বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মুক্তাগাছায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ককটেল বিস্ফোরণ পুলিশের দাবী অন্যকিছু

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ৭:২৭ পিএম
মুক্তাগাছায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ককটেল বিস্ফোরণ পুলিশের দাবী অন্যকিছু

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৩ আগষ্ট) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে ১০-১৫ জনের একটি ডাকাত দল সশস্ত্র অবস্থায় মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি করে।

এসময় ওই বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়া দুই পরিবারের কাছ থেকে স্বর্ণাংকার, নগদ অর্থ ও জিনিসপত্র ডাকাতি করে। ডাকাত দল যাওয়ার সময় একাধিক ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তবে থানা পুলিশ এই ঘটনাকে ডাকাতি বলতে রাজি নয়। পুলিশ বলছে ভিন্ন কিছু। তবে তদন্তের স্বার্থে সেই ভিন্ন কিছুটা কি তা এই মুহুর্তে জানাতে চাচ্ছে না পুলিশ।

ডাকাতির শিকার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন বগুড়ার সাব্বির হোসেন ও কুষ্টিয়ার অনিক আহমেদ। তারা দুজনেই স্থানীয় জায়েদ ফ্লাওয়ার মিলে কাজ করেন। ডাকাতরা অনিক আহমেদের স্ত্রী তাজমিন আক্তার কারিমার গলার চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয় এবং অনিক আহমেদকে মারধর করে। অপরদিকে সাব্বির হোসেনের কাছ থাকা নগদ টাকা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতদের দ্বারা বাড়ীর নারীরাও হেনস্তার শিকার হন।

ডাকাতির শিকার অনিক আহমেদ বলেন, আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাকে মারধর শুরু করে এবং যা কিছু আছে বের করে দিতে বলে। আমার স্ত্রীর গলার চেইন ও কানের দোল নিয়ে যায়।

অপরদিকে ভুক্তভোগী সাব্বির হোসেন বলেন, প্রথমে কেচিগেইটের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে এবং কাঠের দড়জা ভেঙ্গে রুমে প্রবেশ করে। আমরা প্রচন্ড ভয় ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। আমাদের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী নাঈম হোসেন জানান, ভোররাতে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুনে বাইরে এসে একটি হলুদ রঙের পিকআপ ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। এলাকাবাসী বাঁধা দিলে ডাকাতরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ভয় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রেদওয়ান ইসলাম শাওন বলেন, আমরা একটি চলন্ত ট্রাক রাস্তার মাঝে দাঁড় করিয়ে ডাকাত দলের পিকাপভ্যান আটকানোর চেষ্টা করি, পরে তাদের গাড়ী ঘুরিয়ে চেচুয়া বাজারের দিকে নিয়ে যেতে থাকে, সেখানেও এলাকাবাসীর ব্যারিকেড দেয়। তখন তারা দেশীয় অস্ত্র রামদা ঘুড়াতে থাকে এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ করতে করতে আবার পিকাপভ্যানটি ঘুুরিয়ে ভাবকীর মোড়ের দিকে নিয়ে যায়।

প্রতিবেশী মো: আল-আমীন বলেন, ককটেলের শব্দে মনে হচ্ছিলো এলাকায় গুলাগুলি চলতেছে। প্রায় ৩০ মিনিট ডাকাত দলের সাথে এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দের কারণে ট্রাক ড্রাইভার ভয়ে তার গাড়ীটি শরিয়ে নেয় এবং ডাকাতদল পালিয়ে যায়।

ডাকাত দল পালানোর সময় এলাকাবাসী বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, শুধু ডাকাতি না আমরা ভিন্ন কিছু ধারণা করছি। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের কারণে সব বলা যাচ্ছে না। তবে আমাদের আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।

ময়মনসিংহে বোরো সংগ্রহ (ধান/চাল) কার্যক্রম সফল করতে পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১২:৫২ এম
ময়মনসিংহে বোরো সংগ্রহ (ধান/চাল) কার্যক্রম সফল করতে পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় চলমান বোরো সংগ্রহ (ধান/চাল)-২০২৬ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) সকালে উপজেলা খাদ্য বিভাগের উদ্যোগে উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বোরো সংগ্রহ কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, খাদ্য বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, কৃষক ও মিলমালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহে সরকারি খাদ্য গুদামে মোট ২,০১৬ মেট্রিক টন ধান, ৯,৫৯২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ১,১২০ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রতি কেজি ধান ৩৪ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা দরে ক্রয় করা হবে।

সভা শেষে অতিথিবৃন্দ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সকলের সহযোগিতায় চলমান বোরো সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

এর আগে জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার (সিএসডি)-এ পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ সময় মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে সিএসডির ব্যবস্থাপক সংসদ সদস্যকে সংরক্ষণাগারের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই ও শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হলেন কোতোয়ালী থানার এসআই আসাদ

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম
জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই ও শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হলেন কোতোয়ালী থানার এসআই আসাদ

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় জেলার শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই আসাদ।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা এবং ওয়ারেন্ট তামিলে বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিক সংখ্যক ওয়ারেন্ট তামিল এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই ও শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হিসেবে মনোনীত করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সম্মাননা পাওয়ার পর এসআই আসাদ বলেন, এই অর্জন তার একার নয়, কোতোয়ালী মডেল থানার পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান।

জেলা পুলিশের এ স্বীকৃতিতে সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

ময়মনসিংহ সদরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১:৪২ এম
ময়মনসিংহ সদরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

এসময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও আরিফুল ইসলাম বলেন, জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আরও সমন্বয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শুরুর আগে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম তাকে স্বাগত জানান।