রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার-২৮, ওসি শিবীরুলের পদক্ষেপে স্বস্তিতে নগরবাসী

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫, ৩:১১ এম
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার-২৮, ওসি শিবীরুলের পদক্ষেপে স্বস্তিতে নগরবাসী

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় সদ্য যোগদানকৃত ওসি শিবীরুলের সার্বিক দিক নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ২৪ ঘন্টায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করিয়া বিভিন্ন মামলার ও গ্রেফতারী পরোয়ানার আসামীসহ মোট ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

এসআই কুমোদলাল দাস সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ১। সুমন সরকার (৪০), পিতা-সুনীল সরকার, সাং-পাটগুদাম, দুল দুল ক্যাম্প, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ২। রোমান মিয়া (৩৪), পিতা-মৃত বাদল মিয়া, সাং- পাটগুদাম, দুল দুল ক্যাম্প, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ৩। মোঃ সোহাগ (৪৫), পিতা-মৃত মোহন মিয়া, সাং-কৃষ্টপুর, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ , ৪। আজিজুল হক (৫০), পিতা-মৃত চাঁন মিয়া, সাং-কেওয়াটখালী, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ কে গ্রেফতার করতঃ ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার নন-এফআইআর নং-১৪৩, তারিখ-২১ জুন, ২০২৫; ধারা-১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই আনিসুর রহমান আসামী মোঃ রায়হান তানজিল ওরফে বাবু (৩৮), পিতা-আব্দুর রহমান, মাতা-রেহেনা বেগম, সাং-মহারাজা রোড কালিবাড়ী, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিং ‘কে গ্রেফতার পূর্বক ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৮৩, তারিখ- ২৬ জুন, ২০২৫; জি আর নং-৫৬৩, তারিখ- ২৬ জুন, ২০২৫; সময়- রাত ০০.৩০ ঘটিকা ধারা- ৩৬(১) সারণির ১০(ক) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮; মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই আনিসুর রহমান আসামী মোঃ জসিম উদ্দিন (৪০), পিতা-কাশেম আলী, সাং-বাকৃবি শেষ মোড় (জামতলা), থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে গ্রেফতার পূর্বক ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৬২, তারিখ- ১৯ জুন, ২০২৫; জি আর নং-৫৪২, তারিখ- ১৯ জুন, ২০২৫; সময়- বেলা ১২.৫০ ঘটিকা ধারা- 143/447/323/326/307/506(2) The Penal Code, 1860; মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৮৭, তারিখ- ২৬ জুন, ২০২৫; ধারা- ৬/১০/১৩ সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯; এর এজাহারনামীয় আসামী ১। মোঃ মনোয়ার হোসেন খান মিনার (৪৪) (সাবেক স্বেচ্ছা সেবকলীগের সহ-সভাপতি), পিতা-মৃত আব্দুল লতিফ খান, মাতা-মোছাঃ আম্বিয়া বেগম, সাং-বাঘবেড়, থানা-ধোবাউড়া, জেলা-ময়মনসিংহ, এ/পি-৫নং কলেজ রোড, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই মোঃ বিশ্বজিত সূত্রধর ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৫৭, তারিখ-১৯/০৬/২০২৫; ধারা- 399/402 The Penal Code, 1860;মামলার তদন্তে সন্ধিগ্ধ আসামী ১। সুমন মিয়া (২৬), পিতা-হায়দার আলী, সাং-কেওয়াটখালী, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ২। সাদ্দাম মিয়া (২১), পিতা-আব্দুল কাদির৥ঝুলু মিয়া, সাং-চর রঘুরামপুর, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ৩। শরীফুল ইসলাম মিতুল (২৮), পিতা-হারুন অর রশিদ, সাং-কেওয়াটখালী, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিং ‘দের গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই সজীব কোচ ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৪৯, তারিখ- ১৬ জুন, ২০২৫; ধারা-৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড-১৮৬০; মামলার তদন্তে সন্ধিগ্ধ আসামী ১। মোঃ দেলোয়ার হোসেন (২৮), পিতা-আব্দুল মজিদ, সাং-কাচারী ঘাট, ২। শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র দাস (২৫), পিতা-শ্রী মন্টু চন্দ্র দাস, সাং-পাটগুদাম বেরীবাধ, ৩। মোঃ হৃদয় মিয়া (২২), পিতা-নজরুল ইসলাম, সাং-পারাইল পরাণগঞ্জ বাজার সংলগ্ন, সর্ব থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ’দের গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই মাকসুমুল হাসান খালিদ ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৭০, তারিখ- ২২ জুন, ২০২৫; জি আর নং-৫৫০, তারিখ- ২২ জুন, ২০২৫; সময়- বেলা ১১.০৫ ঘটিকা ধারা- 379 The Penal Code, 1860; এর তদন্তে সন্ধিগ্ধ আসামী ১। আনোয়ার হোসেন (৩২), পিতা-মৃত আজিম উদ্দিন, মাতা-মোছাঃ আনোয়ারা বেগম, সাং-আব্দুল্লাপুর, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ‘কে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই মাজহারুল ইসলাম ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৮৬, তারিখ- ২৬ জুন, ২০২৫; জি আর নং-৫৬৬, তারিখ- ২৬ জুন, ২০২৫; সময়- ০১:১০ ঘটিকা। ধারা- 393/398 The Penal Code, 1860; এজাহারনামীয় আসামী ১। মোঃ আমিনুল @ আমিরুল (২১), পিতা-মৃত দানেশ মিয়া, মাতা-সাহেরা খাতুন, সাং-মাসকান্দা গনসার মোড় (কমির ড্রাইভারের বাসার ভাড়াটিয়া), ২। হাসান (১৯), পিতা-মোঃ মনির হোসেন, মাতা-আলেয়া খাতুন, সাং-পাড়াইল চৌরাস্তা ঘাগড়া (হাবিবের বাড়ী), এ/পি মাসকান্দা গনসার মোড়, উভয় থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ’দের গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই সজীব কোচ কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-৮১, তারিখঃ ২৬/০৬/২০২৫ ইং, ধারাঃ ৪১৯/৪৬৭/ ৪৬৮/৪৭১/৪০৬/৩৪ পেনাল কোড এর এজাহারনামীয় আসামী ০১। মোঃ হানিফ (৫৫), পিতা-মৃত আলা উদ্দিন, সাং- চর দুর্গাপুর, চর খরিচা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ০২। মোঃ আব্দুল মান্নান (৪৬), পিতা-মৃত আলা উদ্দিন, সাং- চর দুর্গাপুর, চর খরিচা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ০৩। মোছাঃ ছালেহা খাতুন (৪৬), পিতা-আলাল উদ্দিন, সাং- চর দুর্গাপুর, চর খরিচা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ০৪। মোছাঃ জহুরা খাতুন (৭০), পিতা-আলা উদ্দিন, সাং- চর দুর্গাপুর, চর খরিচা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, ০৫। জামিনা খাতুন (৫০), স্বামী-শামছুল হক, সাং-মালিডাঙ্গা, থানা-ফুলপুর, জেলা-ময়মনসিংহ, ০৬। মোছাঃ রাশিদা (৫০), স্বামী-আব্দুল মান্নান, সাং-মালিডাঙ্গা, থানা-ফুলপুর, জেলা-ময়মনসিংহে’দের গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এসআই জসীম উদ্দীন ময়মনসিংহ সদর থানার এফআই আর নং-৮৮, তারিখ- ২৬/০৬/২০২৫; ধারা- ২০১৮ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) এর ১৯(ক) এর এজাহারনামীয় আসামী ১। চিনু মিয়া (৪৫), পিতা-মৃত মোছন আলী, মাতা-শাহানা, সাং-পাটগুদাম মদের ডিপো রেলওয়ে কলোনী, ২। মোঃ ফরহাদ (৩৫), পিতা-মোঃ মোকসেদ আলী, মাতা-ফিরাজা বেগম, সাং-১০৫/১ পাটগুদাম, আটানী পুকুরপাড়, ৩। উজ্জল সরকার (৪৫), পিতা-মৃত নিবারন সরকার, মাতা-প্রতিমা রানী, সাং-ভাটিকাশর বড়বাড়ী (আর্মির বাসা), ৪। রানা (৩০), পিতা-মৃত আব্দুস সামাদ, মাতা-তারা বানু, সাং-কৃষ্টপুর আদর্শ কলোনী, সর্ব থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ’দের গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

