শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

স্ত্রীর শাড়ি পুড়িয়ে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ‘ডাক’ রিজভীর

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৬:১৫ পিএম
স্ত্রীর শাড়ি পুড়িয়ে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ‘ডাক’ রিজভীর

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমননা এবং আগরতলায় উপ-হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে ‘ভারতীয় পণ্য বর্জনে’র আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক অনুষ্ঠানে রিজভী নিজের স্ত্রী আরজুমান আরা বেগমের দেওয়া ভারতীয় শাড়ি নিজের হাতে ছুড়ে ফেলে দেন। পরে নেতাকর্মীরা সেই শাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। রিজভী বলেন, ‘যারা আমার দেশের পতাকাকে নেমে ছিঁড়ে দেয়… আমরা তাদের দেশের পণ্য বর্জন করব। আমরা তাদের দেশের যে শাড়ি কিনতো আমাদের মা-বোন-স্ত্রীরা; তারা আর ভারতীয় শাড়ি কিনবে না। তারা ভারতের সাবান কিনবে না, তারা ভারতের টুথপেস্ট কিনবে না, তারা ভারতের কোনো কিছু কিনবে না।’ ‘আমার দেশ আমরা স্বনির্ভর। আমার এখানে পেঁয়াজ হয়… ভারতের পেঁয়াজের চাইতে আমাদের পেঁয়াজের ঝাঁজ অনেক বেশি, ভারতের মরিচের চাইতে আমাদের মরিচের ঝাল অনেক বেশি… আমাদের যদি জায়গা না থাকে আমরা ছাদের ওপরে মরিচ লাগাব, আমরা বাড়ির উঠানের মধ্যে পেঁপে গাছ লাগাব… তাই আমরা এদের (ভারত) মুখাপেক্ষী হবো না… আমরা ভারতীয় পণ্য বর্জন করব ‘

 

ইন্ডিয়ার শাড়ি ছুড়ে ফেলে দিলেন রিজভী

 

রিজভী বলেন, ‘একটি পুরনো শাড়ি আমার বাসায় আমার স্ত্রীর ছিলো… আমার স্ত্রী আমাকে দিয়েছে একটি ইন্ডিয়ান শাড়ি… আমি বলেছি আজকে এটা দিয়ে দাও.. সে এটা দিয়ে দিয়েছে। এই সেই ইন্ডিয়ান শাড়ি আমার স্ত্রী সে নিজেই এই শাড়ি দিয়েছে এটা আজকে আপনাদের সামনে আমি ছুড়ে ফেললাম (ছুড়ে ফেলে দিলে কর্মীরা ভারতবিরোধী শ্লোগান দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন)… আর কোনো ভারতীয় শাড়ি নয়।’

 

‘আমরা টাঙ্গাইলের শাড়ি পড়ব, আমরা রাজশাহীর সিল্ক পড়ব, আমরা কুমিল্লার খদ্দর পড়ব,’ বলেন বিএনপির সিনিয়র নেতা।

 

এ সময় কর্মীরা শ্লোগান দিতে থাকেন, ‘বয়কট বয়কট, ভারতীয় পণ্য বয়কট’।

 

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশীয় পণ্য কিনে হও ধন্য’ ব্যানারে ভারতীয় পণ্য বর্জন ও দেশী পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

রিজভী বলেন, ‘আপনারা একটু দেবেন… আপনাদের ওপর মুখাপেক্ষী থাকব এটা ভাবার কারণ নাই। যে আপনারা একটু দেবেন আর বলবেন তা শুনতে হবে… এটা দুই-একজন হাসিনার মতো লোক বলতে পারে… কিন্তু কোটি কোটি বাংলাদেশের মানুষ এটা করবে না।’

 

‘তবে আমার দেশের জনগণকে বলব, ওরা যে বাংলাদেশের লুণ্ঠন করার চেষ্টা করেছে, ওরা যে বাংলাদেশের পতাকা পুড়িয়েছে, আমাদের মর্যাদাহানি করার চেষ্টা করেছে… আমরা ভারতের পতাকাকে লাঞ্ছিত করব না, আমরা আরেকটা স্বাধীন দেশের মর্যাদাকে ছোট করব না… আমরা প্রত্যেক জাতির যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সেটিকে আমরা অসন্মান করব না… আমরা ওদের মতো ছোটলোকি করব না। আমরা ওদের দেশের পতাকাকে সন্মান করব কিন্তু ওদের পণ্য বর্জন করব।’একবেলা খেয়ে থাকব, আর মাথানত নয়

 

ভারতীয়দের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করছো… তোমরা আমাদেরকে পছন্দ করো না। তারপরও তোমাদের জিনিস আমাদের কিনতে হবে?’

