সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ ১৪৩২
সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ ১৪৩২

ময়মনসিংহে নদী ভাঙন এলাকার কৃষকদের রাস্তা সংকট: দ্রুত সমাধান না হলে আমরণ অনশন হুমকি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৩১ এম
ময়মনসিংহে নদী ভাঙন এলাকার কৃষকদের রাস্তা সংকট: দ্রুত সমাধান না হলে আমরণ অনশন হুমকি

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ২নং কুষ্টিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের নদী ভাঙন এলাকা নামাপাড়াতে সড়কসংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। রবিবার (২৩ নভেম্বর) নদী ভাঙন এলাকার কৃষকরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন এবং জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।

কৃষি প্রধান এ অঞ্চলে প্রায় ২,০০০ একর জমিতে টমেটো, কপি, মরিচ, করলা ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজি উৎপাদন করা হয়। কিন্তু ভরা মৌসুমে এসব ফসল বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষকদের পোহাতে হচ্ছে অকল্পনীয় দুর্ভোগ।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মাত্র ১৭০ ফিট রাস্তা অবৈধভাবে বন্ধ থাকায় ক্ষেত থেকে ফসল বাজারে পৌঁছাতে অনেককে ১/২ কিলোমিটার পর্যন্ত মাথায় বহন করে নিতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত শ্রম, সময় ও পরিবহন খরচ বাড়ায় ফসল উৎপাদনের মূল্যের তুলনায় কৃষকরা পড়ছেন লোকসানে। এলাকার অনেক কৃষক ইতোমধ্যেই কৃষিকাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ভাবনা ভাবছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, পূর্বে ব্যবহৃত ওই যোগাযোগপথ একটি প্রভাবশালী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বারবার বৈঠক করেও সমস্যাটির কোনো সুরাহা হয়নি।

স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়ে বলেন, “ডিসি মহোদয়, ইউএনও মহোদয়, এসিল্যান্ড মহোদয়সহ রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দ্রুত এই ১৭০ ফিট রাস্তার সুষ্ঠু সমাধান করে নামাপাড়ার কৃষকদের বাঁচান।”

জানা গেছে, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং এসিল্যান্ড ইতোমধ্যে সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

কৃষকরা সতর্ক করে বলেন, “যদি দ্রুত রাস্তা খুলে না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা আমরণ অনশনসহ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

এলাকার কৃষি বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের দাবি জানিয়েছে নামাপাড়া এলাকার সাধারণ মানুষ।

গৌরীপুর থানায় ডিউটি অফিসার এএসআই আরমানের দায়িত্ব অবহেলা

গৌরীপুর প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
গৌরীপুর থানায় ডিউটি অফিসার এএসআই আরমানের দায়িত্ব অবহেলা

থানা হলো সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। কিন্তু ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানায় গেলে দেখা মেলে ভিন্ন এক চিত্রের। খোদ ডিউটি অফিসারের চেয়ারই খালি! জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি এএসআই আরমানকে। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে ‘দৈনিক জনবাণী’র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আনোয়ার হোসেনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে থানার এমন লেজেগোবরে দশা। বিষয়টি নিয়ে খোদ ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জানা যায়, বিকেল আনুমানিক ৫টা। একটি বিকাশ প্রতারক চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গৌরীপুর থানায় প্রবেশ করেন সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন। কিন্তু থানার মূল প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘ডিউটি অফিসার’-এর ডেস্কে গিয়ে দেখা যায় সেটি জনশূন্য। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও দেখা মেলেনি দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসআই আরমানের। একজন সংবাদকর্মী তথ্য সংগ্রহে গিয়ে যদি এমন পরিস্থিতির শিকার হন, তবে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের কী দশা হয়, তা নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা।

থানার ভেতরে এমন দায়িত্ব অবহেলা দেখে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বিষয়টি সরাসরি মোবাইল ফোনে অবহিত করেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসানকে। পুলিশ সুপার বিষয়টি শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থেকে ডিউটি চলাকালীন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, ডিউটি অফিসারে দায়িত্বে থেকে অবহেলা করলে পুলিশ আইনের ৭ ধারা এবং পিআরবি-এর ৮৮০ বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব অবহেলার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, পুলিশ জনগণের বন্ধু, এই স্লোগান যেন শুধু দেয়ালের লেখা হয়েই আছে। ডিউটি অফিসারের অনুপস্থিতিতে জিডি বা অভিযোগ দিতে আসা ভুক্তভোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে বাধ্য হন। এএসআই আরমানের এই দায়িত্ব অবহেলা কি ব্যক্তিগত ইচ্ছা নাকি থানার প্রশাসনের কোনো গাফিলতি, তা নিয়ে এখন এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সুপারের এই কঠোর বার্তায় গৌরীপুর থানার কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে যেন এই অনিয়মের অবসান ঘটে।

এবিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ডিউটি অফিসারের থানার বাহিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এবিষয়ে অনুসন্ধান সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুর রশীদ

স্টাফ রিপোর্টার।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৫ পিএম
তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা মোঃ আব্দুর রশীদ

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে তারাকান্দা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য, অনন্তপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মোঃ আব্দুর রশীদ।

ঈদ উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ আমাদের জীবনে নিয়ে আসে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা। এই দিনে ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবাই একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।

তিনি আরও বলেন, ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো মানবতার কল্যাণে কাজ করা, সমাজে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ঈদের এই পবিত্র মুহূর্তে তিনি সকলকে ভেদাভেদ ভুলে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

মোঃ আব্দুর রশীদ তার শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “আমি তারাকান্দা উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রিয় তারাকান্দাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানাই। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করেন।”

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ঈদের আনন্দ সবার জীবনে বয়ে আনবে নতুন আশা ও সম্ভাবনা, আর বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে।

সবাইকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা – ঈদ মোবারক।

মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
মাদক দমনে মাদকসেবী! ফুলপুরে ‘বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা’ বিতর্কে তোলপাড়

মাদকবিরোধী কার্যক্রমে এক কথিত মাদকসেবীর সম্পৃক্ততা ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া বাজার এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষায়, “এ যেন বিড়ালের কাছে মাংসের পাহারা দেওয়ার মতোই অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য ঘটনা।”

অভিযোগ রয়েছে, শান্ত (প্রায় ২৫), যিনি স্থানীয়ভাবে ওলামা লীগের একজন পদধারী নেতা হিসেবে পরিচিত, তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, মদ ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত। এলাকাবাসীর দাবি, নিজের ঘর ও মহল্লায় তিনি মাদকসেবী হিসেবেই বেশি পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মা আছমা খাতুন, এক প্রবীণ সাংবাদিক চাচা এবং প্রবাসী এক ফুফুর বিরুদ্ধেও একাধিকবার আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

এমন একজন ব্যক্তির মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এই কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে শান্ত মারধরের শিকার হন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

কিছু মহল এটিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, “এটি মূলত মাদকসংক্রান্ত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, একে সাংবাদিক নির্যাতন হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না হলে এমন বিতর্ক ও অবিশ্বাস আরও বাড়বে।