বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনা: সিএনজি বাঁচাতে গিয়ে বাস উল্টে আহত ১৫, চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫১ পিএম
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনা: সিএনজি বাঁচাতে গিয়ে বাস উল্টে আহত ১৫, চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক

ময়মনসিংহের নান্দাইলে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে ধানখেতে উল্টে যাওয়ার ঘটনায় চালকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মেরেঙ্গা বাজার সংলগ্ন কাউয়ারগাতী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘এমকে সুপার’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পথে কাউয়ারগাতী এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা নান্দাইল চৌরাস্তাগামী একটি বেপরোয়া গতির সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় বাসটি মহাসড়কের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পাশের ধানখেতে উল্টে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় বাসটির সামনের অংশ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে বাসচালক বাদশাহ মিয়া (৩৫), কেন্দুয়া উপজেলার রয়েলবাড়ি আমতলা গ্রামের তাহের আলীর ছেলে আবুল কালাম (৪৫), একই উপজেলার তারা মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৫) এবং কিশোরগঞ্জের গাইটাল এলাকার মৃত আব্দুল কদ্দুসের ছেলে সুমন মিয়াসহ আরও অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আহতদের মধ্যে বাসচালক বাদশাহ মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির বেপরোয়া গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই অটোরিকশার চালক গাড়িসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে নান্দাইল হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জীবন কুমার রায় জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে একজন ময়মনসিংহ জেলা সদর এবং তিনজন কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহে ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
ময়মনসিংহে ব্যাংক কর্মকর্তার ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আটক

ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকায় জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাইফুল ওরফে সাইফুল মিয়াকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করে সাইফুল ও তার সহযোগীরা। চাঁদার দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়ে তারা নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি আহত হন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সাইফুল ওরফে সাইফুল মিয়াকে আটক করে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১:৩৮ এম
ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত

ময়মনসিংহ নগরীর কলেজ রোড এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) কাজ করার সময় ভবনের অষ্টম তলার মাচাং ভেঙে নিচে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কলেজ রোড এলাকার ১০ তলা নির্মাণাধীন এনায়েত চৌধুরী ভবনে নির্মাণকাজ চলাকালে অষ্টম তলায় কর্মরত দুই শ্রমিক হঠাৎ মাচাং ভেঙে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহত শ্রমিকদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে সেফটি বেল্ট পাওয়া গেলেও শ্রমিকরা তা ব্যবহার করেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং নির্মাণকাজে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শ্রমিকদের স্বজনদের খোঁজে কাজ করছে পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মিঠামইনের হাওরে নৌ-ডাকাতি: আন্তজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, নৌকা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম
মিঠামইনের হাওরে নৌ-ডাকাতি: আন্তজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, নৌকা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের হাওরে যাত্রীবাহী নৌকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন এবং রামদা-বল্লমসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, জেলা পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার সাভার, কামরাঙ্গীরচর এবং মিঠামইন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মিঠামইন উপজেলার কাটখাল কাজীপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. জুলহাস উদ্দিন (৪৪), বজকপুর গ্রামের মো. হারেছ মিয়ার ছেলে ইছানুল হক ওরফে এহসানুল হক ফকির (২৬) এবং বড়কান্দা মধুপুর গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৩১)।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, মাদক ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ৭ জুন মিঠামইন নৌঘাট থেকে ২০-২২ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা করিমগঞ্জের বালিখলা নৌঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসানপুর ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌকাটি প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে। পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে নৌকাটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। এ সময় ১০-১২ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এসে যাত্রীবাহী নৌকার গতি রোধ করে।

ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে তাদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৫ জুন নৌকার মাঝি জামাল মিয়া বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মামলা দায়েরের পর মিঠামইন থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথম ধাপে ১৫ জুন দুপুরে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে ইছানুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরাঙ্গীরচর থেকে মো. জুলহাস উদ্দিনকে আটক করা হয়।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে ওই রাতেই মিঠামইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দলের আরেক সদস্য রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানকালে ডাকাতদের গোপন আস্তানা থেকে লুণ্ঠিত পাঁচটি মোবাইল ফোন (এর মধ্যে একটি বাটন ফোন), ডাকাতিতে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌকা, রামদা, লোহার রড এবং ছোট-বড় ২০টি বল্লম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নাজমুস সাকিব এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল হক উপস্থিত ছিলেন।