 

‘বাংলাদেশের মানুষ তো মাথানত করার মানুষ না। আমরা এক বেলা খেয়ে থাকব… তারপরও আমরা মাথানত করবো না।’

 

আপনারা কি বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেন?

 

রিজভী বলেন, ‘তারা নাকি বলে ভারতের অনেক সাংবাদিক, অনেক রাজনৈতিক নেতা তারা বলেন যে, আমাদের (ভারতে) এখানে না আসলে আপনাদের (বাংলাদেশের মানুষের) চিকিৎসা হয় না। আমি প্রশ্ন করি, আরে আপনারা কি বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেন… আপনারা কি বিনা টাকায় এক কাপ চা খাওয়ান… এই নজির তো নাই আপনাদের।’

 

‘বাংলাদেশের লোক ডলার খরচ করে ওখানে গিয়ে। এখন কলকাতার নিউ মার্কেট বন্ধ, দোকান পাট বন্ধ সেখানে আর কোনো খরিদদার নাই… আমাদের ডলারে বাজার সদাই কেনা হতো।’তিনি বলেন, ‘ওখানের একজন ডাক্তার নাকি বলেছেন, এবার বাংলাদেশের রোগী আসলে সেখানে ভারতীয় পতাকা এমনভাবে রাখা হবে যেন তারা মাথা নিচু করে ঢুকে। আপনারা বাংলাদেশের মানুষকে চিনেন না… আপনারা অনেক জাতিকে সেখানে (ভারতে) পদানত করে রেখেছেন যারা স্বাধীনতা চায়.. এগুলো আপনাদের বিষয় আমরা কিছু বলতে চাই না।’

 

‘কিন্তু বাংলাদেশের মানুষকে চিনেন না। ওই পশ্চিম পাকিস্তানি পাঞ্জাবিরাও কিন্তু এদেশের মানুষকে… লুঙ্গি পরা মানুষ হাতে স্ট্যান্ড গান নিয়ে নদী সাঁতরে ওই পাকিস্তানিতে পরাভূত করেছে। নদীনালার দেশ, খাল-বিলের দেশ, বন্যা-খরার দেশ আমরা কি করে এই অবস্থায় শত্রুদের প্রতিরোধ করতে হয় সেটা আমরা জানি।’

 

তারা নিষ্ঠুর হাসিনাকে পছন্দ করে, বাংলাদেশকে নয়

 

রিজভী বলেন, ‘তারা(ভারত) নিষ্ঠুর হাসিনাকে পছন্দ করে, বাংলাদেশের মানুষকে পছন্দ করে না। বাংলাদেশ টিকে থাকুক এটা তারা চায় না। আজকে তারা নানা ধরনের উস্কানি দিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে.. বাংলাদেশের ভেতরে।’‘কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাদের উস্কানিতে পা দেয়নি। দুই-একটা গোষ্ঠী থাকতে পারে…তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে, তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে উন্মোচিত হয়ে গেছে… পার্শ্ববর্তী দেশ যে আমাদের এখানে উস্কানি দিতে পারে এটা গোটা জাতি ধরে ফেলেছে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর যে ঐক্য এটা ইস্পাত কঠিন ঐক্য; এই ঐক্যকে কেউ ভাঙতে পারবে না।’

 

‘আগরতলায় উপ-হাইকমিশন প্রসঙ্গে

 

রিজভী বলেন, ‘সেখানে একদল উগ্রবাদী মানুষ জোরপূর্বক বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশন তার ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে আমাদের কর্মচারীকে আঘাত করেছে, আমাদের জাতীয় পতাকা যেটা পত পত করে উড়ছিলো সেটার স্ট্যান্ড ভেঙে আমাদের পতাকাকে তারা ছিঁড়েছে। কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশনে গিয়ে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আজে-বাজে বলেছে… বোম্বের ডেপুটি হাইকমিশনে গিয়ে তারা বলেছে… আমরা তাদের নানাবিধ বাংলাদেশবিরোধী প্রচার আমরা দেখছি।’

 

‘বাংলাদেশ সরকার আগরতলায় ভিসা বন্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে… এটা সঠিক সিদ্ধান্ত।’

 

ভারতীয় পণ্য বর্জনের এই অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্য সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাহিদুল কবির, জাহাঙ্গীর আলম, তৌহিদুর রহমান আউয়ালও বক্তব্য রাখেন।

‎আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সার্জেন্ট মুহিবের পুলিশের পোশাকে পরিবহন বাণিজ্য !

‎এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৬ পিএম
‎আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সার্জেন্ট মুহিবের পুলিশের পোশাকে পরিবহন বাণিজ্য !

