শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

কেরানীগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসায়ী আনিসের সহযোগী কালা মাগুর

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩৮ এম
কেরানীগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসায়ী আনিসের সহযোগী কালা মাগুর

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ীর পক্ষে দালালি করেছে কালা মাগুর খ্যাত শাহীন গাজী নামে এক সাংবাদিক। সে স্থানীয় কয়েক সাংবাদিককে ভুল বুঝিয়ে প্রভাবিত করে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ীর পক্ষ হয়ে অভিযোগ দায়ের করিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কালা মাগুর খ্যাত ওই সাংবাদিক দেশের স্বনামধন্য একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।

জানা গেছে , অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ীর নাম আমিনুল ইসলাম আনিস। সে দীর্ঘদিন ধরে কেরানীগঞ্জে গোডাউন নিয়ে অবৈধ পলিথিন মজুদ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকে।

এ নিয়ে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আনিসের বিপুল পরিমাণ অবৈধ পলিথিন জব্দ হয় এবং সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা ও আনিস কে জরিমানা করা হয়। অবৈধ পলিথিন জব্দ বিষয় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করে । এরপর দালাল ধরে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসায়ী আনিস। আর যাদের ম্যানেজ করতে না পারে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয় অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ী আনিস ও তার সহযোগী কিছু দালাল।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ী আনিসের কিছু মালামাল লুট হয়েছে। সে মর্মে তারা একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে ইস্পাহানি ইমরান ও ফয়সাল হাওলাদার নামে দুজন স্বনামধন্য সাংবাদিককে অভিযুক্ত করে পলিথিন ব্যবসায়ী আনিস বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে। এই অভিযোগ তার পিছনে ইন্ধনদাতা ছিল কালামাগুর শাহিন গাজী। এই শাহিন গাজী এর আগে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন বাড়ির ভবন মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সংবাদ সম্মেলন ও সংবাদ প্রকাশের কথা বলে টাকা হাতানোর অভিযোগ আছে। বিভিন্ন নামিদামী পত্রিকা ও টেলিভিশনে নিউজ প্রকাশ করার কথা বলে সংবাদ সম্মেলন নাম করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ী আনিসের হারানো মাল উদ্ধার করে দেয়ার জন্য শাহিন গাজী নিয়মিত মাসোহারা ও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে ভুল বুঝিয়ে আনিসের সঙ্গে থানায় নিয়ে আনিসকে দিয়ে প্রতিবাদী দুই সাংবাদিক ইস্পাহানি ইমরান ও ফয়সাল হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাংবাদিক ইস্পাহানি ইমরান ও ফয়সাল হাওলাদার এর সাথে যোগাযোগ করে হলে তারা জানান, পরিবেশ বিধ্বংসী অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম আনিসের বিপুল পরিমাণ অবৈধ পলিথিন জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তার জব্দকৃত পলিথিনের সংবাদ প্রকাশের জেরে আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয় আনিস। এরপর আমাদের ঘায়েল করতে শাহীন গাজীর পরামর্শে আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করায় , অভিযোগে আনিত বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এতে আমাদের সম্মানহানি হয়েছে। অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ী আনিস ও তার সাথে যারা যুক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত সহায়তা গ্রহণ করব। এছাড়া দেশের স্বার্থে , দেশের মানুষের স্বার্থে অবৈধ পলিথিন এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদী কলম চলতেই থাকবে। এতে যত প্রকার বাঁধাই আসুক আমরা হার মানবো না।

একটি সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ী আনিসের মালামাল লুট হয়েছে বলে থানা পুলিশে যে অভিযোগ করেছেন, তবে কি মালামাল লুট হয়েছে তার সঠিক কোন বর্ণনা উল্লেখ করা হয়নি , মুলত লুট হওয়া মালামাল অবৈধ পলিথিন ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। যদি সেটি অবৈধ পলিথিন হয়ে থাকে তাহলে থানা পুলিশে কিভাবে অভিযোগ গ্রহণ করল। নাকি কোন মালামাল লুট হয়নি সেনিয়ে সন্দেহ রয়েছে। নাকি দুই সাংবাদিক কে ঘায়েল করতে এই নাটক সাজিয়েছে সেটিও প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত। তাছাড়া ঘটনার দিন ওই দুই সাংবাদিক লুট হওয়া স্থানে ছিল কিনা সেটিও খুঁজে বের করা উচিত।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক শাহিন গাজী গত এক বছর ধরে কেরানীগঞ্জে সাংবাদিকতা করছেন, এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অন্যতম বহুল প্রচারিত দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় অনলাইনে দালালি প্রসঙ্গে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। যেখানে তার কুকর্মের আমলনামা তুলে ধরা হয়।

