শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ময়মনসিংহে বিএনপি নেতা কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা সংসদে তালা, মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছনার অভিযোগ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০২৫, ৭:০৩ পিএম
ময়মনসিংহে বিএনপি নেতা কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা সংসদে তালা, মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছনার অভিযোগ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম হারুন-অর রশিদ এর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল কবীর রেনু, নূরুল হক ও শামস উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাগরিবের নামাজ শেষে মুক্তিযোদ্ধাগণ এশার নামাজের জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।

এসময় মৃত আব্দুল খালেক ওরফে কালু মিয়ার পুত্র বিএনপি নেতা ও পৌর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি একেএম হারুন-অর রশিদ কয়েকজন সহযোগী নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলে।

এসময় মুক্তিযোদ্ধাগণ এশা’র নামাজ পড়ে যাওয়ার কথা বললে বিএনপি নেতা হারুন বলেন, “কিসের নামাজ? এটা কি তোদের বাপ-দাদার সম্পত্তি? এখনি বের না হলে চর-থাপ্পর দিয়ে বের করে দেব।” এমনকি তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “আর কোনো দিন যেন এই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় অফিসে তোদের সহ কোন মুক্তিযোদ্ধাদের দেখতে না পাই।”

ঘটনার সময় বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের কেয়ারটেকার শিমুল আহমেদ কাছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের চাবি দিতে বলেন। চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের চাবি ছিনিয়ে নেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ কার্যালয় ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। পরে কার্যালয়ের তালা ঝুলিয়ে দেন অভিযুক্ত ঐ বিএনপি নেতা।

এ ঘটনায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরদিন ২২মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি একেএম হারুন-অর রশিদকে তলব করেন। পরে ঈশ্বরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় (পুরাতন তিন তলা ভবন) এ তালাবদ্ধ করা ও তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অশ্লীল গালিগালাজ সহ ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে মৌখিক শুনানী করেন।

শুনানীতে এ.একে.এম হারুন অর রশিদ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের জমিটি তাদের পূর্বপুরুষের দাবি করেন।

পরবর্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে অনাধিকার প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে দেন। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চাবি প্রশাসক হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের জমা রাখেন।

এবিষয়ে বিএনপি নেতা এ.একে.এম হারুন অর রশিদ এর বক্তব্য নিতে তার ব্যক্তিগত ০১৭১২★★★★৪৫ এবং ০১৮৪৯★★★★৭০ দুটি ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উক্ত ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল কবির রেনু বলেন, আমাদের এটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান,বাজার কমিটির সভাপতি একেএম হারুনর রশীদ আমাদের দুই সদস্য কে মারধর করে অফিসে তালা লাগায়। পরে আমরা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছি।

উক্ত ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান হলুদ বলেন, ৫ আগষ্টের পর থেকে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে তালা দিয়েছে বিএনপির কিছু লোকজন। এখন পর্যন্ত তারা চাবিও দেয়নি এবং তালাও খুলে দেয়নি।আমরা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদে অভিযোগ দিয়েছি।

উক্ত ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক বলেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাজার কমিটির সভাপতি হারুনর রশীদ আমাদের জোরপূর্বক অফিস থেকে বের করে দেয় এবং পিয়নকে মারধর করে অফিসের চাবি কেড়ে নিয়েছে। পরে আমরা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি বলেন আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক সানজিদা রহমান বলেন ওখানে দুইটা সমস্যা তার একটি অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই সমাধান করেছি। যারা চাবি নিয়েছিল তাদের থেকে আমি চাবি নেওয়ার এবং মামলা চলাকালীন সময় তারা আর আসবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেলে মুক্তিযোদ্ধারাই নিষেধ করেন।

মুচলেকা নেওয়ার পরও তারা এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, আমি এটা জানিনা, তবে সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধাগন জানালে ব্যবস্থা নিবো। মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানের পাত্র তাই তারা একটা অভিযোগ দিলে অবশ্যই আমলে নিবো বলেও জানান।

হত্যা মামলার আসামির হাতেই গুণীজন সংবর্ধনা, মঞ্চে ইউএনও-ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
হত্যা মামলার আসামির হাতেই গুণীজন সংবর্ধনা, মঞ্চে ইউএনও-ওসি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে আয়োজিত এক গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামির প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং সম্মাননা পদক বিতরণে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে ওই আসামি নিজেই পদক বিতরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে গৌরীপুর পৌর শহরে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন মানব কল্যাণ যুব ফাউন্ডেশন আয়োজিত গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ জুলাই রাতে গৌরীপুর শহরের সতিষা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে স্থানীয় মানিক মিয়া (৪০)-কে একদল দুর্বৃত্ত তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. আহম্মদ আলীর ছেলে আল ইমরান খান (৩২)-সহ আটজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। আল ইমরান ওই মামলার তিন নম্বর আসামি।

মামলা দায়েরের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তারা উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন লাভ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেই জামিনে থাকা অবস্থাতেই বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আল ইমরান বিভিন্ন গুণীজনের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১১ জনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা, গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম শহীদ।

অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, অতিথিদের উপস্থিতিতেই আল ইমরান খান মঞ্চে অবস্থান করে সম্মাননা প্রদান কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। পরে তিনি নিজ ফেসবুক আইডিতে পদক বিতরণের ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ বিষয়ে আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ যুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন মন্ডল বলেন, “আল ইমরান খান যে অনুষ্ঠানে আসবেন, তা আমাদের জানা ছিল না। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি হঠাৎ মঞ্চে উঠে পড়েন। ওই পরিস্থিতিতে তাকে বের করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। একটি সুন্দর আয়োজন একজন হত্যা মামলার আসামির উপস্থিতির কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।”

