শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

ত্রিশালে কাগজে প্রকল্প; মাঠে নেই অস্তিত্ব! পিআইও শহিদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:২৬ পিএম
ত্রিশালে কাগজে প্রকল্প; মাঠে নেই অস্তিত্ব! পিআইও শহিদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১০নং মঠবাড়ী ইউনিয়নে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভয়াবহ অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে প্রকল্প মাঠে নেই অস্তিত্ব! এমন জোরালো আলোচনা সমালোচনার কারণেই

জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছে মটবাড়ী ইউনিয়নের ২৮ টি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন।

জানা যায়, ‎২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে বরাদ্দ পাওয়া মোট ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প নামের সংশ্লিষ্ট এলাকায় (মাঠপর্যায়ে) কোনো কাজ না করেই কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

‎এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষে মো. বাবুল মিয়া দুদক চেয়ারম্যান বরাবর বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, বাস্তব অবস্থা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার তথ্য সংযুক্ত রয়েছে।

‎কাগজে প্রকল্প, মাঠে নেই অস্তিত্ব! অভিযোগ অনুযায়ী, মঠবাড়ী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে রাস্তা সংস্কার, ড্রেন, কালভার্ট, মাটি ভরাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

‎স্থানীয়দের দাবি যেসব প্রকল্প কাগজে শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে, বাস্তবে সেসব স্থানে বছরের পর বছর কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। ডিজিটাল তথ্য বোর্ডে প্রকল্পের নাম থাকলেও মাঠে কাজের চিহ্ন না থাকায় প্রকল্প অনুমোদন ও বিল ছাড় প্রক্রিয়া নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠেছে।

ত্রিশাল উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ত্রিশাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ। স্থানীয়দের অভিযোগ মটবাড়ী ইউনিয়নে কোন কাজ না করেই সরকারি অর্থ তছরুপ করা হয়েছে, প্রকল্প যাচাই, কাজের সমাপ্তি সনদ প্রদান এবং বিল ছাড়ের প্রতিটি ধাপেই তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অন্যান্য ইউনিয়নে হয়তো কিছু কাজ করছে, নয়তো প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বরাদ্দের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে এলাকার জনগণকে উন্নয়ন বঞ্চিত করেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান‎,“মাঠপর্যায়ে কাজ না হলে কোনোভাবেই বিল পাস হওয়ার সুযোগ নেই। বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারের কোষাগারে ফেরত যাওয়ার বিধিবিধান রয়েছে। পিআইও প্রকল্পের যাচাই বাছাই কাজের মান নির্ণয় পুরো ব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রক।”

‎জানা যায়, নানা অভিযোগের ভিত্তিতে পিআইও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহকে সম্প্রতি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন এই বদলি কি শাস্তি, নাকি দায় এড়ানোর কৌশল?

ত্রিশাল উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে গত কয়েক বছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হয়েছে কিনা তা পূর্ণাঙ্গভাবে অডিট করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

অভিযুক্ত পিআইও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহকে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সব প্রকল্প সরকারি বিধি-বিধান মেনেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে আমি জড়িত নই। কেউ ব্যক্তিস্বার্থে আমাকে হয়রানি করতে এসব অভিযোগ তুলেছে। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।”

মিঠামইনে ছোট ভাইকে ঠকানোর অভিযোগ, চুক্তিপত্রেও মিলছে না সমাধান

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ)।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫৫ পিএম
মিঠামইনে ছোট ভাইকে ঠকানোর অভিযোগ, চুক্তিপত্রেও মিলছে না সমাধান

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বড় ভাইদের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে বঞ্চিত করা, বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা এবং ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে স্ট্যাম্পে আপস-মীমাংসার চুক্তিনামা সম্পাদিত হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ছোট ভাই মো. শফিকুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীপাড়া গ্রামের মৃত হারিছ মিয়ার ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (৪৯) মিঠামইন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে একই বাবার সন্তান মাওলানা আহসান হাবিব (৫৭), তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগম (৫২) এবং ছেলে মুজাহিদ মিয়াকে (২২) বিবাদী করা হয়।

লিখিত অভিযোগে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ঢাকায় বসবাসের সুযোগে তাঁর মালিকানাধীন বসতবাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল বিবাদীরা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘরে থাকা কাঠের বক্স, চৌকি, ফ্যান, সিমেন্টের পিলারসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত একটি অঙ্গীকারনামায় আপস-মীমাংসার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এতে প্রথম পক্ষ হিসেবে মো. শফিকুল ইসলাম এবং দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে মাওলানা আহসান হাবিব ও মাহবুব আলমের নাম রয়েছে। দলিল অনুযায়ী, বাড়িসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দুই লাখ টাকা লেনদেন এবং ৩৯৫ নম্বর দাগ থেকে তিন শতাংশ জমি দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের পর দ্বিতীয় পক্ষের আর কোনো দাবি-দাওয়া থাকবে না বলেও অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ রয়েছে।

শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে চুক্তির শর্ত কার্যকর হচ্ছে না। বরং বিবাদীরা তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বড় ভাই মাহবুব আলম ও আহসান হাবিব ওয়ারিশি সম্পত্তি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তা ও পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মাহবুব আলম কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এবং মাওলানা আহসান হাবিব তুমিজা খাতুন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, বিষয়টি পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দলিলপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন! নকশা বাতিলের উদ্যোগ, দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমিতে ১৮ তলা ভবন! নকশা বাতিলের উদ্যোগ, দুদকের অভিযান

ময়মনসিংহ নগরীতে রেলওয়ের জমি দখল করে ১৮ তলা এলিট টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবনটির অনুমোদিত নকশা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর মিন্টু কলেজ এলাকায় সরেজমিনে জমি পরিমাপ করেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন। এ সময় তিনি দেখতে পান, সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারের সীমানার ভেতরে রয়েছে। এরপরই ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন এই কর্মকর্তা। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এর আগে বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারে অভিযান চালানো হয়। রেলওয়ের জমি দখল করে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে-এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, রেলওয়ের জমিতে কোনো ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন ও পরিমাপ করে দেখা গেছে, ১৮ তলা এলিট টাওয়ারের নির্মাণকাজ রেলওয়ের জমির মধ্যে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ কারণে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালু করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ভবনটির ডেভেলপার ও নগরীর মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দাবি, নিয়ম মেনেই ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডেভেলপার জালাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে রেলওয়ের জমি ভবনের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় ভবনটির অনুমোদন প্রক্রিয়া, জমির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি ময়মনসিংহে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ থিয়েটার এসোসিয়েশনের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ছায়ানট সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি শরীফ মাহফুজুল হক আপেল এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাপলা থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ।

ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উর্বর ভূমি ময়মনসিংহ। এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ইতিহাস দীর্ঘদিনের গৌরবময় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। নাট্যচর্চা, সংগীত, আবৃত্তি, সাহিত্যচর্চা ও নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল বরাবরই স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে আসছে। ব্রহ্মপুত্রের তীরের এই জনপদে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও অসংখ্য সংস্কৃতিকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিক্রমা।

এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নাট্য আন্দোলনকে বেগবান করা, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদার এবং ময়মনসিংহের নাট্যচর্চার কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতিকর্মীরা।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে নবগঠিত এই কমিটির মাধ্যমে ময়মনসিংহের নাট্যাঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির চারণভূমি হিসেবে ময়মনসিংহের ঐতিহ্য ও গৌরব আরও বিকশিত হবেএমন প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক মহলের।

সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে, নাট্যচর্চার বিকাশে ঐক্যবদ্ধ হোক ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গন।