রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ২শত কোটি টাকার ১৮৩ প্রকল্প অনুমোদনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে!

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ২:৪৮ এম
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ২শত কোটি টাকার ১৮৩ প্রকল্প অনুমোদনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে!

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর ১০৩টি, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা ৪৭টি এবং কবিখা চাল ১৮টি, গম ১৫টি প্রকল্পের ২ শত কোটি টাকার ১৮৩ প্রকল্প অনুমোদনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ আনা হয়। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা হয়রানির কথা বলা হয়।

এ সকল ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান কালে জানা যায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে টিআর কর্মসূচি প্রকল্পে ১৬১১৫৪০৮.০ টাকা উন্নয়ন ব্যয় বরাদ্দের বিপরীতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর ১০৩টি প্রকল্প দেওয়া হয়। যার ৮ নং প্রকল্পের ভূল নামে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া আছে, ১৯ নং প্রকল্পে ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ চেয়ারম্যান এর তালিকায় নাম নেই।

অধিকাংশ প্রকল্পে ৩০ শতাংশ বেশী ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা সরকারের অর্থের অপচয় লুটপাট হওয়ার আশংকা বিদ্যমান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা কর্মসূচি প্রকল্পে একই অর্থ বছরে ২০৪১০৮৮৩.০০ টাকা উন্নয়ন ব্যয় বরাদ্ধের বিপরীতে ৪৭টি প্রকল্প দেওয়া হয়। যার ৮ নং প্রকল্পের ২৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ সঠিক লোকেশন নাই, ১০ নং প্রকল্প সাড়ে ২৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ চেয়ারম্যান এর তালিকায় নাই, ২৩ নং প্রকল্পে ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ যার ডিজাইন বরাদ্দকৃত অর্থের সমন্বয় নাই। অধিকাংশ প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিখা কর্মসূচি প্রকল্পে চাল ১২১.৬৫৪ মে. টন বরাদ্দের বিপরীতে ১৮ টি প্রকল্প নেওয়া হয় এবং গম ১২১.৬৫৪ মে. টন বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ টি প্রকল্প নেওয়া হয়। গমের ১নং প্রকল্পে ৬.৬৯৪ মে.টন বরাদ্দের প্রকল্প নাই বাতিল করা হয়। ৫নং প্রকল্প ৮ টন বরাদ্দ হয়েছিল তা সঠিক না হওয়ায় মেম্বার বদলিয়ে দিবে বলে জানা গেছে। প্রকল্প তালিকা আরো ব্যাপক তদন্ত করলে সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থের সমন্বয় হীনতা, অপচয় দুর্নীতি প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে এমন আশংকা থাকায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়।

ঈশ্বরগঞ্জে উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো কর্মসূচির ২শত কোটি টাকার ১৮৩ প্রকল্প অনুমোদনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, “৮০ শতাংশ প্রকল্প তালিকা সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা দিয়ে থাকেন আমি উপজেলার প্রশাসক এবং উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হিসাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০ শতাংশ প্রকল্প দিয়ে থাকি। প্রকল্প তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে ডিআরও তদন্ত করছেন, অফিসে আমার টেবিলে তালিকা আসলে আমি স্বাক্ষর করে দেই। প্রকল্প কমিটি এসকল কাজ বাস্তবায়ন করে, কোন অনিয়মকে প্রশ্রয় দেই না।”

এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম এর মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়ন উন্নয়ন কমিটির সভার আমি সদস্য সচিব প্রকল্প অনুমোদনের সভা আহবান না করে প্রকল্পগুলো যাচাই বাছাই করার সুযোগ না দিয়ে কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে ইউএনও মেডাম প্রকল্পে একক ভাবে স্বাক্ষর দিয়ে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলেন, আমি প্রকল্প গুলো এবং এর বিপরীতে উন্নয়ন ব্যায় বরাদ্দ সঠিক আছে কিনা যাচাই করে স্বাক্ষর দিচ্ছি জানালে ইউপি চেয়ারম্যান কয়েকজন মিলিত হয়ে প্রকল্প অনুমোদনের আগেই আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা বানোয়াট ভীত্তিহীন অভিযোগ আনয়ন করে। যেখানে প্রকল্প অনুমোদন হয়নি সেখানে দুর্নীতি অনিয়ম হয়রানির সুযোগ কোথায়। স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি বলেই চেয়ারম্যানগণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন।”

সি পার্লের সাগরবিলাসে ডুবছে রাষ্ট্রীয় অর্থ!