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া হাবিবুল ইসলাম শহীদ বলেন, “আমি গুণীজনের তালিকায় ছিলাম। মাইকে আমার নাম ঘোষণা করার পর আল ইমরানসহ কয়েকজন আমার হাতে পদক তুলে দেন। তিনি হত্যা মামলার আসামি-এ তথ্য আগে জানলে কখনোই তার হাত থেকে পদক গ্রহণ করতাম না।”

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে চিনিও না। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।”

অন্যদিকে, বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় নিহত মানিক মিয়ার পরিবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিহতের ভাই শুক মিয়া বলেন, “এখন কিছু বলতে গেলেই আরও বিপদ হতে পারে। তাই আর কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না।”

হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামির প্রকাশ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মঞ্চে উঠে সম্মাননা পদক বিতরণ এবং অনুষ্ঠান শেষে সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কি না, সেদিকে এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।

গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৮ এম
গাজীপুরে আড়ালে ঢাকা সন্ত্রাসী চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাংবাদিক আনোয়ার খালাস

আইন ও বিচারব্যবস্থার মুখচ্ছবি যখন অপরাধীদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সত্যকে থমকে দেওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু তাকে চিরতরে রুখে দেওয়া যায় না। গাজীপুরে প্রভাবশালীদের চোখ রাঙানি, চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব এবং পুলিশের চরম পক্ষপাতমূলক আচরণের বলির পাঁঠা হতে বসেছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে আইনের শাসন বিজয়ী হয়েছে এবং মিথ্যা, সাজানো মামলার কলঙ্ক থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন এই সাংবাদিক।

জানা যায়, জয়দেবপুর রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে তোলা দোকানপাট, কলাপট্টি এলাকার রাস্তা আটকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড বানিয়ে অবাধ চাঁদাবাজির মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধকে কেন্দ্র করে। প্রশাসন ও পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় যখন এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল, তখন সরেজমিনে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন। কিন্তু অপরাধের অন্ধকার জগত উন্মোচনের মাসুল তাঁকে দিতে হয় নিজের রক্ত দিয়ে। গত বছরের ৬ আগস্টে তথ্য ও স্থিরচিত্র সংগ্রহের সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই সাংবাদিক আনোয়ারের ওপর চড়াও হয় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। প্রকাশ্যে তাঁকে মারধর, ইট দিয়ে পা থেঁতলে দেওয়া এবং তথ্য সংগৃহীত মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনা সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এরপরও পুলিশের টনক নড়েনি।

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে, এই হামলাকারীরা সাধারণ কোনো দুষ্কৃতকারী নয়, তারা ইতিপূর্বে প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল উঁচিয়ে গোলাগুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টার সদর থানার ১৩(১০)২০২৪ নং মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি। তবে ঘটনার আসল মোড় ঘোরে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও প্রভাবশালী মহলের গোপন আঁতাতের চিত্র সামনে আসার পর। জিএমপি কমিশনারের মদদপুষ্ট অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রাজু সাহা শিরোনামে খোলামেলা সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রশাসন ও অপরাধী চক্র। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সত্যের তোয়াক্কা না করে, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ না জানিয়ে, প্রতিশোধের এক হিংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের ৩ দিনই সাংবাদিক আনোয়ারকে দমাতে সাজানো হয় এক কাল্পনিক চাঁদাবাজির নাটক। ১৮ দিন আগের পুরোনো এক মিথ্যা ঘটনা বানিয়ে চিহ্নিত সেই সন্ত্রাসীকে দিয়ে পেনাল কোডের ৩৮৫/৩৮৬ ধারায় সাংবাদিক আনোয়ারের বিরুদ্ধেই ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জিএমপি সদর থানার ৪৪(৮)২৫ নং মামলা। সত্য প্রকাশ করায় সংবাদকর্মীকে আইনি জালে ফাঁসিয়ে মুখ বন্ধ করার এই ঘৃণ্য অপচেষ্টা সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তোলে।

তবে জালিয়াতি ও ক্ষমতার ক্ষমতার দাপটে বোনা মিথ্যার জাল শেষ পর্যন্ত আদালতেই ছিঁড়ে গেছে। মামলার খুঁটিনাটি ও মিথ্যা প্রসিকিউশন পর্যালোচনা শেষে গাজীপুরের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওমর হায়দার সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে এই ভিত্তিহীন মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস প্রদান করেছেন।

আদালতের এই রায় কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জয় নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সন্ত্রাসী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী চক্রের করা কুৎসিত আক্রমণের বিরুদ্ধে এক মোক্ষম চড়াও। এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, সংবাদপত্রের সত্য প্রকাশকে মিথ্যা মামলা বা প্রশাসনিক পেশিশক্তি দিয়ে দমানো যায় না, সত্যের জয় অনিবার্য।

ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের অভিযানে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুক গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ নগরীর নাটকঘর লেনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুক (৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ১নং পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বুধবার নগরীর নাটকঘর লেন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পিসিপিআর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ফারুকের পিতা মৃত আনোয়ার হোসেন এবং মাতা নাজমা বেগম। তার বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই ও চুরিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ আরও জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পলাতক ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।