পরোয়ানা মূলে গ্রেফতার-

এসআই আল আমিন ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,এফআইআর নং-৪০/১৪, তারিখ- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪; জি আর নং-১৪৬/১৪, তারিখ- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪; সময়- ধারা- ৪/৫ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ সংশোধনী ২০০৯; এর পরোয়ানা মূলে আসামী রানা (৩১), পিতা-সামাদ, স্থায়ী : গ্রাম- কৃষ্টপুর (কৃষ্টপুর আদর্শ কলোনী ) , উপজেলা/থানা- কোতোয়ালী মডেল, জেলা -ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ কে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

এএসআই মাহমুদুল হাসান ময়মনসিংহ এর কোতোয়ালী মডেল থানার ,সিআর নং-১৩৩৩/২৩, তারিখ- ১২ মে, ২০২৪; মোছাঃ শারমিনা আক্তার (), পিতা-মোঃ আনিসুর রহমান, স্থায়ী : গ্রাম- বড়বিলা (বড়বিলারপাড়, পো: চুরখাই) , উপজেলা/থানা- কোতোয়ালী মডেল, জেলা -ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ এর পরোয়ানা মূলে আসামী মোছাঃ শারমিনা আক্তার (), পিতা-মোঃ আনিসুর রহমান, স্থায়ী : গ্রাম- বড়বিলা (বড়বিলারপাড়, পো: চুরখাই) , উপজেলা/থানা- কোতোয়ালী মডেল, জেলা -ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ কে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

মেইনটেন্যান্সের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

বিটিসিএলের জরাজীর্ণ তারের জটে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ সচিবালয়

বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩০ পিএম
বিটিসিএলের জরাজীর্ণ তারের জটে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ সচিবালয়

দেশের প্রশাসনিক হৃদপিণ্ড বাংলাদেশ সচিবালয়ে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবার মারাত্মক কারিগরি গাফিলতি এবং জরাজীর্ণ দশা উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের স্পর্শকাতর ভবনগুলোতে দিনের পর দিন পড়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ কেবিনেট তারের জটলা এবং অরক্ষিত নেটওয়ার্ক সংযোগের কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী এবং শীর্ষ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে গভীর কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না, সে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিটিসিএলের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সচিবালয়ের নতুন ১নং ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০টি ফ্লোরজুড়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জিপোনের এমডিইউ, অপটিক্যাল ফাইবার এবং সাধারণ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রিক ক্যাবল একই ডাক্টের ভেতরে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। বিপজ্জনকভাবে ফাইবার ও বিদ্যুতের লাইন একসাথে থাকায় সামান্য বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটেই পুরো ভবনের যোগাযোগ ব্যবস্থা মুহূর্তের মধ্যে অচল হয়ে পড়তে পারে। সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি মন্ত্রণালয় ধারণকারী ৬ নম্বর ভবন, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ধারণকারী ৩ নম্বর ভবনের টেলিফোন কেবিনেটের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এছাড়া স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয় ধারণকারী ৮ নম্বর ভবনের সামনে কেবিনেট থেকে ১১ নম্বর ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দিকে যাওয়া টেলিফোন ও ডেটা লাইনগুলোর তারের জট দেখলে মনে হবে এটি দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং কোনো পরিত্যক্ত স্থাপনা। ৬ নং ভবনের নিচতলায় কেবিনেটগুলোও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

