শনিবার, ২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

হালুয়াঘাটে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাদাবীর অভিযোগ || বিচার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ 

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ২:৫৭ পিএম
হালুয়াঘাটে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাদাবীর অভিযোগ || বিচার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ 

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে শাকুয়াই ইউনিয়নে সোনাই বিলে মাছ চাষীদের কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুস ও তার অনুসারী এমদাদুল হক, আলমগীর হোসেন, আবুল হোসেন, আবুল কালাম ও রুহুল আমীন গংদের বিরুদ্ধে।

গতকাল (১০ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে চেয়ারম্যান ইউনুসকে আওয়ামী দোসর ও চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে সোনাই বিলের পাড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিচার দাবী করেন ভূমির মালিক ও মাছ চাষীরা।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভূমির মালিক ও মাছ চাষীরা অভিযোগ করে বলেন, বিসমিল্লাহ মৎস্য খামারের সত্ত্বাধিকারী কামরুজ্জামান মাছ চাষে প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পর ১০ লাখ টাকা দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের হুমকি প্রদান করে এবং সোনাই বিলে মাছ চাষী কামরুজ্জামানকে মারধর করার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার চেষ্টা করে। পরে ভুমির মালিক ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রানে বেঁচে যায়।

এসময় ভুমি মালিকরা বলে এই ভূমি ভাড়া দিয়ে আমরা সংসার চালাই, সন্তানদের লেখা পড়ার খরচ জোগাড় করি, মাছ চাষ করতে না পারলে আমরা চলব কিভাবে? বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, চেয়ারম্যান ইউনুস আওয়ামী লীগের দোসর, আমরা তার অপসারণসহ বিচার দাবী করছি।

অপরদিকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন সোনাই বিলে চেয়ারম্যান ইউনুসের লোকজনকে নৌকা দিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়।

মাছ চাষী বিসমিল্লাহ মৎস্য খামারের সত্ত্বাধিকারী কামরুজ্জামান বলেন, সোনাই বিলের ভূমির মালিকদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ একর ভূমি ৩শত টাকার স্ট্যাম্পে মাছ চাষের জন্য ভাড়া নিয়েছি। মাছ ছাড়ার পর থেকেই চেয়ারম্যান ইউনুস ও তার লোকজন ১০লাখ টাকা চাঁদা দাবী করছে। দাবীকৃত চাঁদার টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে আমি তাদের জন্য বিলে যেতে পারছিনা। প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি মাছ চাষ করতে না পারলে পথে বসে যাব।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনুস চেয়ারম্যানের মুঠোফোন যোগাযোগ করলে তিনি চাঁদাদাবীর বিষয় অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে একটি পক্ষ বিচার নিয়ে এসেছে আমি সমাধানের চেষ্টা করছি। আমি বিএনপির রাজনীতি করি, আওয়ামী লীগ করিনা। নৌকার মিছিল মিটিং এর ভিডিও চিত্রের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখন নৌকার মিছিল মিটিং করেছি ইউনিয়নের লোকজনকে ভালো রাখার জন্য, এলাকার উন্নয়নের জন্য। এখন বিএনপি করেন কি এলাকার লোকজনকে ভালো রাখার জন্য এমন প্রশ্নের জবাবে ইতস্থতা বোধ করে তিনি বলেন, আমি উপজেলা বিএনপি’র সদস্য, আমার বাবাও বিএনপি করতেন।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, শাকুয়াই ইউনিয়নে সোনাই বিল নিয়ে কামাল এবং এলাকাবাসীর মাঝে একটা বিরোধ আছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে কামাল ফিসারীতে আসলে ভয়ভীতি হুমকি প্রদর্শন করে মর্মে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালতে অনুমতি নিয়ে এসে তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দু’পক্ষকে নিয়ে বসার কথা, বসে আগে দুপক্ষের কথা শুনে সমাধান করব।

ময়মনসিংহে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ পেস্টিং খোকন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২০ এম
ময়মনসিংহে কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ পেস্টিং খোকন গ্রেফতার

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার আওতায় বিশেষ অভিযানে ২৪ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ১ নং পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) মোঃ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় “পেস্টিং খোকন” নামে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে ২৪ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি-সম্পাদকসহ সব পদে বিএনপিপন্থিদের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি-সম্পাদকসহ সব পদে বিএনপিপন্থিদের জয়

ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সবকটি পদেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। ‘সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে অংশ নিয়ে তারা এ বিজয় অর্জন করেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট আবু রেজা মো. ফজলুল হক বাবলু আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে সমন্বিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল হক ৫৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’-এর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে এম আমান উল্লাহ বাদল পেয়েছেন ২১১ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে একই প্যানেলের অ্যাডভোকেট মমরুজুল হাসান জুয়েল ৭৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম পেয়েছেন ৬০ ভোট।

অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন— সহসভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মীর এমরান আলী পাপেল ও অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব একেএম মইনুল হোসেন মিলন; সহ-সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সজীব সরকার রোকন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান (জামান) ও অ্যাডভোকেট রাইসুল ইসলাম; অডিটর পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম সোহাগ; এবং কার্যকরী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার লিপি, অ্যাডভোকেট রিয়াদ মো. সাঈদ, অ্যাডভোকেট রেজাউল কিবরিয়া (সোহাগ মন্ডল), অ্যাডভোকেট মো. শাহীন আলম, অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন খলিল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট সামির আল রশিদ বিপ্লব।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সমিতি ভবনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। নির্বাচনে মোট ১,০৩৮ জন ভোটারের মধ্যে ৮৪০ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে গণনা সম্পন্ন হয় এবং শুক্রবার সকালে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম কর্মদক্ষতায় অনন্য এক প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব

মোঃ আনোয়ার হোসেন, ঢাকা।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম কর্মদক্ষতায় অনন্য এক প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব

রাজধানী ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে নবনিযুক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদা খানম। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসনে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ফরিদা খানম ইতিপূর্বেও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফরিদা খানম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন চৌকস কর্মকর্তা। কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি মেধা ও সাহসিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলোতে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি ডিজিটাল পদ্ধতির সফল প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বদা আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছেন।নারী শিক্ষা এবং বাল্যবিবাহ রোধে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও সংকটকালীন সময়ে তাঁর ধৈর্যশীল এবং কার্যকর নেতৃত্ব প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে

ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফরিদা খানমের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে তাঁর অতীত রেকর্ড বলছে, তিনি ঢাকার মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ জেলার উন্নয়ন এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় সফল হবেন। বিশেষ করে ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ঢাকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ফরিদা খানমের নেতৃত্বে ঢাকা জেলা প্রশাসন আরও বেশি মানবিক ও কর্মতৎপর হয়ে উঠবে। তাঁর এই নতুন পথচলা ঢাকার সামগ্রিক উন্নয়নে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।