বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

গফরগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে ডাকাতির ঘটনার ছয় ঘন্টার মধ্যে ২ ডাকাত গ্রেফতার; নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৪, ৯:১৫ পিএম
গফরগাঁও থানা পুলিশের অভিযানে ডাকাতির ঘটনার ছয় ঘন্টার মধ্যে ২ ডাকাত গ্রেফতার; নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার

ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানাধীন মশাখালী গ্রামের বাসিন্দা কানাডিয়ান প্রবাসী মোঃ মতিউর রহমান সস্ত্রীক তাদের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারে ২৮ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকাসহ ময়মনসিংহের ভালুকা ও গফরগাঁওয়ের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিভ্রমন করে বিকাল অনুমান ৩.৩০ ঘটিকায় গফরগাঁও থানাধীন ঢালিবাড়ী রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় প্রাইভেটকারের গতি কমালে অকস্মাৎ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন ডাকাত তাদেরকে দেশীয় অস্ত্র সহ আক্রমণ করে এবং অস্ত্রের মুখে তাদের ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন, ব্রেসলেট, আংটি, নগদ টাকা, একাধিক ক্রেডিট কার্ড ও কানাডিয়ান পাসপোর্ট ডাকাতি করে সাদা রংয়ের অন্য একটি প্রাইভেটকার যোগে ভালুকার দিকে পালিয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে গফরগাঁও থানা পুলিশ উক্ত ডাকাত দলকে সনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেন। অতঃপর ঘটনার মাত্র ছয় ঘন্টার মধ্যে সন্ধ্যায় রাত ৬.০০ ঘটিকায় পাগলা থানা এলাকা হতে উক্ত ডাকাত দলের সদস্য এবং কানাডিয়ান দম্পতির ড্রাইভার মোঃ রিয়াদ খান (২৩)কে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত সদস্যের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর ডাকাত মোঃ মুরাদ মিয়া (২৩)কে গ্রেফতার করা হয় এবং চক্রের অপর সদস্য মোঃ শরীফ এর বাসায় ডাকাতির মালামাল রয়েছে মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে শরীফের বাসায় অভিযান চালিয়ে রাত্র ৮:৩০ ঘটিকায় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার সহ অন্যান্য সকল চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়। ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আসামী মোঃ শরীফ, সোহেল মিয়া ও মোঃ রিফাত-দেরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যহত আছে। সকল আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে মোঃ রিয়াদ খান (২৩), পিতা- বিল্লাল হোসেন, গ্রাম-মুখী সোনাতলা, থানা-পাগলা, জেলা-ময়মনসিংহ। এবং মোঃ মুরাদ মিয়া (২৩), পিতা-লিটন মিয়া, গ্রাম-মুখী মধ্যপাড়া, থানা-পাগলা, জেলা-ময়মনসিংহ।

ব্যবহৃত প্রাইভেট কার

ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার (নম্বরঃ ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-১২৪৭) ২। স্বর্ণের হাতের চুড়ি ০১টি ৩। স্বর্ণের ব্রেসলেট ০১টি ৪। স্বর্ণের আংটি ০২টি ৫। স্বর্ণের চেইন ০১টি ৬। নগদ ৪৯,০০০/- টাকা ৭। ০১টি সোনালী ব্যাংকের চেক বই ৮। বিভিন্ন ব্যাংকের ০৬টি এটিএম কার্ড ও ৯। একটি ভ্যানেটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়

উদ্ধারকৃত মালামাল

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে গফরগাঁও থানার মামলা নং-০৫, তারিখ-২৯/১০/২০২৪ ইং, ধারা-৩৯৫/৩৯৭/ ৪১২ পেনাল কোড রুজু করা হয়েছে।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।