বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

জাল দলিল করে ২ একর ১৯ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ এমপি বাচ্চুর বিরুদ্ধে!

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২২ পিএম
জাল দলিল করে ২ একর ১৯ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ এমপি বাচ্চুর বিরুদ্ধে!

জাল দলিল ও ভুয়া ওয়ারিশান সনদ তৈরির মাধ্যমে ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ একর ১৯ শতাংশ জমি জবরদখল এবং ওই জমি বন্ধক রেখে ব্যাংকঋণ নেওয়ার পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচার ও জমি উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলার ৬ নম্বর ভালুকা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাশিল গ্রামের মৃত ছফির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মান্নান, জাকির হোসেন, সাকির হোসেন ও আলম হোসেন এবং ছফির উদ্দিনের নাতি ওয়াহাব মিয়া।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ভালুকা উপজেলার বাশিল মৌজার এসএ ২০ নম্বর খতিয়ানের মালিক ছিলেন তাদের দাদা মৃত মদন শেখ। তাঁর মৃত্যুর পর ছফির উদ্দিনের নামে ৩৩৯ নম্বর বিএস/বিআরএস খতিয়ান লিপিবদ্ধ হয়। ওই খতিয়ানে আটটি দাগে মোট ২ একর ৯৬ শতাংশ জমি রয়েছে। ছফির উদ্দিন মৃত্যুকালে দুই স্ত্রী, ছয় ছেলে ও চার মেয়েসহ ১২ জন ওয়ারিশ রেখে যান।

ভুক্তভোগীদের দাবি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ওই জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। এমনকি ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ছফির উদ্দিনের নামে ৩৩৯ নম্বর খতিয়ানের ২ একর ১৯ শতাংশ জমির খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, গত ৮ আগস্ট হঠাৎ স্যুট-টাই পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমি পরিদর্শনে আসেন। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের প্রিমিয়ার ব্যাংকের বনানী শাখার কর্মকর্তা বলে জানান। ব্যাংক কর্মকর্তারা তাদের জানান, ওই জমি বন্ধক রেখে এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু শত কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেছেন এবং ঋণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জমি পরিদর্শনে এসেছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিষয়টি জানতে পেরে জমির প্রকৃত ওয়ারিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাংক কর্মকর্তাদের জমি পরিদর্শনে বাধা দেন। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে তারা সেখান থেকে চলে যান।

এরপর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে এবং বিভিন্ন দলিলপত্র সংগ্রহ করে তারা কথিত জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন।

তাদের অভিযোগ, ছফির উদ্দিনের ৩৩৯ নম্বর খতিয়ানের ভুয়া মালিকানা ও ওয়ারিশান সনদ তৈরি করে বাশিল মৌজার মদন শেখের এসএ খতিয়ান-২০ এবং ছফির উদ্দিনের নামে থাকা বিআরএস খতিয়ানের ২৩৬, ২৩৭, ২৩৯, ২৪১, ২৪৮ ও ২৫১ নম্বর দাগ উল্লেখ করে একটি দলিল তৈরি করা হয়েছে। তাদের দাবি, দলিলটির নম্বর ৭৩৫৫ এবং তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০২৪।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই দলিলের মাধ্যমে ২ একর ১৯ শতাংশ জমি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নামে নামজারি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভালুকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জমি দখলের চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের জমিসহ বন বিভাগ ও সাধারণ মানুষের জমিও দখলের অভিযোগ রয়েছে এমপি বাচ্চু ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবির বাইরে স্বাধীন কোনো নথি বা তদন্তের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, কথিত জাল দলিল তৈরিতে এমপি বাচ্চুর সহযোগী হিসেবে দলিলের শনাক্তকারী জিয়াদ হোসেন শাকিল ঢালী, দলিল লেখক সাইফুল আলম খান (সনদ নম্বর ৫২৩২) এবং সাক্ষী কায়সার ও হেলাল উদ্দিন জড়িত ছিলেন।

বাপ-দাদার সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগীরা অভিযোগের তদন্ত, কথিত জাল দলিল বাতিল এবং জমি উদ্ধারের দাবি জানান।

