বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগ নেতা মাদকাসক্ত গার্ড শফিকুলসহ একাধিক গার্ডের ডোপটেষ্ট করানোর দাবি উঠেছে

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫, ১২:৫৯ এম
বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগ নেতা মাদকাসক্ত গার্ড শফিকুলসহ একাধিক গার্ডের ডোপটেষ্ট করানোর দাবি উঠেছে

বাংলাদেশ রেলওয়ে গার্ড মাদকাসক্ত শফিকুলসহ একাধিক গার্ডের ডোপটেষ্ট করানোর দাবি উঠেছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে। এ নিয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন জংশনে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।

ট্রেনের গার্ড শফিকুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি নিয়মিত মাদকাসক্তির মরণ নেশায় ঝুঁকে পড়লেও এদের বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। এদের কোন বিচার হচ্ছে না বলে অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। জনশ্রুতি রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের ইয়াবা গাজা সহ বিভিন্ন মাদকের বড় চালান নিরাপদে এদের মত গার্ড (পরিচালক) বহন করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করছে বলেই মাদকের বড় বড় চালান রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ সকল ব্যক্তিরা যখন ট্রেনের দায়িত্ব পালন করে তখন গোয়েন্দা নজরদারি করলেই রহস্যের উম্মোচন ঘটবে বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী।

অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে বুক চিতিয়ে চাকরি করে যাচ্ছে এই শফিকুল ইসলাম। এই শফিকুল ইসলাম রেলওয়ে শ্রমিক লীগ ময়মনসিংহ শাখা রেজি: বি ৩২০ এর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করছেন। তার শ্বশুর ময়মনসিংহ মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি (মেয়াদ পূর্তি ) হওয়ায় বর্তমান ডিউটি ঢাকা এবং ময়মনসিংহের পরিদর্শক টিইটি শাহীনও ভয়ে কোন কিছু করতে পারছে না।

গতকাল (২৫ জুলাই) সকাল ১০:১০ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ৭৭৮ ডাউন ট্রেন পরিচালক কন্টারক্টর শফিক গার্ড ট্রেন নিয়ে ঢাকায় পৌঁছে এবং যথারীতি আবার ট্রেন ৭৭৭ আপ রাতে ২২:১০ মিনিটে ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ এর উদ্দেশ্য ছেড়ে আসে। মোহনগঞ্জ থেকে সকাল ০৮:০০ ছেড়ে আসার সময় কর্তব্যরত ওয়ার্কিং গার্ড তাকে মিসিং পেয়ে ঢাকা কন্ট্রোলকে অবগত করে এবং ঢাকা ডিউটি তাকে বুকঅফ করে আগামী কর্মদিবসে স্বশরীরে হাজির হতে কন্ট্রোল অর্ডার দিয়েছে। কন্ট্রোল অর্ডার নম্বর ৪৮০।

তাই গার্ড শফিককে নিয়ে গিয়ে তার ডোপটেস্ট করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে কর্মকর্তা কর্মচারীগণ। এছাড়াও সরেজমিনে তদন্ত করতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের বিভিন্ন সেকশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিকট আরো কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যান্য ট্রেনের দায়িত্ব পালন করা পরিচালক যেমন, গার্ড সালাম গাজায় আসক্ত, গার্ড অনিক রহমান ইয়াবায় আসক্ত, গার্ড মাসুদ আহমেদ অভি ইয়াবায় আসক্ত, গার্ড শফিকুল ইসলাম ইয়াবায় আসক্ত।

এসকল মাদকাসক্ত ট্রেনের পরিচালক (গার্ড) হিসাবে দায়িত্ব পালন করালে এদের কৃতকর্মের কারণে ট্রেন যাত্রায় বিলম্ব সহ নানা দুর্ঘটনা এবং ভোগান্তি হতে পারে যাত্রীদের। এদের প্রত্যেকের ডোপটেষ্ট করিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী মনে করছে রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীগণ।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।