সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

তারাকান্দায় ঘর বাড়ি ভাংচুর ফিসারির মাছ লুটপাট কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ

শিবলী সাদিক খান।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫, ১১:৫৫ পিএম
তারাকান্দায় ঘর বাড়ি ভাংচুর ফিসারির মাছ লুটপাট কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় পশ্চিম বালিখা গ্রামের জসিম উদ্দিন প্রতিপক্ষকে চাঁদা না দেয়ায় জুন মাসে এক সংঘর্ষের ঘটনায় একই গ্রামের একজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এর জের ধরেই ঐদিনই রাতের অন্ধকারে মাছ চুরি এবং বাড়িঘর ভাঙচুর সহ কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের ঘটনা শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, তারাকান্দার বালিখাঁ ইউনিয়নে পশ্চিম বালিখা গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ প্রবাসীর বাড়ীঘরসহ রাতের অন্ধকারে ৩৪ একর ভূমিতে প্রায় ২৩টি ফিসারির মাছ লুটপাট শুরু করা হয়। কয়েকটি পরিবারের ৬-৭টি বিল্ডিং ঘর ভাংচুর করে ব্যপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে ঘরের জিনিসপত্র লুটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ২৮ জুন ২০২৫ তারিখ সকালে সংগঠিত হয়। ঐ দিন রাত থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত এ লুটপাট ভাংচুর, ২৩টি ফিসারী থেকে মাছ চুরির ঘটনা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, একটি অপরাধের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক ভাবে তদন্ত করলে আরেকটি অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে একের পর এক অপরাধ সংগঠিত হয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ভূক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের বাড়ীঘরে থাকা নগদ টাকা সহ ৭ভরি স্বর্ণের অলংকার, এক টন রড, গরু, ছাগল, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেল, হাঁস-মুরগী-কবুতর, ঘরে থাকা ধান, চাউল সহ লক্ষ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র সহ প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার এ পর্যন্ত লুটপাট করে নিয়ে গেছে আওয়ামী সমর্থিত খলিল গং।

ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা গৃহহীন হয়ে রাস্তাঘাট সহ বিভিন্ন জায়গায় বাস্তুহারা হয়ে জীবন যাপন করছি। আমরা যে থাকবো এমন কোন বাড়িঘর নেই আমাদের। আমাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে পারছেনা।

বাড়িঘর ভাংচুর এবং ফিসারির মাছ ডাকাতি সহ সব মিলিয়ে প্রায় ৬/৭ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে প্রতিপক্ষরা। ভুক্তভোগী পরিবার এখন আইনের দ্বারস্থ হয়ে এর সঠিক সমাধান চান। প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার বিষয়ে থানায় আইনগত প্রতিকার না পেয়ে আদালতের আশ্রয় গ্রহণের কথা জানিয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবার। তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ টিপু সুলতানকে ফিসারীর মাছ লুটে নেওয়ার বিষয়ে অবগত করলে তিনি রাতের অন্ধকারে পুলিশ ফোর্স নিয়ে যেতে পারবেন না বলে জানান এবং এলাকার লোকজন আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বিটিসিএলে চার গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ, এইচআর কর্মকর্তা মালেকের বিরুদ্ধে পদায়ন-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম
বিটিসিএলে চার গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ, এইচআর কর্মকর্তা মালেকের বিরুদ্ধে পদায়ন-বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) জিএম (মানবসম্পদ-২) মো. আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, পদায়ন ও বদলি-বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব ও সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো একই কর্মকর্তা একসঙ্গে চারটি রাষ্ট্রীয় গাড়ি ব্যবহার করছেন। বিটিসিএল-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকা মেট্রো-চ-৫৬-১৪২১ নম্বরের একটি হাইস মাইক্রোবাস এবং তিনটি পাজেরো জিপ তার ব্যবহারে রয়েছে। এসব গাড়ির ব্যবহার ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধি ও প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পদায়ন ও বদলি নিয়ে প্রশ্ন

বিটিসিএলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পদায়নের কথা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি পদায়ন নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সূত্রের দাবি, কিছুদিন আগে সাদিয়া সাম্মাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ডিজিএম (সুইচ) এবং মো. বিপুল হোসেনকে কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক পদে পদায়ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিপুল হোসেনকে আরও কয়েকটি অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় ডিটিআর দক্ষিণের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকার সুযোগে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ১২তম গ্রেডের বিলোপযোগ্য পদে থাকা কয়েকজন বিতর্কিত নেতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।

১৫ বছর ধরে একই এলাকায় প্রভাব?

অভিযোগকারীদের দাবি, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ঘুরেফিরে গেন্ডারিয়া, চকবাজার ও গুলিস্তান এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অবস্থান ধরে রেখেছেন আব্দুল মালেক। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেও একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের সহায়তায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্বে প্রভাব ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সম্পত্তি ও ইমারত শাখার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে দায়িত্ব পরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া পূর্বে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে মেইনটেন্যান্স ও সংস্কারকাজের নামে ভুয়া বিল প্রস্তুত এবং কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক হিসাবের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিপুল সম্পদের অভিযোগ

আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার গ্রিন রোডের ১৪ গ্রিন স্কয়ার উদয়ন গ্রীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা বলে দাবি করা হলেও সম্পত্তিটির মালিকানা, ক্রয়মূল্য ও অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো স্বাধীন নথি এ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তার আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দলিল পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১,৪৫৫ জনের পদায়ন নিয়েও অভিযোগ

বিটিসিএলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্গানোগ্রাম অনুসারে ১ হাজার ৪৫৫ জনকে পদায়নের কথা থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ডিএমডি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগসাজশ করে শূন্য পদে পদায়নের পরিবর্তে প্রায় ৫০০ কর্মচারীকে ঢাকায় সংযুক্ত রাখা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, এ সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য আর্থিক নথি বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া পদায়নের আগে প্রস্তুত করা একটি খসড়া তালিকা প্রায় এক মাস স্বাক্ষরবিহীন অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই তালিকার অনলাইন কপি এখনও সংরক্ষিত রয়েছে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বিটিসিএলের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতগুলো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পদায়ন ও বদলির নথি, গাড়ি বরাদ্দ ও ব্যবহারসংক্রান্ত রেকর্ড, আর্থিক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে বিটিসিএলের জিএম (মানবসম্পদ-২) মো. আব্দুল মালেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

ময়মনসিংহে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম
ময়মনসিংহে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষককে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নে ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন সারোয়ার হোসেন। তিনি সদর উপজেলার ১২ নম্বর ভাবখালী ইউনিয়নের ল্যাংটার মোড় এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটির নাজেরা বিভাগের ওই ৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ২ নম্বর বৈলর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উজান বৈলর এলাকায়।

এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে গিয়ে শিশুটি কীভাবে এমন নির্যাতনের শিকার হলো এবং বিষয়টি আগে কেন প্রতিরোধ করা গেল না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদ্রাসাটিতে শিশুদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সারোয়ার হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, শিশুটির চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৪০ ভবঘুরে ও ভিক্ষুক

রাকিবুল হাসান আহাদ, বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫০ পিএম
শাহজালাল বিমানবন্দরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৪০ ভবঘুরে ও ভিক্ষুক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় প্রবাসী ও বিদেশি যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ এবং যাত্রীসেবার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকে পরিচালিত এ অভিযানে ৪০ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার জানান, বিমানবন্দর গোলচত্বর, বিআরটিএ স্টেশন, রেলওয়ে স্টেশন, পুলিশ বক্স এলাকা, মূল প্রবেশপথ এবং ভিভিআইপি ও ভিআইপি সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাজুড়ে একযোগে অভিযান চালানো হয়।

আটক ৪০ জনের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ২ জন নারী এবং ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ রয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের মিরপুরস্থ শিশু-কিশোর আশ্রয়কেন্দ্রে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্পেশাল কোর্টে সোপর্দ করা হচ্ছে।

ওসি কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, বিমানবন্দরে আগত প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ভবঘুরে ও ভিক্ষুকদের উপদ্রব দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একই উদ্দেশ্যে গত কয়েকদিনের অভিযানে আরও ২৮৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৪০ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৩২৮ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আইনের আওতায় এনে স্পেশাল কোর্ট ও আশ্রয়কেন্দ্রে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের সার্বিক পরিবেশ ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সিসিটিভি নজরদারিও রয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।