‎আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পবিত্র দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক ব্যবসায় লিপ্ত হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন তথ্য সামনে এসেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সার্জেন্ট অব পুলিশ হিসেবে বর্তমানে কর্মরত সরদার মুহিব-এর বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশার ব্যবসা পরিচালনার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্যের এমন বেআইনি কর্মকাণ্ডে সরকারি চাকুরির শৃঙ্খলা ও পেশাগত নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন ঘটেছে বলে মনে করছেন আইনি বিশ্লেষকরা।

‎জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের অধীনে রাজধানীর টিটিপাড়া মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ ঢাকা মেট্রো দ-১১-১১৬০ নম্বরের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা গতিরোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলার পর বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। অটোরিকশাটির দুই পাশে সরদার পরিবহন নামের ব্যানার ছিল।

‎কাগজপত্র চাওয়ামাত্রই চালক খোকন দাবি করেন, এই গাড়ির প্রকৃত মালিক সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সার্জেন্ট সরদার মুহিব এবং সমস্ত মূল কাগজপত্র তাঁর কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পেশাদার সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেন।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিব এর আগে ঢাকায় কর্মরত থাকাকালীন সময়েও প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ২০/২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ক্রয় করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রাস্তায় নামান। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে প্রকাশ্যে আইন অমান্য করে সিএনজি ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

‎পরিবহন খাত ও অটোমোবাইল বাজার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে একটি নতুন সিএনজিচালিত অটোরিকশার প্রকৃত আনুমানিক মূল ইঞ্জিন ও বডি তৈরির খরচ সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা। তবে রাজধানীতে নতুন নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) বন্ধ থাকায় রুট পারমিট ও রেজিস্ট্রেশনসহ একটি বাণিজ্যিক সিএনজি অটোরিকশার বাজার দর বর্তমানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই হিসাবে অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিবের নিয়ন্ত্রণে থাকা আনুমানিক ২০-২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার আনুমানিক বহরের বাজার মূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকার ওপরে, যা একজন সরকারি চাকুরিজীবীর বৈধ আয়ের উৎসের সাথে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ ও সন্দেহজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মচারী এবং বিশেষ করে শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যের সরাসরি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া স্পষ্টত বেআইনি।১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট অনুমতি ব্যতীত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য অন্য কোনো পদে নিয়োজিত হতে পারবেন না কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো প্রকার বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন না। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরকারের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনো মুনাফাভিত্তিক পেশায় যুক্ত হতে পারেন না। সার্জেন্ট অব পুলিশ পদে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) তে কর্মরত থেকে পরিহন খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই যখন বাণিজ্যিক পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক বা মালিক হিসেবে আবির্ভূত হন, তখন সড়কের শৃঙ্খলা বিধান ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

‎পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করা কেবল বেআইনিই নয়, বরং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের সরাসরি সুযোগ তৈরি করে। এ ধরনের অসদাচরণ ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও ভাবমর্যাদা সাধারণ মানুষের কাছে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বিধিমালা অনুসরণে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিবের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

‎ঘটনার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সার্জেন্ট সরদার মুহিব সিএনজি চালিত অটোরিকশার মালিকানার বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তবে, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ১০ ধারা অমান্য করে কীভাবে তিনি এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন-এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারেননি।

মিঠামইনে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গণমিছিলের ডাক

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৯ এম
মিঠামইনে বিএনপি নেতা  জাহাঙ্গীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গণমিছিলের ডাক

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও গণমিছিলের ডাক দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। আগামীকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় মিঠামইন বাজার থেকে এ গণমিছিল শুরু হবে।

উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির পক্ষ থেকে প্রচারিত পোস্টার ও প্রচারণার মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে শহীদ এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে দলের নেতা ও অহংকার উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

কর্মসূচিতে মিঠামইন উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের যথাসময়ে মিঠামইন বাজারে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলটির নেতাকর্মীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, ‘আমাদের সবার প্রিয় নেতা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হত্যার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতেই শনিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।’

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আফতাব উদ্দীন ভূইয়া বলেন, ‘আমরা আমাদের সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় এ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমরা চাই, আমাদের নেতা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাই গ্রেপ্তার হোক এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। শনিবারের কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মিঠামইনে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের মতবিনিময় সভা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম
মিঠামইনে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের মতবিনিময় সভা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নরিছলান ইসলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

সভায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সাফিউর রহমান শাফি, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন ও উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। এ সময় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন থেকে আসা শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজের একটি অংশ মাদকের ভয়াবহ ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রধান আলোচক অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক কারবারিরা অধিক মুনাফার লোভে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করে যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। জীবনের শেষ বয়সে এসে যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে নেমেছি।’

সভায় বক্তারা মিঠামইনকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজের সমন্বয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁরা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলে তরুণ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।