এমপি বাচ্চুর বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালে এই জমি ক্রয় করে আমি খাজনা-খারিজ করেছি। দীর্ঘ সময়ে তাদের দাবিকৃত ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে আইন-আদালতের আশ্রয় না নিয়ে আমার মানহানি করার জন্য প্রতিপক্ষের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তাদের অতিরঞ্জিত বক্তব্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

জমির মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং ব্যাংকঋণের আবেদনের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

‎নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০০ পিএম
‎নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মতবিনিময় সভা

নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ময়মনসিংহে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পলিসি ও স্ট্রাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আগ্রহী। নজরুল বর্ষকে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখতে হবে। দেশের বিভিন্ন শিল্পকলা একাডেমিতেও নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা প্রয়োজন।

‎তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড চান। দেশের স্কুলগুলোতে নজরুল সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে। নজরুলের মতো উদার ও মধ্যপন্থী মানুষ খুব বেশি নেই। নজরুলের চিন্তা, দর্শন ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা প্রয়োজন।

‎ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক খাতকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় শিশু-কিশোরদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি দেশের সব নাগরিককে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

‎সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবির সরকার। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চল সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিভাগীয় পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় ময়মনসিংহ অঞ্চল যেন প্রত্যাশিত ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

‎অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এবং ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

‎এ ছাড়া ময়মনসিংহের বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

‎পরে উপদেষ্টা ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবির সরকারের সভাপতিত্বে বিভাগের চার জেলা প্রশাসক, জেলা তথ্য কর্মকর্তাসহ আঞ্চলিক তথ্য অফিস, ময়মনসিংহের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল উপস্থিত ছিলেন।

বকশীগঞ্জে সংখ্যালঘু দম্পতির স্বর্ণের দোকান দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
বকশীগঞ্জে সংখ্যালঘু দম্পতির স্বর্ণের দোকান দখলের অভিযোগ

জামালপুরের বকশীগঞ্জ বাজারে এক সংখ্যালঘু দম্পতির মালিকানাধীন স্বর্ণের দোকান জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শেখ ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। দোকানের মালিকের অনুপস্থিতিতে কর্মচারীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বের করে দিয়ে দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বকশীগঞ্জ বাজারে উৎপল মহন্ত ও তার স্ত্রী সুমি মহন্ত ২০১২ সালে সাফ-কাওলা দলিলের মাধ্যমে ২৬ পয়েন্ট জমি ক্রয় করে সেখানে ‘নিউ মাতৃ জুয়েলার্স’ নামে স্বর্ণের ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানটিই ছিল তাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

দোকান মালিকের অভিযোগ, ২০১৩ সালে শেখ ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগীরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় দোকান ও জমি দখলের একাধিক চেষ্টা করা হয়। পরে তৎকালীন বকশীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ তালুকদার, তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে দেনদরবার হয় এবং লিখিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে দাবি তাদের।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে শেখ ফরিদ মিয়া ফের পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় গত ১০ আগস্ট দোকান মালিক উৎপল মহন্তের অনুপস্থিতিতে শেখ ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগীরা দোকানে গিয়ে কর্মচারীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বের করে দেন। পরে দোকানটিতে জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এখানেই শেষ নয়। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, গত ১৪ আগস্ট ভোরে দোকানের ‘নিউ মাতৃ জুয়েলার্স’ লেখা সাইনবোর্ড রং দিয়ে ঢেকে সেখানে ‘এই দোকান ভাড়া দেওয়া হইবে’ লিখে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকান ভাড়া দেওয়ার জন্য একটি মোবাইল নম্বরও লিখে দেওয়া হয়।

