বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ময়মনসিংহ জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম
ময়মনসিংহ জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন

প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এ ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিইও) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন। এ গৌরবময় অর্জন তার সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত করেছে।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা পদক বাছাই কমিটির সভা শেষে কমিটির সভাপতি ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান এবং সদস্য সচিব ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু ইউসুফ খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

মনিকা পারভীন ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি জেলার গৌরীপুর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তার কর্মদক্ষতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।

জানা গেছে, কর্মস্থলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা বাছাই কমিটি তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করেছে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, সততা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের এই স্বীকৃতি অর্জনের পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সহকর্মী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় সুধীজন।

স্থানীয় সচেতন মহলের বিশ্বাস, এ সম্মাননা প্রাপ্তির পর তার নেতৃত্বে সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, একজন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা হিসেবে মনিকা পারভীনের এই স্বীকৃতি শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি সমগ্র ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শিক্ষা পরিবারের জন্যও একটি বড় প্রাপ্তি। তার এই সাফল্য অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।

জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় অনুভূতি প্রকাশ করে মনিকা পারভীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি। সে প্রচেষ্টার স্বীকৃতি পেয়েছি, যা সত্যিই আনন্দের। তবে আজকের এই অর্জন আমি পুরো ময়মনসিংহ সদরবাসীর বলে মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, “সদর উপজেলার শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ভাষা চর্চা ক্লাস চালু করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক ক্লাব কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রাত্যহিক সমাবেশ ও খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে। আমার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।

ময়মনসিংহে পূর্ববিরোধের জেরে হামলায় যুবক নিহত, ৪ আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৬:১১ পিএম
ময়মনসিংহে পূর্ববিরোধের জেরে হামলায় যুবক নিহত, ৪ আসামি গ্রেফতার

ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানার চর ঈশ্বরদিয়া এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলায় রানা মিয়া (৩৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চর ঈশ্বরদিয়া এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় রানা মিয়া তার ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন:-

১. মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (২০), পিতা: মফিদুল ইসলাম মাস্টার।

২. তোফাজ্জল হোসেন (৪০), পিতা: মৃত আলী হোসেন।

৩. মো. হুমায়ুন কবীর আকাশ (২৩), পিতা: তোফাজ্জল হোসেন।

৪. মনিরুল ইসলাম (২৪), পিতা: চাঁন মিয়া।

তাদের সকলের বাড়ি চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকায়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আহত ৫

ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাহিন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকাল ৫টার দিকে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের গাঙ্গের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রানা মিয়া একই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন। স্বজনদের দাবি, তিনি বিএনপির কর্মী ছিলেন।

আহতরা হলেন:- আশাদ (৩৬), মোফাজ্জল (৩৫), শাহান (৪৫), মুনসুর আলী (৫০), শাকিল (৩০) ও দিনি মিয়া (৩৫)।

অভিযুক্ত মাহিন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও শম্ভুগঞ্জ সাংগঠনিক থানার আমীর মো. মফিদুল ইসলাম (মাস্টার)-এর ছেলে। অপর ছেলে ফাহিমের নামও এ ঘটনায় আলোচনায় এসেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

নিহত রানার স্বজন মাহাবুল বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে আমরা বিএনপির পক্ষে কাজ করেছি ও ধানের শীষে ভোট দিয়েছি। এরপর থেকে জামায়াত নেতা মফিদুল মাস্টারের সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলে আসছিল। গত সোমবার মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা ফুটবল খেলা শেষে আমাদের বাড়ির সামনে দোকানে তরল পানীয় কিনতে আসে। এসময় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে তরল পানীয় খাচ্ছে বলে আমাদের পক্ষের লোকজন হেয় করে কথা বলে। এতে তারা ভোটের জেদ মেটাতে মারধরের হুমকি দিয়ে চলে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর রাতে আবারও মফিদুল মাস্টারের বাড়ির ছেলেরা আমাদের বাড়িতে হামলা করে। পরে মফিদুল মাস্টার নিজে এসে বিষয়টি মিমাংসা করে চলে যান। কিন্তু মঙ্গলবার বিকালে তিনি অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে এসে হামলা চালান। হামলার সময় তার ছেলে মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকের পাশে আঘাত করে। এতে রানা গুরুতর আহত হন এবং আরও ৫ জন আহত হন।”

পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানা মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাই তোফাজ্জল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ভাইকে বিনা কারণে মফিদুল মাস্টারের ছেলে ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করেছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ময়মনসিংহে পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চর হাসাদিয়া খাঁপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে আব্দুল বাসেত (৩৫) নামে এক যুবককে লাঠিপেটা করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত আপন ছোট ভাই রাসেদুল ইসলাম (৩০)।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নানা বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। গত সোমবার সন্ধ্যায়ও কোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত বাসেতকে অভিযুক্ত রাসেদুল ইসলাম মারধর করেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় আবারও কোনো বিষয় নিয়ে বাসেত ও রাসেদুলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা একটি লাঠি দিয়ে বড় ভাই বাসেতের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন রাসেদুল। বাসেতের চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”