বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

পরিকল্পনার আড়ালে অনিয়মের নগরী: ময়মনসিংহে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্ক, অভিযুক্ত নগর পরিকল্পনাবিদ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২০ পিএম
পরিকল্পনার আড়ালে অনিয়মের নগরী: ময়মনসিংহে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্ক, অভিযুক্ত নগর পরিকল্পনাবিদ

ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ শহর আজ যেন অপরিকল্পিত নগরায়নের চাপে বিপর্যস্ত। এক সময়ের প্রশস্ত ও স্বস্তির এই নগরী এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে।

নগরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাসের ভূমিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৭ বছর ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর ফলে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন, যা নগরীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভবন নির্মাণে ন্যূনতম খালি জায়গা রাখার নিয়ম অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয়নি। ফলে রাস্তাগুলো হয়ে গেছে অত্যন্ত সরু। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক বাসিন্দা এসব এলাকাকে সরাসরি মৃত্যুফাঁদ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে একাধিকবার সিটি করপোরেশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েও তারা কোনো প্রতিকার পাননি।

বরং অভিযোগকারীদের তথ্য অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এদিকে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ মামলা চলমান রয়েছে। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, এসব আইনি প্রক্রিয়াও তার কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো প্রভাব ফেলেনি।

একজন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বলেন, “নগর পরিকল্পনার নামে এখানে যা হয়েছে, তা আসলে অনিয়মের বিস্তার। সামান্য ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, আমরা নিয়মিত কর দিচ্ছি, কিন্তু নিরাপদ শহর পাচ্ছি না। চারদিকে শুধু ইট আর কংক্রিট যেনো শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেখা গেছে, এমন অনেক বহুতল ভবন রয়েছে যেখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে উদ্ধার কাজ চালানো প্রায় অসম্ভব।

এমনকি কোনো দুর্ঘটনায় হতাহতদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্ল্লিষ্টরা।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একজন কর্মকর্তার অনিয়মের কারণে পুরো শহরের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে না। তারা দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই, এত অভিযোগ থাকার পরও কেন নেওয়া হচ্ছে না কার্যকর ব্যবস্থা?

নগরবাসীর মতে, পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।