বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

রামগঞ্জে ষড়যন্ত্রের শিকার ৪ সাংবাদিকের মামলা তদন্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএমইউজে

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৩ পিএম
রামগঞ্জে ষড়যন্ত্রের শিকার ৪ সাংবাদিকের মামলা তদন্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএমইউজে

লক্ষ্মীপুরে রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মোস্তফা তারেক ইকবাল ওরফে রবিন পাটওয়ারীর সুইসাইট করার ১৪ মাসেও কুলকিনারা হয়নি।

মামলায় ৪ সাংবাদিককে গ্রেফতার করলেও অন্য কাউকে গ্রেফতার না করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই বাবর আলী অদৃশ্য ব্যক্তির ইন্দনে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করেছেন।

ঘটনার মূল আসামীদের আড়াল করতে ষড়যন্ত্রের শিকার ৪ সাংবাদিকদের উপর দোষ চাপাতে উঠে পড়ে লেগেছে একটি মহল। এতে প্রকৃত ঘটনার রহস্য আড়ালে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেই সাথে ন্যায় বিচারের পথ রুদ্ধ হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক সংগঠন বিএমইউজে ছাড়াও সাংবাদিকদের স্বজন, এলাকাবাসী ও আসামী পক্ষের আইনজীবি।

একাধিক সুত্রে জানায়, রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থিত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার ইমাম হোসেন সম্পর্কিত পৌর অবিরামপুর গ্রামের গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ইত্তেফাকের রামগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন মোস্তান, যায়যায়দিনের বেলায়েত হোসেন বাচ্চু, সমকালের জাকির হোসেন সুমন ও মানবকণ্ঠের শাখায়াত হোসেন জাহাঙ্গীর। ২৭ অক্টোবর-২০২৪ ইং বেলা ১২টার দিকে ব্যাংক অফিসে যান সংবাদের প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহের জন্য সেখানে অভিযুক্ত ইমাম হোসেন ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপক অনুপস্থিত থাকায় এবং সেকেন্ড অফিসার মোস্তফা বিন তারেক অসুস্থ হওয়ায় সাংবাদিকরা কারো বক্তব্য নিতে না পেরে চলে আসেন।

বিকেলে ইউএনও অফিসের নির্মানাধীন ভবনের ৪ তলার ছাদ থেকে পড়ে সেকেন্ড অফিসার মোস্তফা মারা যাওয়ার খবর শুনে সাংবাদিকরা নিশ্চিত হতে থানায় গেলে বিকাল ৪ টার দিকে ওসি কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে ৪ সাংবাদিকে আটক করেন এবং রাত ৩টার দিকে মৃতের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রিমুকে বাদী করে মামলা রুজু করেন ওসি আবুল বাসার এবং ২৮ অক্টোবর ( আটকের ২৩ ঘন্টা পরে) লক্ষীপুর আদালতে সোর্পদ করেন। দীর্ঘ ৫৫ দিন জেল খাটার পরে লক্ষীপুর আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের জামিন দেন।

সাংবাদিকদের পক্ষের আইনজীবি খাদিজাতুল কোবরা বলেন, মামলার তদন্তকারী অফিসার রামগঞ্জ থানার এস.আই বাবর আলী দীর্ঘ ৯ মাস তদন্ত করে চার্জশীট না দিয়ে অদৃশ্য ব্যক্তির ইন্দনে মামলাটি এসপির মাধ্যমে ডিবিতে হস্তান্তর করেছেন। আইনজীবি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমতি না নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওসি আবুল বাশার সাংবাদিকদের আটকের পর মামলা রুজু, ২৩ ঘন্টা পরে আদালতে পাঠায়। সাংবাদিকদের অন্যায় ভাবে এই মামলার আসামী করায় রামগঞ্জ প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, রিপোর্টার ইউনিয়নসহ বিভিন সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করলেও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তদন্ত কর্মকর্তা নানা বাধার সম্মুখিন হচ্ছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলহাজ্ব সোহেল হোসেন ও সাধারন সম্পাদক শিবলী সাদিক খান সাংবাদিকদের বিষয়ে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংবাদের প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহে যাওয়া ৪ সাংবাদিককে হয়রানি মূলক মামলার দায় হইতে অব্যাহতি দেওয়ার আহবান জানিয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তাঁরা আরো বলেন আমরা উদ্বিগ্ন যে মুল আসামীকে আড়াল করতে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা? মামলাটি সুষ্ঠভাবে তদন্ত পুর্বক দ্রুত প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন। আইনের সঠিক প্রয়োগে বাধাদানকারী অদৃশ্য ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে এসআই শাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মুক্তা, তামান্না ও রুনা নামের তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ শিবিরুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ এম
ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের একাংশে খাস হালট জমি দখল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ দখল কার্যক্রমের ফলে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা খাস জমি দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে করে খালটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। খালটি বালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি বহন করে পাশের ঢাকুয়া ইউনিয়নে পৌঁছে দেয়, যা পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাল ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পড়েছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল খালটি পুনরুদ্ধার এবং দখলমুক্ত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।

ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আকুয়া মড়লপাড়া এলাকায় এক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বর্তমানে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সুলতানা হাফিজুন নাহার তার স্বামী শফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আলীপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. মাসুদ রানার সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গার্মেন্টস পণ্যের শিপমেন্ট ব্যবসায় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ৩ মে ও ৫ জুন দুই দফায় মোট ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে মূল টাকা ও লভ্যাংশসহ মোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছেন বলেও দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাওনা টাকা চাইতে ফোন করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, একদিকে তারা অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন, অন্যদিকে অভিযুক্তের হুমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কোতোয়ালী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।