শাহিন গাজী পরবর্তীতে এক সরকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে অনুরোধ করায় নিউজটি সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখে দৈনিক আমার দেশ কর্তৃপক্ষ। যদিও নিউজটি বন্ধ করার আগেই অনেকে সেটি কপি করে রেখে দিয়েছে।

এরপরেও তার অবৈধ দৌড়ত্ব কমেনি। শাহিন গাজী স্থানীয় সাংবাদিকদের কথায় কথায় প্রত্যেকটি মিডিয়া হাউজে তার লোক রয়েছে বলে চাকরি দেয়া ও নেয়ার হুমকি ধামকি দেয়।

আমার দেশ পত্রিকার অনলাইন সংবাদের কপি এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। এছাড়া স্থানীয়দের শাহিন গাজীর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি জানতে শাহীন গাজীকে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে সে তার বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন।

দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় জানতে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাইফুল আলমের কাছে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা যথাযথ যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে রানার্সআপ মেডেল নিল ফুলবাড়িয়ার খুদে ফুটবলার মিতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১:১৯ এম
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে রানার্সআপ মেডেল নিল ফুলবাড়িয়ার খুদে ফুটবলার মিতুল

রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। এ প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মেডেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার গ্রহণ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারী খুদে ফুটবলার মিতুল হাসান।

মিতুল হাসান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ২ নম্বর পুটিজানা ইউনিয়নের মৌহাতলা এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হাসানের ১৩ বছর বয়সী ছেলে। বর্তমানে সে ত্রিশাল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তার অদম্য আগ্রহ। প্রতিবেশী রিফাত আহমেদ রিজভীর হাত ধরে শিবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবলের সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে নিজের দক্ষতা আরও বিকশিত করতে ফুলবাড়িয়ার কেশরগঞ্জ বাজারে অবস্থিত কেএনবিএস যুব স্পোর্টিং একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করে মিতুল।

পড়ালেখার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও নিষ্ঠার কারণে দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর দ্রুতই সে স্কুল দলের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়। তার অসাধারণ নৈপুণ্যের সুবাদে দলটি বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত চূড়ান্ত পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মেডেল গ্রহণ করতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত মিতুল। সে জানায়, এই স্বীকৃতি তার ভবিষ্যৎ ফুটবল ক্যারিয়ারের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মিতুলের এই সাফল্যে ফুলবাড়িয়া, ত্রিশালসহ সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, মিতুলের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম হবে।

বিএমইউজে ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার নির্বাচিত

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
বিএমইউজে ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার নির্বাচিত

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) ফেনী জেলা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকালে ফেনী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আনোয়ার হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন – সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান ও মো. গাজিউল হক; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল আলম নিলু ও মো. আতিকুর রহমান রোজেন; সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর হৃদয়; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিমাই চন্দ্র মজুমদার; কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান পলাশ; সহ-কোষাধ্যক্ষ মহি উদ্দিন মিয়াজী সেজু; দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম তোতা; সহ-দপ্তর সম্পাদক ফখরুল ইসলাম জুয়েল।

এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচার সম্পাদক হিসেবে আরাফাত হোসেন এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন নির্বাচিত হন।

নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, মোহাম্মদ শেখ কামাল, মো. ওবায়দুল হক, জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, আফতাব হোসেন মমিন ভূঁইয়া ও আলাউদ্দিন সবুজ।

সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আমির হোসেন তানভীর, জিয়া উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, জাফর ইমাম রতন এবং জহিরুল ইসলাম খান।

নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। একই দিনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হয়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ময়মনসিংহ জেলা সার্কেলের যৌথ আয়োজনে এ চেক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আজকের এই আয়োজন মানবিক হলেও এটি আনন্দের নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলেও তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে এর হার উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও জনগণের সচেতনতার বিকল্প নেই। রাস্তা পারাপারে সতর্কতা অবলম্বন, ফুটপাত ও মহাসড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং সড়ক আইন মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সড়ক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। যানবাহন চালকদের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে হবে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে গাড়ি চালানো কিংবা রাস্তা পার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধি, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী সরকারের ঘোষিত “পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি”-এর অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ জেলা লেডিস ক্লাব প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।