বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বিএনপি নেতা কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা সংসদে তালা, মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছনার অভিযোগ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০২৫, ৭:০৩ পিএম
ময়মনসিংহে বিএনপি নেতা কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা সংসদে তালা, মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছনার অভিযোগ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম হারুন-অর রশিদ এর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল কবীর রেনু, নূরুল হক ও শামস উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাগরিবের নামাজ শেষে মুক্তিযোদ্ধাগণ এশার নামাজের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।

এসময় মৃত আব্দুল খালেক ওরফে কালু মিয়ার পুত্র বিএনপি নেতা ও পৌর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি একেএম হারুন-অর রশিদ কয়েকজন সহযোগী নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলে।

এসময় মুক্তিযোদ্ধাগণ এশা’র নামাজ পড়ে যাওয়ার কথা বললে বিএনপি নেতা হারুন বলেন, “কিসের নামাজ? এটা কি তোদের বাপ-দাদার সম্পত্তি? এখনি বের না হলে চর-থাপ্পর দিয়ে বের করে দেব।” এমনকি তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “আর কোনো দিন যেন এই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় অফিসে তোদের সহ কোন মুক্তিযোদ্ধাদের দেখতে না পাই।”

ঘটনার সময় বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের কেয়ারটেকার শিমুল আহমেদ কাছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের চাবি দিতে বলেন। চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের চাবি ছিনিয়ে নেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ কার্যালয় ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। পরে কার্যালয়ের তালা ঝুলিয়ে দেন অভিযুক্ত ঐ বিএনপি নেতা।

এ ঘটনায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরদিন ২২মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি একেএম হারুন-অর রশিদকে তলব করেন। পরে ঈশ্বরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় (পুরাতন তিন তলা ভবন) এ তালাবদ্ধ করা ও তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অশ্লীল গালিগালাজ সহ ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে মৌখিক শুনানী করেন।

শুনানীতে এ.একে.এম হারুন অর রশিদ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের জমিটি তাদের পূর্বপুরুষের দাবি করেন।

পরবর্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে অনাধিকার প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে দেন। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চাবি প্রশাসক হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের জমা রাখেন।

এবিষয়ে বিএনপি নেতা এ.একে.এম হারুন অর রশিদ এর বক্তব্য নিতে তার ব্যক্তিগত ০১৭১২★★★★৪৫ এবং ০১৮৪৯★★★★৭০ দুটি ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উক্ত ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল কবির রেনু বলেন, আমাদের এটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান,বাজার কমিটির সভাপতি একেএম হারুনর রশীদ আমাদের দুই সদস্য কে মারধর করে অফিসে তালা লাগায়। পরে আমরা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছি।

উক্ত ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান হলুদ বলেন, ৫ আগষ্টের পর থেকে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে তালা দিয়েছে বিএনপির কিছু লোকজন। এখন পর্যন্ত তারা চাবিও দেয়নি এবং তালাও খুলে দেয়নি।আমরা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদে অভিযোগ দিয়েছি।

উক্ত ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক বলেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাজার কমিটির সভাপতি হারুনর রশীদ আমাদের জোরপূর্বক অফিস থেকে বের করে দেয় এবং পিয়নকে মারধর করে অফিসের চাবি কেড়ে নিয়েছে। পরে আমরা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি বলেন আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক সানজিদা রহমান বলেন ওখানে দুইটা সমস্যা তার একটি অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই সমাধান করেছি। যারা চাবি নিয়েছিল তাদের থেকে আমি চাবি নেওয়ার এবং মামলা চলাকালীন সময় তারা আর আসবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেলে মুক্তিযোদ্ধারাই নিষেধ করেন।

মুচলেকা নেওয়ার পরও তারা এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, আমি এটা জানিনা, তবে সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধাগন জানালে ব্যবস্থা নিবো। মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানের পাত্র তাই তারা একটা অভিযোগ দিলে অবশ্যই আমলে নিবো বলেও জানান।

ময়মনসিংহে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ পেস্টিং খোকন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২০ এম
ময়মনসিংহে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ পেস্টিং খোকন গ্রেফতার

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার আওতায় বিশেষ অভিযানে ২৪ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ১ নং পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) মোঃ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় “পেস্টিং খোকন” নামে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে ২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি-সম্পাদকসহ সব পদে বিএনপিপন্থিদের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি-সম্পাদকসহ সব পদে বিএনপিপন্থিদের জয়

ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সবকটি পদেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। ‘সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে অংশ নিয়ে তারা এ বিজয় অর্জন করেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট আবু রেজা মো. ফজলুল হক বাবলু আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল হক ৫৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’-এর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে এম আমান উল্লাহ বাদল পেয়েছেন ২১১ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে একই প্যানেলের অ্যাডভোকেট মমরুজুল হাসান জুয়েল ৭৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম পেয়েছেন ৬০ ভোট।

অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন— সহসভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মীর এমরান আলী পাপেল ও অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব একেএম মইনুল হোসেন মিলন; সহ-সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সজীব সরকার রোকন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান (জামান) ও অ্যাডভোকেট রাইসুল ইসলাম; অডিটর পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম সোহাগ; এবং কার্যকরী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার লিপি, অ্যাডভোকেট রিয়াদ মো. সাঈদ, অ্যাডভোকেট রেজাউল কিবরিয়া (সোহাগ মন্ডল), অ্যাডভোকেট মো. শাহীন আলম, অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন খলিল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট সামির আল রশিদ বিপ্লব।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সমিতি ভবনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। নির্বাচনে মোট ১,০৩৮ জন ভোটারের মধ্যে ৮৪০ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে গণনা সম্পন্ন হয় এবং শুক্রবার সকালে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম কর্মদক্ষতায় অনন্য এক প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব

মোঃ আনোয়ার হোসেন, ঢাকা।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম কর্মদক্ষতায় অনন্য এক প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব

রাজধানী ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে নবনিযুক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদা খানম। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসনে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ফরিদা খানম ইতিপূর্বেও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফরিদা খানম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন চৌকস কর্মকর্তা। কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি মেধা ও সাহসিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলোতে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি ডিজিটাল পদ্ধতির সফল প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বদা আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছেন।নারী শিক্ষা এবং বাল্যবিবাহ রোধে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও সংকটকালীন সময়ে তাঁর ধৈর্যশীল এবং কার্যকর নেতৃত্ব প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে

ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফরিদা খানমের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে তাঁর অতীত রেকর্ড বলছে, তিনি ঢাকার মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ জেলার উন্নয়ন এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় সফল হবেন। বিশেষ করে ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ঢাকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ফরিদা খানমের নেতৃত্বে ঢাকা জেলা প্রশাসন আরও বেশি মানবিক ও কর্মতৎপর হয়ে উঠবে। তাঁর এই নতুন পথচলা ঢাকার সামগ্রিক উন্নয়নে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।