প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ । ৯:২২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

জাল দলিল করে ২ একর ১৯ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ এমপি বাচ্চুর বিরুদ্ধে!

শিবলী সাদিক খান।।

জাল দলিল ও ভুয়া ওয়ারিশান সনদ তৈরির মাধ্যমে ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ একর ১৯ শতাংশ জমি জবরদখল এবং ওই জমি বন্ধক রেখে ব্যাংকঋণ নেওয়ার পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচার ও জমি উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলার ৬ নম্বর ভালুকা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাশিল গ্রামের মৃত ছফির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মান্নান, জাকির হোসেন, সাকির হোসেন ও আলম হোসেন এবং ছফির উদ্দিনের নাতি ওয়াহাব মিয়া।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ভালুকা উপজেলার বাশিল মৌজার এসএ ২০ নম্বর খতিয়ানের মালিক ছিলেন তাদের দাদা মৃত মদন শেখ। তাঁর মৃত্যুর পর ছফির উদ্দিনের নামে ৩৩৯ নম্বর বিএস/বিআরএস খতিয়ান লিপিবদ্ধ হয়। ওই খতিয়ানে আটটি দাগে মোট ২ একর ৯৬ শতাংশ জমি রয়েছে। ছফির উদ্দিন মৃত্যুকালে দুই স্ত্রী, ছয় ছেলে ও চার মেয়েসহ ১২ জন ওয়ারিশ রেখে যান।

ভুক্তভোগীদের দাবি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ওই জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। এমনকি ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ছফির উদ্দিনের নামে ৩৩৯ নম্বর খতিয়ানের ২ একর ১৯ শতাংশ জমির খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, গত ৮ আগস্ট হঠাৎ স্যুট-টাই পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমি পরিদর্শনে আসেন। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের প্রিমিয়ার ব্যাংকের বনানী শাখার কর্মকর্তা বলে জানান। ব্যাংক কর্মকর্তারা তাদের জানান, ওই জমি বন্ধক রেখে এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু শত কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেছেন এবং ঋণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জমি পরিদর্শনে এসেছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিষয়টি জানতে পেরে জমির প্রকৃত ওয়ারিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাংক কর্মকর্তাদের জমি পরিদর্শনে বাধা দেন। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে তারা সেখান থেকে চলে যান।

এরপর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে এবং বিভিন্ন দলিলপত্র সংগ্রহ করে তারা কথিত জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন।

তাদের অভিযোগ, ছফির উদ্দিনের ৩৩৯ নম্বর খতিয়ানের ভুয়া মালিকানা ও ওয়ারিশান সনদ তৈরি করে বাশিল মৌজার মদন শেখের এসএ খতিয়ান-২০ এবং ছফির উদ্দিনের নামে থাকা বিআরএস খতিয়ানের ২৩৬, ২৩৭, ২৩৯, ২৪১, ২৪৮ ও ২৫১ নম্বর দাগ উল্লেখ করে একটি দলিল তৈরি করা হয়েছে। তাদের দাবি, দলিলটির নম্বর ৭৩৫৫ এবং তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০২৪।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই দলিলের মাধ্যমে ২ একর ১৯ শতাংশ জমি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নামে নামজারি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভালুকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জমি দখলের চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের জমিসহ বন বিভাগ ও সাধারণ মানুষের জমিও দখলের অভিযোগ রয়েছে এমপি বাচ্চু ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবির বাইরে স্বাধীন কোনো নথি বা তদন্তের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, কথিত জাল দলিল তৈরিতে এমপি বাচ্চুর সহযোগী হিসেবে দলিলের শনাক্তকারী জিয়াদ হোসেন শাকিল ঢালী, দলিল লেখক সাইফুল আলম খান (সনদ নম্বর ৫২৩২) এবং সাক্ষী কায়সার ও হেলাল উদ্দিন জড়িত ছিলেন।

বাপ-দাদার সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগীরা অভিযোগের তদন্ত, কথিত জাল দলিল বাতিল এবং জমি উদ্ধারের দাবি জানান।

এমপি বাচ্চুর বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালে এই জমি ক্রয় করে আমি খাজনা-খারিজ করেছি। দীর্ঘ সময়ে তাদের দাবিকৃত ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে আইন-আদালতের আশ্রয় না নিয়ে আমার মানহানি করার জন্য প্রতিপক্ষের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তাদের অতিরঞ্জিত বক্তব্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

জমির মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং ব্যাংকঋণের আবেদনের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

চেয়ারম্যান: তানভীর হাসান তপু ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: আতিকুল ইসলাম। বার্তাকক্ষ: newsutvbd@gmail.com. কপিরাইট © ইউটিভি বাংলাদেশ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন