রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার-২৮, ওসি শিবীরুলের পদক্ষেপে স্বস্তিতে নগরবাসী

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫, ৩:১১ এম
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার-২৮, ওসি শিবীরুলের পদক্ষেপে স্বস্তিতে নগরবাসী

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় সদ্য যোগদানকৃত ওসি শিবীরুলের সার্বিক দিক নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ২৪ ঘন্টায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করিয়া বিভিন্ন মামলার ও গ্রেফতারী পরোয়ানার আসামীসহ মোট ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

এসআই কুমোদলাল দাস সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ১। সুমন সরকার (৪০), পিতা-সুনীল সরকার, সাং-পাটগুদাম, দুল দুল ক্যাম্প, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ২। রোমান মিয়া (৩৪), পিতা-মৃত বাদল মিয়া, সাং- পাটগুদাম, দুল দুল ক্যাম্প, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ৩। মোঃ সোহাগ (৪৫), পিতা-মৃত মোহন মিয়া, সাং-কৃষ্টপুর, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ , ৪। আজিজুল হক (৫০), পিতা-মৃত চাঁন মিয়া, সাং-কেওয়াটখালী, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ কে গ্রেফতার করতঃ ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার নন-এফআইআর নং-১৪৩, তারিখ-২১ জুন, ২০২৫; ধারা-১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই আনিসুর রহমান আসামী মোঃ রায়হান তানজিল ওরফে বাবু (৩৮), পিতা-আব্দুর রহমান, মাতা-রেহেনা বেগম, সাং-মহারাজা রোড কালিবাড়ী, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিং ‘কে গ্রেফতার পূর্বক ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৮৩, তারিখ- ২৬ জুন, ২০২৫; জি আর নং-৫৬৩, তারিখ- ২৬ জুন, ২০২৫; সময়- রাত ০০.৩০ ঘটিকা ধারা- ৩৬(১) সারণির ১০(ক) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮; মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই আনিসুর রহমান আসামী মোঃ জসিম উদ্দিন (৪০), পিতা-কাশেম আলী, সাং-বাকৃবি শেষ মোড় (জামতলা), থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে গ্রেফতার পূর্বক ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৬২, তারিখ- ১৯ জুন, ২০২৫; জি আর নং-৫৪২, তারিখ- ১৯ জুন, ২০২৫; সময়- বেলা ১২.৫০ ঘটিকা ধারা- 143/447/323/326/307/506(2) The Penal Code, 1860; মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৮৭, তারিখ- ২৬ জুন, ২০২৫; ধারা- ৬/১০/১৩ সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯; এর এজাহারনামীয় আসামী ১। মোঃ মনোয়ার হোসেন খান মিনার (৪৪) (সাবেক স্বেচ্ছা সেবকলীগের সহ-সভাপতি), পিতা-মৃত আব্দুল লতিফ খান, মাতা-মোছাঃ আম্বিয়া বেগম, সাং-বাঘবেড়, থানা-ধোবাউড়া, জেলা-ময়মনসিংহ, এ/পি-৫নং কলেজ রোড, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই মোঃ বিশ্বজিত সূত্রধর ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৫৭, তারিখ-১৯/০৬/২০২৫; ধারা- 399/402 The Penal Code, 1860;মামলার তদন্তে সন্ধিগ্ধ আসামী ১। সুমন মিয়া (২৬), পিতা-হায়দার আলী, সাং-কেওয়াটখালী, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ২। সাদ্দাম মিয়া (২১), পিতা-আব্দুল কাদির৥ঝুলু মিয়া, সাং-চর রঘুরামপুর, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ৩। শরীফুল ইসলাম মিতুল (২৮), পিতা-হারুন অর রশিদ, সাং-কেওয়াটখালী, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিং ‘দের গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই সজীব কোচ ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৪৯, তারিখ- ১৬ জুন, ২০২৫; ধারা-৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড-১৮৬০; মামলার তদন্তে সন্ধিগ্ধ আসামী ১। মোঃ দেলোয়ার হোসেন (২৮), পিতা-আব্দুল মজিদ, সাং-কাচারী ঘাট, ২। শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র দাস (২৫), পিতা-শ্রী মন্টু চন্দ্র দাস, সাং-পাটগুদাম বেরীবাধ, ৩। মোঃ হৃদয় মিয়া (২২), পিতা-নজরুল ইসলাম, সাং-পারাইল পরাণগঞ্জ বাজার সংলগ্ন, সর্ব থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ’দের গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই মাকসুমুল হাসান খালিদ ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৭০, তারিখ- ২২ জুন, ২০২৫; জি আর নং-৫৫০, তারিখ- ২২ জুন, ২০২৫; সময়- বেলা ১১.০৫ ঘটিকা ধারা- 379 The Penal Code, 1860; এর তদন্তে সন্ধিগ্ধ আসামী ১। আনোয়ার হোসেন (৩২), পিতা-মৃত আজিম উদ্দিন, মাতা-মোছাঃ আনোয়ারা বেগম, সাং-আব্দুল্লাপুর, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ‘কে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই মাজহারুল ইসলাম ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৮৬, তারিখ- ২৬ জুন, ২০২৫; জি আর নং-৫৬৬, তারিখ- ২৬ জুন, ২০২৫; সময়- ০১:১০ ঘটিকা। ধারা- 393/398 The Penal Code, 1860; এজাহারনামীয় আসামী ১। মোঃ আমিনুল @ আমিরুল (২১), পিতা-মৃত দানেশ মিয়া, মাতা-সাহেরা খাতুন, সাং-মাসকান্দা গনসার মোড় (কমির ড্রাইভারের বাসার ভাড়াটিয়া), ২। হাসান (১৯), পিতা-মোঃ মনির হোসেন, মাতা-আলেয়া খাতুন, সাং-পাড়াইল চৌরাস্তা ঘাগড়া (হাবিবের বাড়ী), এ/পি মাসকান্দা গনসার মোড়, উভয় থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ’দের গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই সজীব কোচ কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৮১, তারিখঃ ২৬/০৬/২০২৫ ইং, ধারাঃ ৪১৯/৪৬৭/ ৪৬৮/৪৭১/৪০৬/৩৪ পেনাল কোড এর এজাহারনামীয় আসামী ০১। মোঃ হানিফ (৫৫), পিতা-মৃত আলা উদ্দিন, সাং- চর দুর্গাপুর, চর খরিচা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ০২। মোঃ আব্দুল মান্নান (৪৬), পিতা-মৃত আলা উদ্দিন, সাং- চর দুর্গাপুর, চর খরিচা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ০৩। মোছাঃ ছালেহা খাতুন (৪৬), পিতা-আলাল উদ্দিন, সাং- চর দুর্গাপুর, চর খরিচা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ০৪। মোছাঃ জহুরা খাতুন (৭০), পিতা-আলা উদ্দিন, সাং- চর দুর্গাপুর, চর খরিচা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ০৫। জামিনা খাতুন (৫০), স্বামী-শামছুল হক, সাং-মালিডাঙ্গা, থানা-ফুলপুর, জেলা-ময়মনসিংহ, ০৬। মোছাঃ রাশিদা (৫০), স্বামী-আব্দুল মান্নান, সাং-মালিডাঙ্গা, থানা-ফুলপুর, জেলা-ময়মনসিংহে’দের গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই জসীম উদ্দীন ময়মনসিংহ সদর থানার এফআই আর নং-৮৮, তারিখ- ২৬/০৬/২০২৫; ধারা- ২০১৮ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) এর ১৯(ক) এর এজাহারনামীয় আসামী ১। চিনু মিয়া (৪৫), পিতা-মৃত মোছন আলী, মাতা-শাহানা, সাং-পাটগুদাম মদের ডিপো রেলওয়ে কলোনী, ২। মোঃ ফরহাদ (৩৫), পিতা-মোঃ মোকসেদ আলী, মাতা-ফিরাজা বেগম, সাং-১০৫/১ পাটগুদাম, আটানী পুকুরপাড়, ৩। উজ্জল সরকার (৪৫), পিতা-মৃত নিবারন সরকার, মাতা-প্রতিমা রানী, সাং-ভাটিকাশর বড়বাড়ী (আর্মির বাসা), ৪। রানা (৩০), পিতা-মৃত আব্দুস সামাদ, মাতা-তারা বানু, সাং-কৃষ্টপুর আদর্শ কলোনী, সর্ব থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ’দের গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

পরোয়ানা মূলে গ্রেফতার-

এসআই আল আমিন ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৪০/১৪, তারিখ- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪; জি আর নং-১৪৬/১৪, তারিখ- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪; সময়- ধারা- ৪/৫ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ সংশোধনী ২০০৯; এর পরোয়ানা মূলে আসামী রানা (৩১), পিতা-সামাদ, স্থায়ী : গ্রাম- কৃষ্টপুর (কৃষ্টপুর আদর্শ কলোনী ) , উপজেলা/থানা- কোতোয়ালী মডেল, জেলা -ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ কে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এএসআই মাহমুদুল হাসান ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,সিআর নং-১৩৩৩/২৩, তারিখ- ১২ মে, ২০২৪; মোছাঃ শারমিনা আক্তার (), পিতা-মোঃ আনিসুর রহমান, স্থায়ী : গ্রাম- বড়বিলা (বড়বিলারপাড়, পো: চুরখাই) , উপজেলা/থানা- কোতোয়ালী মডেল, জেলা -ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ এর পরোয়ানা মূলে আসামী মোছাঃ শারমিনা আক্তার (), পিতা-মোঃ আনিসুর রহমান, স্থায়ী : গ্রাম- বড়বিলা (বড়বিলারপাড়, পো: চুরখাই) , উপজেলা/থানা- কোতোয়ালী মডেল, জেলা -ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ কে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালালেন অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালালেন অভিযুক্ত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া নিজেই স্বজনদের ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পরিবার ও পুলিশ।

শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (৯ মে) সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

নিহতরা হলেন— ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

জানা গেছে, পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফুরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে রাউতকোনা গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়। তার বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত ও বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। তাদের মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। অপরদিকে শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ এবং কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া যায়। সেগুলোর সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফুরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া অভিযোগপত্র ও ঘটনাস্থলের আলামত গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ময়মনসিংহে ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে বাইক চুরির মূল হোতা আকাশ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১:৩৩ এম
ময়মনসিংহে ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে বাইক চুরির মূল হোতা আকাশ আটক

ময়মনসিংহে প্রতারণার মাধ্যমে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে আকাশ নামে এক যুবকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে জেলার তারাকান্দা উপজেলা থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় চৌকস উপ-পরিদর্শক (এস আই) আজাদ ও সংগীয় ফোর্সের পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন কৌশলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটরসাইকেল হাতিয়ে নিচ্ছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারাকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকাশকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আটক আকাশ বিভিন্ন সময় নিজেকে ক্রেতা বা পরিচিত ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যেত। তার স্ত্রীও এ প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, আটক আকাশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, অপরিচিত ব্যক্তির কাছে মোটরসাইকেল বা মূল্যবান সামগ্রী হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা জরুরি।

রাজনৈতিক মামলায় বারবার গ্রেফতার, কারাবন্দি জীবন নিয়ে প্রশ্নের মুখে নওশেল আহমেদ অনি

বদরুল আমীন, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৯:১৫ পিএম
রাজনৈতিক মামলায় বারবার গ্রেফতার, কারাবন্দি জীবন নিয়ে প্রশ্নের মুখে নওশেল আহমেদ অনি

ময়মনসিংহের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ নওশেল আহমেদ অনিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবারের দাবি, একের পর এক মামলায় জামিন পাওয়ার পরও তাকে পুনরায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সুশীল সমাজে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নওশেল আহমেদ অনি ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ সদরের মুন্সি লেনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিন ভাইয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ অনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং রয়েল মিডিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে কলেজে অধ্যয়নকালেই ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। পরে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।

করোনাকালে বিভিন্ন মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নগরবাসীর আস্থা অর্জন করেন বলে দাবি পরিবারের।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন তার পরিবারের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, খামার ও আত্মীয়স্বজনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে পরিবারটি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে র‍্যাবের একটি দল তাকে আটক করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন হত্যা, বিস্ফোরক ও ভাঙচুর মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। কয়েকটি মামলায় নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করলেও পুনরায় নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

বিশেষ করে, শম্ভুগঞ্জ বিস্ফোরক মামলায় উচ্চ আদালতের জামিন বহাল থাকার পরও চলতি বছরের ২২ এপ্রিল তাকে পুনরায় আটক করে কারাগারে পাঠানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে মুক্তাগাছার একটি বিস্ফোরক মামলায় “শোন অ্যারেস্ট” দেখিয়ে পুনরায় জেল হাজতে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ কারাবাসে তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে তিনি এলার্জি, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বলে দাবি করা হয়েছে। দুই দফায় বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস এবং পারিবারিক অনিশ্চয়তায় পরিবারটি চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে রয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচার ও মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।