চুক্তি ভঙ্গ, কিস্তি খেলাপি আর রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আলোচনায় ‘সি পার্ল’

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৫:২০ পিএম
চুক্তি ভঙ্গ, কিস্তি খেলাপি আর রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আলোচনায় ‘সি পার্ল’

কক্সবাজারের ইনানি সৈকতে সাগরের নীল জলরাশির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিলাসবহুল ‘সি পার্ল বিচ রিসোর্ট’। বাইরের চাকচিক্য আর রমরমা ব্যবসার আড়ালে এবার সামনে এসেছে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। মানুষের আমানতের টাকা নিয়ে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে ফাঁদে ফেলে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের মূল হোতা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু। তিনি সি পার্ল রিসোর্টের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০১৭ সালে আইসিবিকে ৩২৫ কোটি টাকার বন্ডে বিনিয়োগে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ৮ বছর মেয়াদি ওই বিনিয়োগের শর্ত অনুযায়ী ১০ শতাংশ সুদে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ষান্মাসিক ভিত্তিতে কিস্তি পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু সি পার্ল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ না করায় ৩২৫ কোটি টাকার মূল বিনিয়োগ সুদে-আসলে বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৯৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৬ হাজার ৭৬৬ টাকায়। অর্থাৎ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা এখনো পাওনা আইসিবির।

অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু কিস্তি খেলাপিই নয়, বন্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তও লঙ্ঘন করেছে সি পার্ল কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী ২০ শতাংশ শেয়ার রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি। ঋণের বিপরীতে সম্পদের ওপর প্রথম চার্জ সৃষ্টি বা বন্ধকীকরণও সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে আইসিবির বিনিয়োগ কার্যত অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। এমনকি বিলম্বে কিস্তি পরিশোধের অতিরিক্ত সুদের শর্তও নানা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, বছরজুড়ে পর্যটকে ভরা ও রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করা একটি রিসোর্ট কেন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছে না? আইসিবির একাধিক সূত্র বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিবির এক কর্মকর্তা জানান, সি পার্ল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার তাগাদা দিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ আটকে থাকায় আইসিবি নিজেও আর্থিক চাপে পড়েছে।

সি পার্লের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছিল। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘বেঙ্গল ফাইন সিরামিক্স লিমিটেড’-এর কারখানা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় কয়েকশ সন্ত্রাসী নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে কারখানা দখল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দখলবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছে কীভাবে শত শত কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ অনুমোদন পেল? রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে দেশের আর্থিক খাত কতটা জিম্মি হয়ে পড়েছে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সি পার্লের এই বন্ড কেলেঙ্কারি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় অর্থ লুণ্ঠনের একটি সুপরিকল্পিত চিত্র, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রভাব এবং আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালালেন অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালালেন অভিযুক্ত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া নিজেই স্বজনদের ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পরিবার ও পুলিশ।

শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (৯ মে) সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

নিহতরা হলেন— ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

জানা গেছে, পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফুরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে রাউতকোনা গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়। তার বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত ও বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। তাদের মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। অপরদিকে শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ এবং কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া যায়। সেগুলোর সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফুরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া অভিযোগপত্র ও ঘটনাস্থলের আলামত গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ময়মনসিংহে ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে বাইক চুরির মূল হোতা আকাশ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১:৩৩ এম
ময়মনসিংহে ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে বাইক চুরির মূল হোতা আকাশ আটক

ময়মনসিংহে প্রতারণার মাধ্যমে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে আকাশ নামে এক যুবকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে জেলার তারাকান্দা উপজেলা থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় চৌকস উপ-পরিদর্শক (এস আই) আজাদ ও সংগীয় ফোর্সের পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন কৌশলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটরসাইকেল হাতিয়ে নিচ্ছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারাকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকাশকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আটক আকাশ বিভিন্ন সময় নিজেকে ক্রেতা বা পরিচিত ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যেত। তার স্ত্রীও এ প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, আটক আকাশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, অপরিচিত ব্যক্তির কাছে মোটরসাইকেল বা মূল্যবান সামগ্রী হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা জরুরি।