দোকান মালিকের দাবি, দোকানঘরসহ সংশ্লিষ্ট ভূমি বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংক, বকশীগঞ্জ শাখায় বন্ধক রাখা রয়েছে। ফলে ব্যাংকে বন্ধকীকৃত সম্পত্তিতে এভাবে তালা ঝুলিয়ে দখল ও ভাড়া দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এ ঘটনায় গত ১৪ আগস্ট জমির যৌথ মালিক ও উৎপল মহন্তের স্ত্রী সুমি মহন্ত বকশীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগটি এখনো মামলা বা এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সুমি মহন্তের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবারের আয়ের প্রধান উৎসও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে একদিকে সম্পত্তি ও ব্যবসা হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা দুই ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শেখ ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেনের বক্তব্যও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

‎ময়মনসিংহ বিআরটিএতে বেপরোয়া পরিদর্শক বাবর, ঘুষ বাণিজ্য সিন্ডিকেটের গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৫ এম
‎ময়মনসিংহ বিআরটিএতে বেপরোয়া পরিদর্শক বাবর, ঘুষ বাণিজ্য সিন্ডিকেটের গুরুতর অভিযোগ

‎ময়মনসিংহের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়টি এখন সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের কাছে যেন এক আতঙ্কের নাম। অভিযোগ উঠেছে, এই কার্যালয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী ঘুষ বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছেন মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনকে অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সনদ প্রদান, সাধারণ গ্রাহকদের অকারণ হয়রানি এবং দালালনির্ভর সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি সেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

‎অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিজস্ব ১০-১৫ সদস্যের একটি চিহ্নিত দালাল চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এই সিন্ডিকেট। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের বাইরে থেকে কোনো সেবা পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি সেবাকেন্দ্রটি যেন সাধারণ মানুষের পরিবর্তে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

‎অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোনো যানবাহন মালিক বা সাধারণ সেবা প্রার্থী নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি আবেদন করলে শুরু হয় নানামুখী হয়রানি। কখনও ছোটখাটো ত্রুটি, আবার কখনও কাল্পনিক অজুহাত দেখিয়ে আবেদনপত্র ফেরত দেওয়া হয়। অথচ অভিযোগ রয়েছে, একই ব্যক্তি যখন জহির উদ্দিন বাবরের ঘনিষ্ঠ দালালদের মাধ্যমে নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেন, তখন কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই অতি দ্রুত ফিটনেস সনদসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।

‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দালাল ছাড়া বিআরটিএতে কোনো ফাইলই নড়ে না।

‎সরকারি নথিতে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ

‎অনুসন্ধানে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জহির উদ্দিন বাবরের কার্যালয়ের ভেতরে সরকারি নথিপত্র ও সংবেদনশীল ফাইলপত্র নিয়মিতভাবে ঘাঁটাঘাঁটি করছে বহিরাগত দালাল চক্রের সদস্যরা। যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত, সেখানে পরিদর্শকের টেবিল, ড্রয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পর্যন্ত ব্যবহার করছে বহিরাগতরা।

‎সরকারি দপ্তরের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়টি এখানে চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।‎

‎যোগদানের পর থেকেই কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

‎স্থানীয় সূত্রের দাবি, ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে জহির উদ্দিন বাবরের বিরুদ্ধে। পরিবহন মালিক ও সেবা প্রার্থীদের একটি বড় অংশ দাবি করছেন, ঘুষ ছাড়া এখানে সেবা পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব।

‎অভিযোগের পরও নেই তদন্ত, নেই দৃশ্যমান ব্যবস্থা

‎স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এর আগেও জহির উদ্দিন বাবরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষ বাণিজ্যের নানা তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি অভিযোগগুলো যাচাইয়ে কার্যকর তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগও দেখা যায়নি।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তাঁর সিন্ডিকেট ধরে নিয়েছে, সংবাদ প্রকাশ হলেও তাদের কিছুই হবে না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।

‎এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যম এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মোটরযান পরিদর্শক জহির উদ্দিন বাবর তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

‎তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করছি। দালাল চক্রের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সরকারি ফাইল বহিরাগতদের স্পর্শ করার সুযোগও নেই।

‎উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি

‎বিআরটিএর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ দেশের সড়ক নিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

‎ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও পরিবহন মালিকদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।