শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

পহেলা ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হবে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
পহেলা ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হবে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে একযোগে সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হবে। এ উৎসবে কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য-সংগীতের পাশাপাশি ভাটিয়ালী, জারি, সারি, লোকসংগীত, বাউলসংগীত, পিঠা উৎসব, ঘুড়ি ওড়ানোসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে তরুণদের ব্যান্ড সংগীতও এ উৎসবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান এর সভাপতিত্বে আজ সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের জয়নুল আবেদিন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে জেলা প্রশাসন আয়োজিত নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী ‘লোকজ সাংস্কৃতিক মেলা’র উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের গ্রাম ও শহরে হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিকশিত ও গতিশীল করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বর্তমানে একটি বিপন্ন সময় পার করছে। পাহাড় ও সমতলের সংস্কৃতিসহ দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যথাযথ পরিচর্যা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচর্যার অভাবে আমাদের সংগীত, নৃত্য, কবিতা, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনেক উপাদান বিকশিত হতে পারছে না। একটি গাছ যেমন পরিচর্যা, সার-পানি ও সুরক্ষা ছাড়া বড় হতে পারে না, তেমনি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সংস্কৃতির বিকাশ সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অন্যান্য খাতের মতো সাংস্কৃতিক খাতকেও গতিশীল করার বিষয়ে আগ্রহী। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ আগ্রহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশব্যাপী নজরুল বর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের আয়োজন শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে আরও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, যাত্রা, সার্কাস ও বিভিন্ন শিল্পকর্মসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ধারাগুলোকে সুস্থ, সাবলীল ও রুচিশীলভাবে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন প্রজন্মের মন ও চেতনাকে দেশের সংস্কৃতির মাধ্যমে সমৃদ্ধ করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেক গর্ব ও অহংকার করার মতো। এখানকার ছেলেমেয়েরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে খুবই ভালো পারফর্ম করে। ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতির বিকাশে সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সর্বমহলকে এগিয়ে আসতে হবে। পরে কুদ্দুস বয়াতির পরিবেশনা ও পালা গান (গুরুশিষ্য) অনুষ্ঠিত হয়।

মিঠামইনে গোপদিঘী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মীর

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ পিএম
মিঠামইনে গোপদিঘী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মীর

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মীর।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এক আদেশে তাঁকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত ২৮ অক্টোবরের এক পত্রে মাদ্রাসাটির এডহক কমিটি গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বোর্ডের ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, বিধি মোতাবেক কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মীরকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়।

তাঁর সভাপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বে মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

নবমনোনীত সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম মীর মাদ্রাসার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ময়মনসিংহে পুলিশ ফাঁড়ির অভিযান: গ্রীল কাটার সরঞ্জামসহ হিমু গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশ ফাঁড়ির অভিযান: গ্রীল কাটার সরঞ্জামসহ হিমু গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরীর গোয়ালকান্দি তিনকোনা পুকুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রীল কাটার সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্রসহ মো. হিমু (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ নগরীর ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ওই এলাকা থেকে হিমুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হিমু ময়মনসিংহ নগরীর কাচিঝুলি মাস্টার রোড এলাকার জাকারিয়া ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গ্রীল কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তিনি গ্রীল কেটে চুরির সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জে ২ হাজার ৪০০ টাকার জন্য প্রাণ গেল ইমরানের !

মোক্তার হোসেন গোলাপ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৮ পিএম
কিশোরগঞ্জে ২ হাজার ৪০০ টাকার জন্য প্রাণ গেল ইমরানের !

কিশোরগঞ্জে মাত্র ২ হাজার ৪০০ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে মো. ইমরান মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা সদরের মারিয়া ইউনিয়নের পেয়ারা ভাঙ্গা নাটবাড়ি মোড়ে কালামের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমরান মিয়া মারিয়া ইউনিয়নের কাতিয়াচর গ্রামের মৃত আব্দুল শাহিদের ছেলে। ঘটনার পর পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালামের কাছে ইমরানের ২ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাইতে গত সোমবার সকালে কালামের বাড়িতে যান ইমরান। তবে কালামকে বাড়িতে না পেয়ে ফিরে আসেন তিনি। সকালে কেন তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ধ্যায় কালাম ফোন করে ইমরানকে নিজের বাড়ির সামনে আসতে বলেন।

ইমরান সেখানে পৌঁছালে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে কালাম ধারালো ছুরি দিয়ে ইমরানের পেটে ও বুকে উপর্যুপরি তিনটি আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় কালামের স্ত্রী ইমরানকে ধরে রাখেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ইমরান রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কালাম পলাতক রয়েছেন। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পার্শ্ববর্তী গ্রামের তানভীর আহমেদ ওরফে লিসনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি। তাঁদের অভিযোগ, লিসন মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টিও পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত কালামকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার অন্যান্য বিষয় জানা যাবে।