বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

তারাকান্দায় ঘর বাড়ি ভাংচুর ফিসারির মাছ লুটপাট কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫, ১১:৫৫ পিএম
তারাকান্দায় ঘর বাড়ি ভাংচুর ফিসারির মাছ লুটপাট কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় পশ্চিম বালিখা গ্রামের জসিম উদ্দিন প্রতিপক্ষকে চাঁদা না দেয়ায় জুন মাসে এক সংঘর্ষের ঘটনায় একই গ্রামের একজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এর জের ধরেই ঐদিনই রাতের অন্ধকারে মাছ চুরি এবং বাড়িঘর ভাঙচুর সহ কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের ঘটনা শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, তারাকান্দার বালিখাঁ ইউনিয়নে পশ্চিম বালিখা গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ প্রবাসীর বাড়ীঘরসহ রাতের অন্ধকারে ৩৪ একর ভূমিতে প্রায় ২৩টি ফিসারির মাছ লুটপাট শুরু করা হয়। কয়েকটি পরিবারের ৬-৭টি বিল্ডিং ঘর ভাংচুর করে ব্যপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে ঘরের জিনিসপত্র লুটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ২৮ জুন ২০২৫ তারিখ সকালে সংগঠিত হয়। ঐ দিন রাত থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত এ লুটপাট ভাংচুর, ২৩টি ফিসারী থেকে মাছ চুরির ঘটনা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, একটি অপরাধের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক ভাবে তদন্ত করলে আরেকটি অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে একের পর এক অপরাধ সংগঠিত হয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ভূক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের বাড়ীঘরে থাকা নগদ টাকা সহ ৭ভরি স্বর্ণের অলংকার, এক টন রড, গরু, ছাগল, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেল, হাঁস-মুরগী-কবুতর, ঘরে থাকা ধান, চাউল সহ লক্ষ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র সহ প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার এ পর্যন্ত লুটপাট করে নিয়ে গেছে আওয়ামী সমর্থিত খলিল গং।

ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা গৃহহীন হয়ে রাস্তাঘাট সহ বিভিন্ন জায়গায় বাস্তুহারা হয়ে জীবন যাপন করছি। আমরা যে থাকবো এমন কোন বাড়িঘর নেই আমাদের। আমাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে পারছেনা।

বাড়িঘর ভাংচুর এবং ফিসারির মাছ ডাকাতি সহ সব মিলিয়ে প্রায় ৬/৭ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে প্রতিপক্ষরা। ভুক্তভোগী পরিবার এখন আইনের দ্বারস্থ হয়ে এর সঠিক সমাধান চান। প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার বিষয়ে থানায় আইনগত প্রতিকার না পেয়ে আদালতের আশ্রয় গ্রহণের কথা জানিয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবার। তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ টিপু সুলতানকে ফিসারীর মাছ লুটে নেওয়ার বিষয়ে অবগত করলে তিনি রাতের অন্ধকারে পুলিশ ফোর্স নিয়ে যেতে পারবেন না বলে জানান এবং এলাকার লোকজন আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।