বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের বিজয় দিবস ময়মনসিংহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:২৬ পিএম
জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের বিজয় দিবস ময়মনসিংহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন

ময়মনসিংহে মহান বিজয় দিবস-২০২৫ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সম্মিলিত কুচকাওয়াজ ও মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ই ডিসেম্বর) ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অতিথিবৃন্দ। পরে বেলুন, ফেস্টুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী।

অনুষ্ঠানের অভিবাদন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া, জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান।

ময়মনসিংহবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল এ দেশের মানুষের হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির সংগ্রাম এবং একটি জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের চূড়ান্ত লড়াই। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত সেই চূড়ান্ত বিজয়ের ফলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা আমাদের অহংকার, বিজয় আমাদের গৌরব। ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় ঐক্য, ত্যাগ ও বীরত্বের অনন্য প্রতীক এবং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল উৎস।”

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ‘মহান বিজয় দিবস কেবল অতীতের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণের দিন নয়, এটি ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাগরিক হিসেবে দেশকে ভালোবাসা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা এবং সাম্য, ন্যায় ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের প্রধান কর্তব্য।’

তিনি সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন আমরা জাতির এই ঐতিহাসিক অর্জনকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন, শক্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনে একযোগে কাজ করি। বিজয়ের এই গৌরবময় দিনে আমাদের প্রত্যাশা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল, ব্যাটালিয়ন আনসার, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস এবং জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট দল কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অভিবাদন মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের সম্মান জানান।

এছাড়া নওমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি শিশু পরিবার, বিদ্যাময়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শারীরিক কসরত ও মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ময়মনসিংহবাসী গভীর শ্রদ্ধা ও আনন্দের সঙ্গে বিজয়ের এই ঐতিহাসিক দিনটি বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল উদযাপন করে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি

এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর ঘটা রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১.৭ শতাংশ ঘটনার সাথে বিএনপি যুক্ত।

আজ (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ২০.৭ শতাংশ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ৭.৭ শতাংশ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী এবং ১.২ শতাংশ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পৃক্ততা রয়েছে।

‘স্বৈরাচারের পতনের দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটির ফলাফল টিআইবি-র সম্মেলন কক্ষে প্রকাশ করা হয়।

টিআইবি জানায়, বিভিন্ন দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।

এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৫০টিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, আর ১২৪টি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সদস্যরা জড়িত ছিল। এই সময়ে জামায়াত ৪৬টি ঘটনায় জড়িত ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

টিআইবি-র মতে, সরকার পতনের পর আগে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের দখল নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, সিলেটের পাথর কোয়ারি ও নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন এবং ব্রিজ, বাজার, ঘাট, বালু মহাল ও জলাশয়ের ইজারা দখলের লড়াই।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকাংশেই অকার্যকর ছিল এবং দলগুলো সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নিজ কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তফসিলের পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী: টিআইবি

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
তফসিলের পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৫ রাজনৈতিক নেতাকর্মী: টিআইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ মাসে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৭ হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫০টি ঘটনায় (৯১ দশমিক ৭ শতাংশ) বিএনপি, ১২৪টি ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ (২০ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং ৪৬টি ঘটনায় (৭ দশমিক ৭ শতাংশ) জামায়াতে ইসলামী সম্পৃক্ত ছিল।

টিআইবি জানায়, তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ৪০১ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১ হাজার ৩৩৩ অস্ত্র নিখোঁজ ছাড়াও ডিপফেক ও ভুল তথ্যের বাড়তি হুমকি, সংখ্যালঘুদের ওপর পঞ্চাশের বেশি হামলার ফলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, আন্দোলন, লুটপাট, অরাজকতা অব্যাহত রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৬৭ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৫৫ কোটি ডলারে নেমে আসে। যা ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ময়মনসিংহে অলিম্পিক ভিলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

নির্বাচনে সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায়ের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
নির্বাচনে সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায়ের নির্দেশ সেনাপ্রধানের

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও ধৈর্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ সফরকালে তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট থাকে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তিনি নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এর আগে ও পরে সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ত্রিশালে প্রস্তাবিত ‘অলিম্পিক ভিলেজ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

সেনাপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, অলিম্পিক ভিলেজ আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।