শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ ১৪৩২
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ ১৪৩২

ময়মনসিংহ সদরে “মেধা অন্বেষণ-২০২৫”: ইউএনও’র উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন আলোড়ন

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:২১ পিএম
ময়মনসিংহ সদরে “মেধা অন্বেষণ-২০২৫”: ইউএনও’র উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন আলোড়ন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো “মেধা অন্বেষণ-২০২৫” প্রতিযোগিতা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম প্রিন্স এর উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এবারের আয়োজনটি মোট ৯টি ক্লাস্টারে বিভক্ত হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রতিযোগিতায় প্রাণ সঞ্চার করে।

প্রতিটি ক্লাস্টার থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় ধাপ। সেদিন বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সনদপত্র ও পুরস্কার। অনুষ্ঠানে NAPE-এর মহাপরিচালক এবং ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মহোদয়কে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন জানান, “এই ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহ বাড়াবে এবং তাদের ছোটবেলা থেকেই প্রতিযোগিতার মানসিকতায় গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।”

একই সঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, “আজকের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে।

উল্লেখ্য, এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্স আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ইউএনও’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ : শিক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ:-

মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ছাড়াও ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্স সদরের শিক্ষার মানোন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন,

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

1. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও তদারকি: ইউএনও নিয়মিত স্কুল পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।

2. মেধা অন্বেষণমূলক কার্যক্রম: শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা চিহ্নিত করতে নিয়মিত মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম চালু রেখেছেন।

3. শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বয়: তিন পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী শিক্ষা পরিবেশ।

4. শিক্ষাগত অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের উন্নয়ন: সরকারি ও বেসরকারিভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

5. বিশেষ সহায়তা প্রদান: হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারি সুবিধার আওতায় এনে বিভিন্নভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যতের আশাবাদ, ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় এ ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন শুধু মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করতেই নয়, বরং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, প্রতিযোগিতার মনোভাব এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার সাহস জাগিয়ে তুলবে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

এ আয়োজন অব্যাহত রাখার জন্য শিক্ষানুরাগী ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্সকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশার সচেতন নাগরিকরা।

ময়মনসিংহে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত: থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ময়মনসিংহে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত: থানায় মামলা

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বেগুনবাড়ী এলাকায় বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুল কদ্দুছ (৬৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অটোরিকশায় থাকা আরও দুই যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ–টাঙ্গাইল মহাসড়কের ৯নং খাগডহর ইউনিয়নের ৩নং মাইজবাড়ী ওয়ার্ডের বেগুনবাড়ী এলাকায় হারটি রাস্তার মোড়ে।

নিহত আব্দুল কদ্দুছ দেওখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দুইজন যাত্রী নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-২০৬৫) বেপরোয়া গতিতে এসে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশা চালক আব্দুল কদ্দুছ মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের মৃত্যুসনদে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা (RTA) উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত অপর দুই যাত্রী হলেন, তৌহিদ (৩৮) ও নজরুল মিয়া (৬০)। তাদের মধ্যে তৌহিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদের তৌহিদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন এবং নজরুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মমেক হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে।

ঘটনার পর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মর্জিনা (৫৮) কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, বাসটির অজ্ঞাতনামা চালক বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে তার স্বামীর অটোরিকশায় ধাক্কা দিয়ে মৃত্যু ঘটিয়েছে।

পুলিশ জানায়, বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, সিএনজি ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, সিএনজি ও ২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে ৮ কেজি গাঁজা, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ আরিফ হাসান সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানাধীন মাইজহাটি এলাকা থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ বাদল মিয়া (৩৯) কে গ্রেফতার করেন। অভিযানের সময় সিএনজিটির পিছনের ইঞ্জিনের ডালার উপর বিশেষভাবে তৈরিকৃত একটি বাক্সের ভেতর থেকে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত বাদল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানার চিনাইর (পূর্বপাড়া চৌধুরীবাড়ী) এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে পূর্বে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

অপরদিকে, একই দিন বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে ডিবি পুলিশের এসআই (নিঃ) মোঃ মুকিত হাসান সংগীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী দেওয়ান মোহাম্মদ আলী (৫৪) কে গ্রেফতার করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কেরাব দেওয়ান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধেও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

উদ্ধারকৃত ৮ কেজি গাঁজা, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে গফরগাঁও ও কোতোয়ালী মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল। এদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবি পুলিশের এই সফল অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের এমন তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

বিএনপি’র দলীয় ও সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ: আহত-১০

নিজস্ব প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৭ এম
বিএনপি’র দলীয় ও সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ: আহত-১০

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা-১০ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলীয় বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যায় গফরগাঁও পৌর শহরের ইসলামিয়া স্কুলের সামনে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

আহতদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সোহাগ, রবিন, জসিম, মোঃ ফরহাদ, দেলোয়ার হোসেন, মহসিন, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ আরও অনেক নেতাকর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকেরা ধানেরশীষ প্রতিকের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে ঘটনাস্থল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। একই সময় দলীয় বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহ ওই এলাকায় প্রবেশ করলে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় অতপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।

সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও ছাত্রদলের অফিসে অগ্নিসংযোগ করাসহ আরো কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল আল মামুন বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয়েছে। এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়ে বলেনএই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “প্রতীক পাওয়ার পর আমার সমর্থকেরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছে। আমি নিজে গাড়িতে ছিলাম। আমরা কোনো হামলায় জড়িত নই।

এ ঘটনায় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবি সিদ্দিকুর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে দলীয় অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তিনি শিল্প ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলার আসামি হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন পাননি। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তবে দুদকের মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “মামলা রাজনৈতিক বাস্তবতায় হতেই পারে। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার।

এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।