মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ১৪৩২

ময়মনসিংহে বিআরটিসি বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ; নিহত-৩

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫, ৮:৪৩ পিএম
ময়মনসিংহে বিআরটিসি বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ; নিহত-৩

বুধবার (২৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ও মাহিন্দ্রের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও চারজন।

নিহতদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছে। নিহতরা হলেন- ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পায়কুড়া বাজার এলাকার আব্দুল সোবহান (৬৫) ও তার ছেলে মো. সবুজ (৩৫), একই উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের দরিপাতাসি গ্রামের কহিনুর সুলতানা (৩৬)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাম প্রাসাদ পাল বলেন, যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাসটি ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ১ নম্বর মোড় এলাকা পর্যন্ত আসতেই বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। এসময় স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আরও চারজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছে

ময়মনসিংহের দাপুনিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের রাজত্ব: খাস জমি বন্দোবস্তে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহের দাপুনিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের রাজত্ব: খাস জমি বন্দোবস্তে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া, খাজনা ও নামজারি সংক্রান্ত কাজে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) শফিকুল ইসলাম। তার এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির খাজনা পরিশোধ থেকে শুরু করে নামজারি, জমাভাগ, পর্চা (খসড়া) উত্তোলনসহ প্রায় প্রতিটি কাজেই নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। কেউ জমির খাজনা দিতে গেলে যেখানে সরকারি খরচ কয়েকশ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা, সেখানে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ঈদুল ফিতরের আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনিকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দাপুনিয়া ভূমি অফিসে দালালদের মাধ্যমে কাজ না করলে কোনো ফাইলই অগ্রসর হয় না। দালালদের সঙ্গে পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী ফাইলে বিশেষ ‘সাংকেতিক চিহ্ন’ না থাকলে নানা অজুহাতে আবেদন বাতিল বা দীর্ঘদিন ফাইল আটকে রাখা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

সূত্র জানায়, ইউনিয়নের সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে টাকার বিনিময়ে সচ্ছল ও প্রভাবশালীদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা পেতে হলে তার সঙ্গে ‘চুক্তি’ অনুযায়ী অর্থ প্রদান করতে হয়। অন্যথায় ফাইল আটকে রাখা, অযথা দেরি করা কিংবা আবেদন বাতিল করার মতো নানা হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া বাড়তি টাকা আদায়ের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবকিছু জেনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে শফিকুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার ময়লাকান্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবায় ঘুষ গ্রহণ এবং টাকার বিনিময়ে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

ইউনিয়নের এক সাবেক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ময়লাকান্দা ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালীন শফিকুল ইসলামের কাছে সেবা নিতে গেলে তার চাহিদামতো টাকা না দিলে কোনো কাজই হতো না। ময়লাকান্দা বাজারের কিছু সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেই বন্দোবস্ত পাননি, এমনকি নেওয়া টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় নায়েব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ময়মনসিংহে লরির সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষ: কলেজ প্রভাষকসহ নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৬ পিএম
ময়মনসিংহে লরির সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষ: কলেজ প্রভাষকসহ নিহত ২

ময়মনসিংহে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের এক প্রভাষকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ব্যস্ত সড়ক।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর প্রায় ২টার দিকে সদর উপজেলার ময়মনসিংহ–ফুলবাড়িয়া সড়কের দাপুনিয়া এলাকার সুহিলা বাগানবাড়ি কাওয়ালটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ভালুকা উপজেলার মরচী গ্রামের বাসিন্দা ও ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সারোয়ার কাইয়ুম এবং ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিয়া গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে শিপা আক্তার (৩২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়া থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাপুনিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রভাষক সারোয়ার কাইয়ুম নিহত হন। এতে অটোরিকশার অন্য যাত্রীরাও গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিপা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, “আহতদের হাসপাতালে আনার পর শিপা আক্তার নামে এক নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. খালিদ হাসান বলেন, “অটোরিকশা ও লরির সংঘর্ষে নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ

ময়মনসিংহ নগরীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলামের নির্দেশনায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১নং ফাঁড়ির এসআই মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ও এটিএসআই মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামি তুষার ও জামালকে আটক করেন।

এসময় তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের কোতোয়ালী মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য মাদক কারবারিদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।