবি করেছে স্থানীয়রা

রাকিবুল হাসান আহাদ, গফরগাঁও।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
ময়মনসিংহে স্কুলের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ; সীমা নির্ধারণের দাবি করেছে স্থানীয়রা

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি অবৈধ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকার স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪২ নং ছোট বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দানকৃত জমির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় দাতা পরিবার—মরহুম আব্দুল আওয়াল খান (চেয়ারম্যান), মরহুম জহুর আলী খান ও মরহুম আবদুল জব্বার শেখ—বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেন। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত জমির সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ ও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমির প্রকৃত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, একই খতিয়ান নং ১৭৭ ও বিআরএস দাগ নং ১৫৯-এ বিদ্যালয়ের ৫৪ শতাংশ জমি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও মোঃ শহীদ খান নামের এক ব্যক্তি ওই জমির ২১ শতক অংশ ক্রয় সূত্রে নিজের মালিকানা দাবি করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা: আফতাবুন নাহার রোজি জানান, ৫৪ শতাংশ জমি স্কুলের সীমানা নির্ধারণ না থাকায় বিদ্যালয়ের জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু স্কুল থেকে ৫ফুট দূরে ভবন নির্মাণ করছে বলেই মৌখিক ভাবে শহীদ খানকে স্থাপনা করার অনুমতি দিয়েছি।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও দাতা পরিবারের পক্ষ থেকে হাফেজ জহিরুল আমিন কয়েক মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত আবেদন করেন। আবেদনটির অনুলিপি সহকারী কমিশনার (ভূমি) গফরগাঁও, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং নিগুয়ারী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কর্মকর্তার কাছেও প্রদান করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে বিদ্যালয়ের জমি পুরোপুরি বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে জমির ৫৪:শতাংশ জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত মোঃ শহীদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরগঞ্জে বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৬ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ!

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে একাধিক বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলার ঝাটিয়া এলাকায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা আজিদা খাতুনের পৈতৃক ভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক ঝন্টুর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রথমবার আজিদা খাতুনের জমি দখলের চেষ্টা করা হলে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় তিনি তার জমি পুনরুদ্ধার করেন। তবে দীর্ঘদিন পর গত ২ এপ্রিল মধ্যরাতে পুনরায় ওই জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় আজিদা খাতুন ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে বলে এবং বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয়। পরে কাগজপত্র যাচাইয়ে আজিদা খাতুনের সকল দলিল সঠিক পাওয়া যায়। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় পুলিশ।

আজিদা খাতুন অভিযোগ করেন, তার দুই ভাতিজি নার্গিস ও পারভিনকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তার জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। জমি লিখে না দিলে জোর করে দখল নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আমার কোনো সহায়-সম্বল নেই, আমি এখন চরম আতঙ্কে আছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে কিছু বিএনপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় একই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার এএসআই লিটন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, আজিদা খাতুনের কাগজপত্র সঠিক এবং জমিটি তার দখলেই রয়েছে। প্রতিপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

তবে বিপুলসংখ্যক লোকজন থানায় জড়ো হওয়ায় পুলিশ বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দিয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, “অন্যায়ভাবে কেউ জমি দখলের চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শামসুল হক ঝন্টুর বিরুদ্ধে জমি দখল, সালিশ বাণিজ্য এবং নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি আগে আওয়ামী লীগের সাবেক এক এমপির অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করলেও বর্তমানে বিভিন্ন প্রভাববলয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শামসুল হক ঝন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আজিদা খাতুনের কাছ থেকে আমার এক আত্মীয় জমি কিনেছেন। এখন তিনি দলিল করে দিচ্ছেন না। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।