বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

ঈশ্বরগঞ্জে বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৬ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ!

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে একাধিক বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলার ঝাটিয়া এলাকায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা আজিদা খাতুনের পৈতৃক ভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক ঝন্টুর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রথমবার আজিদা খাতুনের জমি দখলের চেষ্টা করা হলে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় তিনি তার জমি পুনরুদ্ধার করেন। তবে দীর্ঘদিন পর গত ২ এপ্রিল মধ্যরাতে পুনরায় ওই জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় আজিদা খাতুন ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে বলে এবং বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয়। পরে কাগজপত্র যাচাইয়ে আজিদা খাতুনের সকল দলিল সঠিক পাওয়া যায়। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় পুলিশ।

আজিদা খাতুন অভিযোগ করেন, তার দুই ভাতিজি নার্গিস ও পারভিনকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তার জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। জমি লিখে না দিলে জোর করে দখল নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আমার কোনো সহায়-সম্বল নেই, আমি এখন চরম আতঙ্কে আছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে কিছু বিএনপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় একই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার এএসআই লিটন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, আজিদা খাতুনের কাগজপত্র সঠিক এবং জমিটি তার দখলেই রয়েছে। প্রতিপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

তবে বিপুলসংখ্যক লোকজন থানায় জড়ো হওয়ায় পুলিশ বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দিয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, “অন্যায়ভাবে কেউ জমি দখলের চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শামসুল হক ঝন্টুর বিরুদ্ধে জমি দখল, সালিশ বাণিজ্য এবং নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি আগে আওয়ামী লীগের সাবেক এক এমপির অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করলেও বর্তমানে বিভিন্ন প্রভাববলয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শামসুল হক ঝন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আজিদা খাতুনের কাছ থেকে আমার এক আত্মীয় জমি কিনেছেন। এখন তিনি দলিল করে দিচ্ছেন না। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।