শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

হালুয়াঘাটে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাদাবীর অভিযোগ || বিচার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ 

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ২:৫৭ পিএম
হালুয়াঘাটে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাদাবীর অভিযোগ || বিচার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ 

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে শাকুয়াই ইউনিয়নে সোনাই বিলে মাছ চাষীদের কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস ও তার অনুসারী এমদাদুল হক, আলমগীর হোসেন, আবুল হোসেন, আবুল কালাম ও রুহুল আমীন গংদের বিরুদ্ধে।

গতকাল (১০ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে চেয়ারম্যান ইউনুসকে আওয়ামী দোসর ও চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে সোনাই বিলের পাড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিচার দাবী করেন ভূমির মালিক ও মাছ চাষীরা।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভূমির মালিক ও মাছ চাষীরা অভিযোগ করে বলেন, বিসমিল্লাহ মৎস্য খামারের সত্ত্বাধিকারী কামরুজ্জামান মাছ চাষে প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পর ১০ লাখ টাকা দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের হুমকি প্রদান করে এবং সোনাই বিলে মাছ চাষী কামরুজ্জামানকে মারধর করার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার চেষ্টা করে। পরে ভুমির মালিক ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রানে বেঁচে যায়।

এসময় ভুমি মালিকরা বলে এই ভূমি ভাড়া দিয়ে আমরা সংসার চালাই, সন্তানদের লেখা পড়ার খরচ জোগাড় করি, মাছ চাষ করতে না পারলে আমরা চলব কিভাবে? বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, চেয়ারম্যান ইউনুস আওয়ামী লীগের দোসর, আমরা তার অপসারণসহ বিচার দাবী করছি।

অপরদিকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন সোনাই বিলে চেয়ারম্যান ইউনুসের লোকজনকে নৌকা দিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়।

মাছ চাষী বিসমিল্লাহ মৎস্য খামারের সত্ত্বাধিকারী কামরুজ্জামান বলেন, সোনাই বিলের ভূমির মালিকদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ একর ভূমি ৩শত টাকার স্ট্যাম্পে মাছ চাষের জন্য ভাড়া নিয়েছি। মাছ ছাড়ার পর থেকেই চেয়ারম্যান ইউনুস ও তার লোকজন ১০লাখ টাকা চাঁদা দাবী করছে। দাবীকৃত চাঁদার টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে আমি তাদের জন্য বিলে যেতে পারছিনা। প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি মাছ চাষ করতে না পারলে পথে বসে যাব।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনুস চেয়ারম্যানের মুঠোফোন যোগাযোগ করলে তিনি চাঁদাদাবীর বিষয় অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে একটি পক্ষ বিচার নিয়ে এসেছে আমি সমাধানের চেষ্টা করছি। আমি বিএনপির রাজনীতি করি, আওয়ামী লীগ করিনা। নৌকার মিছিল মিটিং এর ভিডিও চিত্রের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখন নৌকার মিছিল মিটিং করেছি ইউনিয়নের লোকজনকে ভালো রাখার জন্য, এলাকার উন্নয়নের জন্য। এখন বিএনপি করেন কি এলাকার লোকজনকে ভালো রাখার জন্য এমন প্রশ্নের জবাবে ইতস্থতা বোধ করে তিনি বলেন, আমি উপজেলা বিএনপি’র সদস্য, আমার বাবাও বিএনপি করতেন।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, শাকুয়াই ইউনিয়নে সোনাই বিল নিয়ে কামাল এবং এলাকাবাসীর মাঝে একটা বিরোধ আছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে কামাল ফিসারীতে আসলে ভয়ভীতি হুমকি প্রদর্শন করে মর্মে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালতে অনুমতি নিয়ে এসে তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দু’পক্ষকে নিয়ে বসার কথা, বসে আগে দুপক্ষের কথা শুনে সমাধান করব।

ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে এসআই শাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মুক্তা, তামান্না ও রুনা নামের তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ শিবিরুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ এম
ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের একাংশে খাস হালট জমি দখল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ দখল কার্যক্রমের ফলে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা খাস জমি দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে করে খালটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। খালটি বালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি বহন করে পাশের ঢাকুয়া ইউনিয়নে পৌঁছে দেয়, যা পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাল ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পড়েছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল খালটি পুনরুদ্ধার এবং দখলমুক্ত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।

ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আকুয়া মড়লপাড়া এলাকায় এক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বর্তমানে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সুলতানা হাফিজুন নাহার তার স্বামী শফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আলীপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. মাসুদ রানার সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গার্মেন্টস পণ্যের শিপমেন্ট ব্যবসায় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ৩ মে ও ৫ জুন দুই দফায় মোট ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে মূল টাকা ও লভ্যাংশসহ মোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছেন বলেও দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাওনা টাকা চাইতে ফোন করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, একদিকে তারা অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন, অন্যদিকে অভিযুক্তের হুমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কোতোয়ালী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।