মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ফের মাইনাস টু ফর্মুলা ষড়যন্ত্র

এবারের টার্গেট খালেদা জিয়া-তারেক রহমান

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৩:৩২ পিএম
এবারের টার্গেট খালেদা জিয়া-তারেক রহমান

ওয়ান-ইলেভেনে ‘মাইনাস টু’ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে দেশবিরোধী স্বার্থান্বেষী মহল আবারও একই ফর্মুলা নিয়ে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী পালিয়ে যাওয়ার কারণে ষড়যন্ত্রকারীদের এবারের টার্গেট খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। দেশ রাজনীতিশূন্য এবং দেশে বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীদের ‘ধ্বংস’ করতে ভারতীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নই এবারের লক্ষ্য। আর এ বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সচেতন নাগরিকরা বিক্ষোভ করেছেন।

 

কারওয়ান বাজারে অবস্থিত একটি জাতীয় বাংলা দৈনিক অফিসের সামনে গরু জবাই করেছে। তাদের ‘র’-এর এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে বিচার দাবি করেছে। ২০০৭ সালের ১১ জুন বাংলা পত্রিকাটির সম্পাদক মাইনাস টু ফর্মুলা হিসেবে লিখেছিলেন ‘দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে’। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক বক্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় আসে মাইনাস টু ফর্মুলা। তিনি বলেছেন, ‘মাইনাস টু ফর্মুলা নিয়ে কেউ যেন আবার চিন্তা না করেন। অথবা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিএনপিকে বাদ দিয়ে কোনো ষড়যন্ত্রে যেন লিপ্ত না হন।’ মাইনাস-২ ফর্মুলার বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করার পর বিষয়টি নিয়ে দলটির ভেতরে ও বাইরে নানা ধরনের আলোচনাও শুরু হয়েছে। খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখা বা তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি করার মতো বিষয় আছে কি না-বিবিসির এমন প্রশ্নে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এমন দুরভিসন্ধি কেউ পোষণ করতে পারেন। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না। বরং আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে পারি, বাংলাদেশে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বাইপাস করে কিছু হবে না।’

এবারের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ও এর নেত্রী শেখ হাসিনা উৎখাত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এর পর থেকে বিএনপি দ্রুততম সময়ে নির্বাচন দাবি করে আসছে। তবে সরকারের দিক থেকে বারবারই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর। অন্যদিকে আন্দোলনকারী অনেকেই আকার-ইঙ্গিতে বলার চেষ্টা করছেন, ‘আগে সংস্কার, তারপর নির্বাচন।’ পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনগুলোও কাজ করে যাচ্ছে; যার মধ্যে সংবিধান, পুলিশ ও প্রশাসন সংস্কারের মতো কমিশন রয়েছে। বিতর্কিত ওই জাতীয় দৈনিকটির অ্যাজেন্ডা হলো নির্বাচন বিলম্বিত করে তাদের কলামিস্টরাই যেন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকেন। উল্লেখ্য, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারে যাঁরা উপদেষ্টা, তাঁদের অনেকেই প্রথম আলোর কলামিস্ট। সে কারণে দেশবাসী মনে করছে, ওই পত্রিকাটি বর্তমান সরকারকে পরিচালিত করছে।

 

প্রসঙ্গত, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কবে নাগাদ দেশে ফিরতে পারবেন তা-ও এখনো দলটি নিশ্চিত হতে পারেনি। কিছু মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেলেও সব আইনি বাধা অপসারণে প্রশাসনিক ধীরগতিতে দলের অনেকের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের কারো কারো বক্তৃতাও বিএনপিকে ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন দলের নেতারা। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রথম আলো সম্পাদক দেশকে রাজনীতি ও রাজনীতিকশূন্য করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু তাঁর সেই গর্হিত অপকর্মের কোনো বিচার হয়নি। রাজনীতি থেকে দেশের প্রধান দুই নারীনেত্রীকে সরিয়ে দিতে খোদ প্রথম আলো সম্পাদক নিজেই কলম ধরেছিলেন। সে সময় দিনের পর দিন ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নিয়ে প্রথম আলোয় সম্পাদকীয় লেখা হয়। রাজনীতি থেকে রাজনীতিকদের উচ্ছেদ করে সুশীল সমাজের অংশ বলে পরিচিত এলিট নাগরিকদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালিয়েছে প্রথম আলো। দেশের ললাটে অকার্যকর রাষ্ট্রের তকমা এঁটে দিতে ও বিভিন্ন উসকানি এবং নেতিবাচক প্রচারণার মধ্য দিয়ে অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসাতে উৎসাহ জুগিয়েছে মতিউর রহমান সম্পাদিত বিতর্কিত দৈনিকটি। দেশের শিল্পপতি-ব্যবসায়ীদের হয়রানিও এর অন্যতম কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম আলো দেশে একাধিকবার অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করলেও বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রথম আলো সূক্ষ্মভাবে তাদের ফান ম্যাগাজিন ‘আলপিন’-এর মাধ্যমে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গ কৌতুক প্রকাশ করে। এতে সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ধর্মপ্রাণ মানুষ প্রথম আলো সম্পাদককে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এক সালিস বৈঠকে তিনি বায়তুল মোকাররম মসজিদের তৎকালীন খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের কাছে তাওবা পড়ে ও করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যান। বিভিন্ন পত্রিকায় মতিউর রহমানের সেই করজোড়ে তাওবার ছবিও পরদিন প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন দুই প্রধান নেত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে জেলে নেওয়ার পর ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র আলোচনা জোরদার হয়েছিল। তখন তাঁদের দলসহ অনেকেই অভিযোগ করেছিল, ‘দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’; যা পরে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

