বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়মনসিংহে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০০ পিএম
ময়মনসিংহে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীতে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তার যোগসাজশ ও নিয়মিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নগরীর প্রভাবশালী ইয়াবা ও হেরোইন কারবারিদের কাছ থেকে প্রশাসনের নামে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয়। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য নথি বা সরকারি তদন্তের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক এসআই মাসুদ ও এক সদস্য সালমানের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সদর পরিদর্শক আমিনুন কবির বদলির পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। অভিযোগকারীদের দাবি, নগরীর শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান বা গ্রেপ্তার দেখা যায় না।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ময়মনসিংহ নগরীতে অন্তত ২০ জন প্রভাবশালী মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা প্রকাশ্যে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারবারি নগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে মাদক সরবরাহ করে থাকে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কেওয়াটখালী, পাটগুদাম, পুরোহিতপাড়া, সানকিপাড়া, রহমতপুর, আকুয়া, চুখাইতলা ও ওয়ারলেস গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন কথিত মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও হেরোইনের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তারা আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া নগরীতে প্রায় ৩০০ ছোট-বড় মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে খুচরা কারবারিদের আটক করা হলেও শীর্ষ পর্যায়ের কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে নগরীতে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আসছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু মাদক ব্যবসায়ী দম্ভের সঙ্গে দাবি করে যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকায় তারা নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহে জলাবদ্ধতার মর্মান্তিক বলি, ঘরে জমে থাকা পানিতে ডুবে ৮ মাসের শিশু আরিয়ানের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৪ পিএম
ময়মনসিংহে জলাবদ্ধতার মর্মান্তিক বলি, ঘরে জমে থাকা পানিতে ডুবে ৮ মাসের শিশু আরিয়ানের মৃত্যু

ময়মনসিংহ নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় ঘরের ভেতর জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে আরিয়ান নামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় শিশুটির পরিবারের ঘরের ভেতরে পানি জমে যায়। পরিবারের সদস্যদের অজান্তে একপর্যায়ে সেই পানিতে ডুবে যায় আরিয়ান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত ময়মনসিংহ নগরীতে বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন এবং নালা-নর্দমার অকার্যকারিতার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি এবার একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানির মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল।

নগরবাসীর দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।

মিঠামইনে টানা বৃষ্টিতে সড়ক যেন ‘ব্রিজ’, ধসের ঝুঁকিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম
মিঠামইনে টানা বৃষ্টিতে সড়ক যেন ‘ব্রিজ’, ধসের ঝুঁকিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা

টানা অতি বৃষ্টি ও অসাধু মৎস্যচাষীদের অবৈধভাবে বসানো পাইপের কারণে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন কার্যত ‘ব্রিজে’ পরিণত হয়েছে। সড়কের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে পুরো সড়কটি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া এলাকার গোস্বামী আখড়ার পাশের সড়কটির বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনক। এক পাশে নদী, অন্য পাশে মাছের পুকুর। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে পুকুরের জমে থাকা পানি সড়কের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মাটি ধুয়ে নিয়ে গেছে। এতে গোস্বামী আখড়া থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সংযোগ স্থাপনকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নিচে বড় ধরনের ফাঁকা সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর মাছের পুকুরের পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের নিচ দিয়ে অবৈধভাবে পাইপ বসানো হয়েছিল। ওই পাইপ দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সড়কের নিচের বালু ও মাটি সরে গিয়ে ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধসে যাওয়া অংশের ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন এবং সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ছাত্রদল নেতা মোকাররম হোসেন খোকা বলেন, “এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, আমাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এই পথ দিয়েই আমরা বাজারে যাই, কৃষিপণ্য পরিবহন করি। রাস্তা ভেঙে গেলে হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে সড়কের ক্ষতি করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, এই সড়কটি এলাকার বহু পরিবারের জীবিকা ও যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন।

তিনি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কার, অবৈধ পাইপ অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। স্থানীয় বাসিন্দারাও অবিলম্বে সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহে মহিলাদল নেত্রী শিরিনা ও তার সহযোগী ঝরনা হানিট্র্যাপ মামলায় গ্রেফতার 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ২:৩১ এম
ময়মনসিংহে মহিলাদল নেত্রী শিরিনা ও তার সহযোগী ঝরনা হানিট্র্যাপ মামলায় গ্রেফতার 

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা মহিলাদলের প্রচার সম্পাদক শিরিনা আক্তার ও তার সহযোগী ঝরনাকে হানিট্র্যাপ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নগরীর আলমগীর মুনসুর মেমোরিয়াল (মিন্টু) কলেজ এলাকা থেকে দুপুরে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ত্রিশালের ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শামীমকে হানিট্র্যাপের অভিযোগে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা রুজু হয়। যার নং-৮২ তাং ২৯/২৬।

উল্লিখিত মামলায় এর আগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও অভিযোগের মূল পরিকল্পনাকারী শিরিনা আক্তার পলাতক ছিল। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই সাফায়েত হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে (৭ জুলাই) শিরিনাসহ ২জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের পর ত্রিশালের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র নারীদের ব্যবহার করে পুরুষদের ফাঁদে ফেলে অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিত। তাদের অভিযোগ, শিরিনা আক্তার ওই চক্রের মুলহোতা।

স্থানীয়দের আরও দাবি, এর আগে ত্রিশালের বালিপাড়া এলাকা থেকে শফিকুল ইসলামের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে অন্তরকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল শিরিনা চক্র।

আরো জানা যায়, বালিপাড়া ইউনিয়নের সামাল মেম্বারের ছেলে শামীম বলেন, শিরিনা ও ঝরনা আমাকে ধর্ষণের মতো স্পর্শ কাতর মিথ্যা মামলায় ফাঁসায় বলে গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করেছেন।

ত্রিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন কর্মী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তিতে এমন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক ব্যানার-ফেস্টুনে বিব্রত হয়েছিলেন ত্রিশালবাসী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোড় দাবী জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ত্রিশাল বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, ত্রিশালে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দল বদ্ধপরিকর। যদি কোনো নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি বাঘমারা একটি বাসায় হানিট্র্যাপের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় হানিট্র্যাপ মামলার এজাহার নামীয় আসামী শিরিনাসহ দুইজনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ নগরী থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে একই মামলায় তিনজনসহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি আরো জানান, এই হানিট্র্যাপ চক্রটি বিশাল বড়। এর সাথে আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে। এদেরকে ওয়াইট কালার অপরাধী বলা যায় কারণ দেখতে সবাই ভদ্রবেশী কিন্তু তাদের কৃতকর্ম ব্ল্যাক কালার।