রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

পরিকল্পনার আড়ালে অনিয়মের নগরী: ময়মনসিংহে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্ক, অভিযুক্ত নগর পরিকল্পনাবিদ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২০ পিএম
পরিকল্পনার আড়ালে অনিয়মের নগরী: ময়মনসিংহে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আতঙ্ক, অভিযুক্ত নগর পরিকল্পনাবিদ

ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ শহর আজ যেন অপরিকল্পিত নগরায়নের চাপে বিপর্যস্ত। এক সময়ের প্রশস্ত ও স্বস্তির এই নগরী এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে।

নগরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাসের ভূমিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৭ বছর ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর ফলে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন, যা নগরীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভবন নির্মাণে ন্যূনতম খালি জায়গা রাখার নিয়ম অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয়নি। ফলে রাস্তাগুলো হয়ে গেছে অত্যন্ত সরু। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক বাসিন্দা এসব এলাকাকে সরাসরি মৃত্যুফাঁদ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে একাধিকবার সিটি করপোরেশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েও তারা কোনো প্রতিকার পাননি।

বরং অভিযোগকারীদের তথ্য অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এদিকে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ মামলা চলমান রয়েছে। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, এসব আইনি প্রক্রিয়াও তার কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো প্রভাব ফেলেনি।

একজন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বলেন, “নগর পরিকল্পনার নামে এখানে যা হয়েছে, তা আসলে অনিয়মের বিস্তার। সামান্য ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, আমরা নিয়মিত কর দিচ্ছি, কিন্তু নিরাপদ শহর পাচ্ছি না। চারদিকে শুধু ইট আর কংক্রিট যেনো শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেখা গেছে, এমন অনেক বহুতল ভবন রয়েছে যেখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে উদ্ধার কাজ চালানো প্রায় অসম্ভব।

এমনকি কোনো দুর্ঘটনায় হতাহতদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্ল্লিষ্টরা।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একজন কর্মকর্তার অনিয়মের কারণে পুরো শহরের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে না। তারা দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই, এত অভিযোগ থাকার পরও কেন নেওয়া হচ্ছে না কার্যকর ব্যবস্থা?

নগরবাসীর মতে, পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

পথনাটকে পরিচ্ছন্ন নগরের বার্তা, ময়মনসিংহে ‘আবর্জনা’ মঞ্চস্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০১ পিএম
পথনাটকে পরিচ্ছন্ন নগরের বার্তা, ময়মনসিংহে ‘আবর্জনা’ মঞ্চস্থ

পরিবেশ সংরক্ষণ, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের উদ্যোগে এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় পরিবেশ সচেতনতামূলক পথনাটক ‘আবর্জনা’ মঞ্চস্থ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকনোজ্জামান রোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সমনা আল মজীদ (উপসচিব), মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান, জেলা কালচারাল অফিসার আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন, সিরাক বাংলাদেশের প্রতিনিধি কামরান মিয়া, ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পথনাটকে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিক দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রতিপাদ্য ছিল, “শহর যদি হয় পরিষ্কার, সুস্থ থাকবে পরিবার।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রশাসক মো. রুকনোজ্জামান রোকন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুবসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

পথনাটকটি রচনা করেন যুব কাউন্সিলর মো. সজিব হাসান (সানি)। নির্দেশনায় ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম রবিন। এতে অভিনয় করেন মো. রবিন মিয়া, মিনহাজুল ইসলামসহ ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের সদস্যরা।

গ্রাহকের সুবিধার কথা ভেবে আধুনিক সেবায় এগিয়ে মেছিডেঙ্গীর সোহাগ মিয়া

মাহমুদ হাসান আলিফ, গৌরিপুর।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
গ্রাহকের সুবিধার কথা ভেবে আধুনিক সেবায় এগিয়ে মেছিডেঙ্গীর সোহাগ মিয়া

গৌরীপুরের লঙ্কার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত সোহাগ মিয়ার দোকানটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নিত্যপণ্য সংগ্রহের অন্যতম আস্থার স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দোকানটিতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

দোকান মালিক সোহাগ মিয়া জানান, স্থানীয় গ্রাহকদের আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি পণ্যের গুণগত মানের বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করছেন। দোকানের সব পণ্যের প্যাকেজিং ও মেয়াদ নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করতে পারেন।

ডিজিটাল সেবার এই যুগে সোহাগ মিয়া তার দোকানে বিকাশ এজেন্টসহ আধুনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছেন। এতে স্থানীয় মানুষ খুব সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারছেন, যা এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময় ও কষ্ট দুটোই সাশ্রয় করছে।

এলাকাবাসী জানান, সোহাগ মিয়ার দোকানে সব সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে এবং দোকানের পরিবেশ বেশ গোছানো।

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক সুজিত দাস বলেন, বাজারের মাঝামাঝি সময়ে এমন একটি দোকান থাকা আমাদের জন্য খুবই সুবিধাজনক। সোহাগ মিয়ার এই ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা ও গ্রাহকসেবার মানসিকতা স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দিনেও তিনি তার এই সেবার মান ধরে রেখে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

ময়মনসিংহে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪০০ বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

সুমন ভট্টাচার্য, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম
ময়মনসিংহে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪০০ বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

ময়মনসিংহে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির উদ্যোগে বীমা দাবির চেক হস্তান্তর ও ব্যবসা উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের মাঝে মোট ৪০০টি বীমা দাবির চেক হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য বি এম ইউসুফ আলী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী, ঊর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (আল-আমিন বীমা প্রকল্প) মো. আবু তাহের, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (জনপ্রিয় বীমা প্রকল্প) মো. কামাল হোসেন মহসিন এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ইসলামী ডিপিএস প্রকল্প) মোহাম্মদ খলিলুর রহমান সিকদার।

এ সময় বক্তব্য দেন আল-বারাকাহ ইসলামী ডিপিএস প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক কে এম বিল্লাল হোসেন, পপুলার ডিপিএস প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক মো. সোলায়মান হোসেন সোহাগ এবং পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির বিভিন্ন প্রকল্পের ইনচার্জরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (সমন্বয়কারী, ময়মনসিংহ) সাকিল মাহমুদ।

বক্তারা বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ও সেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুততম সময়ে বীমা দাবি পরিশোধে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা সম্প্রসারণ, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং বীমা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা গ্রাহকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪০০টি বীমা দাবির চেক তুলে দেন।