ফুলবাড়ীয়ায় নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

রিফাত আহমেদ রিজভী, স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পিএম
ফুলবাড়ীয়ায় নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক উইমেন্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এ অসাধারণ ও সাহসী নৈপুণ্য প্রদর্শন করায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সাথে নারী ফুটবলারদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বিশেষ শিক্ষা সামগ্রী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের খেলায় অংশ নেয় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নারী ফুটবল দল। কে এন বি এস যুব ফুটবল একাডেমির পরিচালক সার্জন বিপ্লবের কোচিং ও নির্দেশনায় পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল খেলা উপহার দেয় দলের মেয়েরা। অত্যন্ত টানটান উত্তেজনার ম্যাচটিতে টাইব্রেকারে মাত্র ১ গোলের ব্যবধানে ফুলবাড়ীয়া দল পরাজিত হলেও, খেলোয়াড়দের অদম্য সাহসিকতা ও মাঠের পারফরম্যান্স জেলা জুড়ে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

খেলোয়াড়দের এই উদ্যম ও অদম্য সাহসিকতাকে উৎসাহিত করতে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্বউদ্যোগে তাঁর কার্যালয়ে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এ সময় তিনি বিজয়ী মনোভাব নিয়ে লড়াই করা নারী ফুটবলারদের হাতে বিশেষ স্মারক উপহার হিসেবে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।

শিক্ষা সামগ্রী প্রদানকালে ইউএনও তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফুটবলারদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মাঠের এই লড়াই ও সাহস আমাদের গর্বিত করেছে। একই সাথে ক্রীড়া ক্ষেত্রের সাফল্যের পাশাপাশি লেখাপড়ার প্রতি সমানভাবে মনোযোগ প্রদান করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ ইমরান হাসান এবং ক্রীড়া সংস্থার সদস্য রমি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের সেরা ওসি ধোবাউড়ার শফিকুল ‎

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৪ পিএম
‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের সেরা ওসি ধোবাউড়ার শফিকুল  ‎

‎ময়মনসিংহ রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম। সোমবার অনুষ্ঠিত এই সভায় রেঞ্জের নিয়মিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তাদের হাতে এই স্বীকৃতি ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা। পর্যালোচনা সভায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রেঞ্জের বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মামলা নিষ্পত্তি, ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ওয়ারেন্ট তামিলসহ দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য তাদের এই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‎শ্রেষ্ঠ ওসির স্বীকৃতি পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, যেকোনো স্বীকৃতিই কাজের মূল্যায়ন এবং এটি দায়িত্ব পালনে পেশাগত উৎসাহ ও কর্মস্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই অর্জনের পেছনে ধোবাউড়া থানার প্রতিটি সহকর্মীর নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক সহযোগিতা রয়েছে। তাই এই অর্জন আমি থানার সব সহকর্মীর প্রতি উৎসর্গ করছি।

‎তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে তিনি ও তাঁর পুরো টিম ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চান।

হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়, অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

চালা উড়ে গেছে, উপড়ে পড়েছে গাছ-বিদ্যুতের খুঁটি; তিন ট্রান্সফরমার নষ্ট, আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ পিএম
চালা উড়ে গেছে, উপড়ে পড়েছে গাছ-বিদ্যুতের খুঁটি; তিন ট্রান্সফরমার নষ্ট, আহত ৩

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে বসতঘরের টিনের চালা উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি ট্রান্সফরমার। এতে উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের গোরকপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ঝড়ে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধুরাইল ইউনিয়নের পশ্চিম পাবিয়াজুরী ও গোরকপুর এলাকায় আকস্মিক ঝড়টি আঘাত হানে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ে এলাকার বহু বসতঘরের চালা উড়ে যায়। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও সবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিম পাবিয়াজুরীর সুমন চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে গোরকপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা গাছ সরিয়ে সড়কটি সচল করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে গোরকপুর এলাকায় তিনটি ট্রান্সফরমার ও কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঝড়ের পর থেকেই বিদ্যুৎহীন রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোরকপুর উত্তরপাড়া এলাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলামের বসতঘর ও রান্নাঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে ঘরের বিভিন্ন অংশ। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে টিন ও কাঠের খুঁটি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। অটোরিকশা চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই। অনেক কষ্ট করে নতুন ভিটায় ঘর করেছিলাম। কিন্তু মাত্র এক মিনিটের ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমাকে সহযোগিতা করলে খুব উপকার হতো।’

গোরকপুর ও পশ্চিম পাবিয়াজুরী এলাকার আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিধবা রাহিলার বসতঘরও ঝড়ে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। অনেক কষ্টে দিন কাটে। ঝড়ে আমার ঘরটাও ভেঙে গেছে। আমার একটা ব্যবস্থা করে দেন।’

ঝড়ের সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল। হঠাৎ ঘরের চালা উড়ে যাওয়ার সময় ভাঙা খুঁটির নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রুবেলের স্ত্রী রেনুয়ারা বলেন, ‘ঝড়ের সময় ঘরের খুঁটি ভেঙে পড়ে আমার স্বামী আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

পশ্চিম পাবিয়াজুরীর বাসিন্দা আজি রহমানের বসতঘর ও গোয়ালঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ঘরের চারটি চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গোয়ালঘরে থাকা একটি গরুর পা কেটে গেছে। এ ঘটনায় তার দুই ছেলেও আহত হয়েছেন।

গোরকপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যালয় চত্বরে বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ভোরের ঝড়ে বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অবগত হয়েছেন। একটি টিম ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ইউপির সাবেক সদস্য মোস্তফা কামাল বলেন, রাতে এলাকায় প্রচণ্ড ঝড় হয়েছে। সকাল থেকেই তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ঝড়ের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেলের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে।