বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

বালু খেকো আ’লীগের দোষরদের চক্রান্তে পরাস্ত হলেন, ময়মনসিংহে ছাত্রদল নেতা জনি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫, ১২:১১ পিএম
বালু খেকো আ’লীগের দোষরদের চক্রান্তে পরাস্ত হলেন, ময়মনসিংহে ছাত্রদল নেতা জনি

সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা টাকা বিনিময়ে সৃষ্ট কূটকৌশলের কাছে পরাস্ত যুগ যুগ ধরে। তেমনি আওয়ামী লীগের দোষরদের টাকা বিনিময়ে অপতৎপরতার কাছে পরাস্ত হলেন ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদল নেতা সামী পাটুয়ারী জনি।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার ছাত্রদল নেতা জনি পাটোয়ারী নিজের ভাড়াকৃত জমি রক্ষা করতে গিয়ে কতিপয় অবৈধ বালু খেকোদের ভুল তথ্যে কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহের দৃষ্টিতে পরেন। হন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে অপরাধী, হারিয়েছেন নিজ দলের আস্থা। কোন প্রকার যাচাই বা আত্মপক্ষ সমর্থন ছাড়াই পেয়েছে দল থেকে বহিষ্কার পত্র।

ময়মনসিংহে রাজনৈতিক আড্ডা মাতিয়ে বেড়াচ্ছে আ’লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় ধাব্রিয়ে বেড়ানো বালু খেকোদের কূটকৌশলের গল্প। বেড়িয়ে আসতে থাকে কিভাবে সত্যকে আড়ালে রেখে সফল হয়েছে চক্রটি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানাযায়, গত বছর ব্যবসায়ী প্রয়োজনে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার চরঈশ্বরদিয়া মৌজার আরওআর ১২৫৩ নং দাগ এবং বিআরএস ৩২৭৬ ও ৩২৮০ নং দাগের ভুমির মালিক মোঃ জহিরুল ইসলাম (রতন), পিতাঃ- নুরুল ইসলাম, ঠিকানা- ৮ নং কালীবাড়ী বাইলেন, থানা- কোতোয়ালী মডেল, জেলা- ময়মনসিংহ এবং ১ম পক্ষ:- শিপুল সরকার, পিতা:- দেবেশ সরকার, মাতা- চঞ্চলা সরকার, বর্তমান ঠিকানা- ১৭৯ কালী বাড়ী রোড, থানা-সদর-২২০০, জেলা-ময়মনসিংহ, স্থায়ী ঠিকানা- রামগোপালপুর, থানা-গৌরিপুর-২২৭১, জেলা-ময়মনসিংহ এর নিকট থেকে বিগত ২২/১০/২০২৪ ইং তারিখে ৩(তিন) বছর মেয়াদি চুক্তি পত্রের মাধ্যমে (খালি জমি) ভাড়া নেয় মো. সামি পাটোয়ারী জনি, পিতাঃ- আজিজ পাটুয়ারি, সাং- ৪৬ নং থানার ঘাট, থানা- কোতোয়ালী মডেল জেলা- ময়মনসিংহ। চুক্তি পত্রে উল্লেখিত ভুমিতে কতিপয় রাজনৈতিক লেবাসধারী বালু খেকোদের অপতৎপরতা বাধা দিতে গিয়ে বিপত্তির কারণ হন এবং চক্রান্তকারীদের রোষানলে পরেন ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সামি পাটোয়ারী জনি’কে। বালু খেকোদের অপকৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহের দৃষ্টিতে পরেন এবং তাকেই হতে হয় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে অপরাধী। কোন প্রকার যাচাই বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিন্ধান্তে পেয়ে যান বহিষ্কার পত্র। বহুদলীয় লেবাস ধারনকারী বালু খেকোরা পেয়ে যায় অবাধ বিচরনের সফলতা।

অপরদিকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামে দলীয় সিন্ধান্তের প্রতি সচেষ্ট নিজের অবিচল ত্যাগ এবং কারাবরণের অবদান হয়েছে চক্রান্তকারীদের কৌশলের কাছে পদদলিত। দলবাজ বালু খেকোদের চক্রান্তে সামি পাটুয়ারী জনি হারিয়েছেন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আদর্শিক স্বপ্ন।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ সহ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বিষয়ে সামী পাটোয়ারী জনি কাছে জানতে তিনি বলেন, নিজের সম্পদ রক্ষা করা বা নিজ স্বার্থ রক্ষা করা প্রতিটি মানুষের দ্বায়িত্ব । আমি আমার সম্পদ তছরুপ কারীদের হাত রক্ষা করা আমার দ্বায়িত্ব বা অধিকার। সে জন্য কতিপয় প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আমার উপর শৃঙ্খলা ভঙ্গের ব্যবস্থা নিয়েছে, উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ তা পুর্নমুল্যায়ন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি আরো বলেন, সমাজে কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি বা চক্র অন্যের ক্ষতি করার জন্য প্রস্তুত থাকে। তেমনি ভাবে কতিপয় ব্যক্তি বা চক্র আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিক এবং রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করেছে। মিথ্যে দিয়ে সত্যকে ধাবিত করা যায় না। তবে চক্রটি আমার যে ক্ষতি করেছে তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো। আমার রাজনৈতিক ত্যাগ দলীয় নেতৃবৃন্দ বিবেচনায় নেবেন এটা আমি বিশ্বাস করি।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।