অভিযোগ রয়েছে, কেবিনেটগুলোর ভেতর যেন এক মাকড়সার জাল। ধূলোবালি, মরিচা ও জট পাকানো রঙিন তারের ভিড়ে কোন লাইন কোথায় গেছে তা খুঁজে পাওয়াই দায়। কেবিনেটে নিরাপত্তা কিংবা সুশৃঙ্খল ক্যাবল ম্যানেজমেন্টের কোনো অস্তিত্ব নেই। অনেক ক্ষেত্রে স্যাঁতসেঁতে কাপড়ের টুকরো ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ক্যাবল স্প্লাইসিং করে রাখা হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বলয়ে এমন মারাত্মক কারিগরি গাফিলতি স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয় বলে মনে করছেন নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞরা। এটি কি নিছকই অবহেলা, নাকি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতিসাধন বা বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটানোর জন্য পরিকল্পিত কোনো চক্রান্ত, তা নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

বিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, সচিবালয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রতি বছর মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বিপুল অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে সেই খাতের টাকার সিংহভাগই কাগজ-কলমে খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জহুরুল ইসলামের মদদপুষ্ট বিটিসিএল-এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডিজিএম আনোয়ার পারভেজ এবং সহকারী ম্যানেজার মুরাদ হোসেন। এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মেইনটেন্যান্স ও সংস্কার কাজের ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিটিসিএলের এই সিন্ডিকেট নিয়মিত সংস্কার কাজ না করে জরাজীর্ণ কেবিনেট ফেলে রাখার ফলে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি পুরো সচিবালয় মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেই সাথে সরকারের কোষাগারের বিপুল অর্থ লুটপাট হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ডিজিএম আনোয়ার পারভেজ ইতিপূর্বে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী দপ্তরে সংযুক্তিতে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার নানা প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করে বিটিসিএলে ফেরত পাঠানো হয়। তাছাড়া নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অভিযূক্ত সহকারী ম্যানেজার মুরাদ মুস্তাকিম নামের এক তরুণকে অবৈধভাবে কনিষ্ঠ লাইনম্যান বানিয়ে সচিবালয়ের মতো সুরক্ষিত জায়গায় প্রবেশের সুযোগ করে দেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কাজ করার জন্য তাকে বিশেষ প্রবেশাধিকার বা গ্রীন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার জালিয়াতিও করেন। পরবর্তীতে জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পেলে মুস্তাকিমকে প্রত্যাহার করা হলেও এখনও তাকে মাঝে মাঝে সচিবালয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।

বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সচিবালয় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত স্থান। এখানকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অন্যান্য জরুরি মন্ত্রণালয়ের টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা যদি এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ কেবিনেটের ওপর নির্ভর করে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক স্থবিরতাই নয়, বরং নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিচার এবং ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগগুলো আধুনিকায়ন করা না হলে বিপজ্জনকভাবে ফাইবার ও বিদ্যুতের লাইন একসাথে থাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটেই পুরো ভবনের যোগাযোগ ব্যবস্থা মুহূর্তের মধ্যে অচলাবস্থা হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে বিটিসিএলের অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আলীকদম থানার নারী কনস্টেবল রুবিনার বিরুদ্ধে

বিশেষ প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৪ এম
লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আলীকদম থানার নারী কনস্টেবল রুবিনার বিরুদ্ধে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তিকে পুঁজি করে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও একাধিক পুরুষের সঙ্গে অসংলগ্ন সম্পর্কের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে নারী পুলিশ কনস্টেবল রুবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে। বিয়ে করে সংসার পাতা, বাড়ী নির্মাণ ও কিস্তি পরিশোধের অজুহাতে স্বামী আনোয়ার হোসেনের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন পুরোপুরি চেনা স্বামীকে অচেনা বলে দাবি করছেন তিনি। বর্তমানে বান্দরবানের আলীকদম থানায় কর্মরত এই নারী সদস্যকে ঘিরে খোদ পুলিশ প্রশাসনে তীব্র বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে কর্মরত থাকাকালীন পরিচয় হয় দৈনিক জনবাণী পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। পরিচয়ের পর গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট গাজীপুরে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তারা গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন দক্ষিণ ভোগড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।

ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, বিয়ের পরপরই চতুরতার আশ্রয় নেন রুবিনা আক্তার। ডিপার্টমেন্টের পদোন্নতি পরীক্ষা (এএসআই) দেওয়ার অজুহাতে কাবিননামা রেজিস্ট্রিতে নানাভাবে বিলম্ব করতে থাকেন তিনি। দাম্পত্য জীবনের সুযোগ নিয়ে মাদারীপুরে নিজ বাড়ি নির্মাণ ও কমিউনিটি ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধের কথা বলে স্বামী আনোয়ারের কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন রুবিনা। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও আরও ৩৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় রুবিনার চালচলন ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তার মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফোনে অসংলগ্ন যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর। স্ত্রীর এমন অপকর্ম ও নৈতিকতাবিরোধী আচরণের প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রুবিনা। প্রতারণা সহ্য করতে না পেরে আনোয়ার হোসেন আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও মেলেনি বিচার বা প্রতিকার।

পরবর্তীতে বদলিসূত্রে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানা হয়ে বর্তমানে বান্দরবানের আলীকদম থানায় কর্মরত আছেন রুবিনা। বর্তমানে তিনি তার স্বামীকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন এবং বিয়ের কথা বেমালুম চেপে গিয়ে উল্টো আনোয়ারকে হুমকি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চক্রান্ত করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সব হারিয়ে নিঃস্ব, সুবিচারের আশায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দরজায় ঘুরি। একজন পুলিশ সদস্যের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। সে আমার সংসার ভেঙেছে, লাখ লাখ টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে। আমি যখন তার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারি এবং সত্যের প্রতিবাদ করি, তখনই সে আমাকে পর বানিয়ে দেয়। এখন সব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সে আমাদের বিয়ের কথা অস্বীকার করছে। এমনকি আমাকে নানা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ বিভাগের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষায় এই নারী কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা ও আমার টাকা উদ্ধারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অপরদিকে কনস্টেবল রুবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গফরগাঁওয়ে ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি

রাকিবুল হাসান আহাদ, গফরগাঁও।। প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম
গফরগাঁওয়ে ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের লংগাইর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১১২ নম্বর দত্তন্নপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি বাগবাড়ীতে স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় ‘৪ নম্বর লংগাইর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভোটকেন্দ্রটি আগের স্থানেই বহাল রাখার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ময়মনসিংহের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের ভোটকেন্দ্রটি কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, দত্তন্নপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভৌগোলিক অবস্থান ও নিরাপত্তার দিক থেকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে সুবিধাজনক। এটি স্থানান্তর করা হলে সাধারণ ভোটারদের যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়বে এবং ভোটারদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও পাগলা থানা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মো. রিপন আহম্মেদ। তিনি বলেন, বর্তমান ভোটকেন্দ্রটি ভৌগোলিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে সুবিধাজনক। একটি স্বার্থান্বেষী মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ সময় গফরগাঁও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও লংগাইর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক আনার ঢালী, পাগলা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোখলেসুর রহমান, লংগাইর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফুল আলম উজ্জ্বল এবং ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাছুম হোসেন বক্তব্য দেন।

বক্তারা ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে তা বাতিলের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে বাগবাড়ী এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি জালাল উদ্দিন কিরণ, মুনতাজ উদ্দিন, আবুল হোসেন, মোবারক হোসেন, খোকা ও বাবুল মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী দত্তন্নপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ওয়ার্ডের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। বাগবেড় মৌজার প্রায় ২ হাজার ২০০ ভোটার দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, কেন্দ্রটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে ভোটারদের দুর্ভোগ বাড়বে।

ভোটারদের অবাধ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ১১২ নম্বর দত্তন্নপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।