শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রামগঞ্জে ষড়যন্ত্রের শিকার ৪ সাংবাদিকের মামলা তদন্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএমইউজে

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৩ পিএম
রামগঞ্জে ষড়যন্ত্রের শিকার ৪ সাংবাদিকের মামলা তদন্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএমইউজে

লক্ষ্মীপুরে রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মোস্তফা তারেক ইকবাল ওরফে রবিন পাটওয়ারীর সুইসাইট করার ১৪ মাসেও কুলকিনারা হয়নি।

মামলায় ৪ সাংবাদিককে গ্রেফতার করলেও অন্য কাউকে গ্রেফতার না করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই বাবর আলী অদৃশ্য ব্যক্তির ইন্দনে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করেছেন।

ঘটনার মূল আসামীদের আড়াল করতে ষড়যন্ত্রের শিকার ৪ সাংবাদিকদের উপর দোষ চাপাতে উঠে পড়ে লেগেছে একটি মহল। এতে প্রকৃত ঘটনার রহস্য আড়ালে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেই সাথে ন্যায় বিচারের পথ রুদ্ধ হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক সংগঠন বিএমইউজে ছাড়াও সাংবাদিকদের স্বজন, এলাকাবাসী ও আসামী পক্ষের আইনজীবি।

একাধিক সুত্রে জানায়, রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থিত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার ইমাম হোসেন সম্পর্কিত পৌর অবিরামপুর গ্রামের গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ইত্তেফাকের রামগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন মোস্তান, যায়যায়দিনের বেলায়েত হোসেন বাচ্চু, সমকালের জাকির হোসেন সুমন ও মানবকণ্ঠের শাখায়াত হোসেন জাহাঙ্গীর। ২৭ অক্টোবর-২০২৪ ইং বেলা ১২টার দিকে ব্যাংক অফিসে যান সংবাদের প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহের জন্য সেখানে অভিযুক্ত ইমাম হোসেন ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপক অনুপস্থিত থাকায় এবং সেকেন্ড অফিসার মোস্তফা বিন তারেক অসুস্থ হওয়ায় সাংবাদিকরা কারো বক্তব্য নিতে না পেরে চলে আসেন।

বিকেলে ইউএনও অফিসের নির্মানাধীন ভবনের ৪ তলার ছাদ থেকে পড়ে সেকেন্ড অফিসার মোস্তফা মারা যাওয়ার খবর শুনে সাংবাদিকরা নিশ্চিত হতে থানায় গেলে বিকাল ৪ টার দিকে ওসি কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে ৪ সাংবাদিকে আটক করেন এবং রাত ৩টার দিকে মৃতের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রিমুকে বাদী করে মামলা রুজু করেন ওসি আবুল বাসার এবং ২৮ অক্টোবর ( আটকের ২৩ ঘন্টা পরে) লক্ষীপুর আদালতে সোর্পদ করেন। দীর্ঘ ৫৫ দিন জেল খাটার পরে লক্ষীপুর আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের জামিন দেন।

সাংবাদিকদের পক্ষের আইনজীবি খাদিজাতুল কোবরা বলেন, মামলার তদন্তকারী অফিসার রামগঞ্জ থানার এস.আই বাবর আলী দীর্ঘ ৯ মাস তদন্ত করে চার্জশীট না দিয়ে অদৃশ্য ব্যক্তির ইন্দনে মামলাটি এসপির মাধ্যমে ডিবিতে হস্তান্তর করেছেন। আইনজীবি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমতি না নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওসি আবুল বাশার সাংবাদিকদের আটকের পর মামলা রুজু, ২৩ ঘন্টা পরে আদালতে পাঠায়। সাংবাদিকদের অন্যায় ভাবে এই মামলার আসামী করায় রামগঞ্জ প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, রিপোর্টার ইউনিয়নসহ বিভিন সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করলেও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তদন্ত কর্মকর্তা নানা বাধার সম্মুখিন হচ্ছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলহাজ্ব সোহেল হোসেন ও সাধারন সম্পাদক শিবলী সাদিক খান সাংবাদিকদের বিষয়ে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংবাদের প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহে যাওয়া ৪ সাংবাদিককে হয়রানি মূলক মামলার দায় হইতে অব্যাহতি দেওয়ার আহবান জানিয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তাঁরা আরো বলেন আমরা উদ্বিগ্ন যে মুল আসামীকে আড়াল করতে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা? মামলাটি সুষ্ঠভাবে তদন্ত পুর্বক দ্রুত প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা একান্ত প্রয়োজন। আইনের সঠিক প্রয়োগে বাধাদানকারী অদৃশ্য ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

ময়মনসিংহে পিকআপের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
ময়মনসিংহে পিকআপের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের আলালপুর এলাকায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় একটি সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন হালুয়াঘাট উপজেলার নলুয়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও তার তিন বছর বয়সী ছেলে রুহান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শম্ভুগঞ্জের আলালপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে জাহাঙ্গীর আলম ও তার ছেলে রুহান গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের জমি ‘দখল করে’ পুকুর খননের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে!

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১২:৩৫ এম
বিদ্যালয়ের জমি ‘দখল করে’ পুকুর খননের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে!

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনকে দুই দফা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারী ও এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন নিজ গ্রাম হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হোসেনপুর গ্রামের রুহুল আমিন মাস্টারের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হোসেনপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর–১০ ও দাগ নম্বর–২০১৯ অনুযায়ী জমিটি হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশ জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করেছেন এবং কাটা মাটি নিজের বসতবাড়িতে নিয়ে গেছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, পুকুর খননের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রথমে বিষয়টি স্বীকার করেন এবং খনন করা পুকুর ভরাট করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরে তিনি পুকুর ভরাট না করে নানা টালবাহানা শুরু করেন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে জমিদাতা মো. আবু হানিফ ভূঁইয়া গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ সালে মিঠামইন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিকার চেয়ে প্রথম লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি পরবর্তীতে গত ১৫ নভেম্বর ২০২৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর আবারও লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, “পুকুর খননের বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জানিয়েই করা হয়েছে। তখন তাদের কোনো আপত্তি ছিল না। এখন একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।”

এ বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ট্রফির সঙ্গে বিজয়ীদের হাতে গাছের চারা

গৌরীপুরে ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গৌরিপুর।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
গৌরীপুরে ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা এবং গ্রামে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এ ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ইছুলিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় সামাজিক সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ি ফ্রেন্ডস ক্লাব।

খেলায় ইছুলিয়া ও হাটশিড়া গ্রামের একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় অংশ নেন। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর ম্যাচটি উপভোগ করতে মাঠের চারপাশে ভিড় জমান স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শকরা। দুই দলের খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত ড্রিবলিং, নিখুঁত পাসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবল শৈলী উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। নির্ধারিত সময়ে উভয় দলই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপহার দেয়।

খেলা শেষে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ব্যতিক্রমধর্মী পুরস্কার ব্যবস্থা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতে বিজয়ী ও রানার্স-আপ দলের জন্য ট্রফির পাশাপাশি রাখা হয় বিভিন্ন গাছের চারা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আয়োজক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে জমকালো চ্যাম্পিয়ন ট্রফির পাশাপাশি সবুজ গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুবসমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ট্রফির সঙ্গে গাছের চারা পুরস্কার দেওয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক ও পরিবেশবান্ধব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।