শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়মনসিংহ স্টেশনে ব্যাগের ভেতর নবজাতকের নিথর দেহ উদ্ধার!

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:০০ পিএম
ময়মনসিংহ স্টেশনে ব্যাগের ভেতর নবজাতকের নিথর দেহ উদ্ধার!

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে মানবিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ঘটে গেছে হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ব্যাগের ভেতরে রেখে এক নবজাতকের মৃতদেহ ফেলে যায় অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি। ঘটনায় স্টেশনজুড়ে মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় উত্তেজনা ও শোকের ছায়া।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত এক কর্মী প্রথমে ব্যাগটি দেখতে পান। ব্যাগের ভেতর নড়াচড়া নেই দেখে সন্দেহ হলে তিনি রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগ খুলে নবজাতক শিশুর নিথর দেহ দেখতে পায়। শিশুটি ছেলে নাকি মেয়ে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

রেলওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ধারণা করা হচ্ছে রাতের কোনো এক সময়ে কিংবা ভোরে অজ্ঞাত কেউ শিশুটিকে ব্যাগে ভরে ফেলে রেখে গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি স্টেশন এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এমন নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

দুই পরিচয়পত্র নিয়ে সন্দেহ, এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৭ এম
দুই পরিচয়পত্র নিয়ে সন্দেহ, এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ এলাকাবাসীর

ময়মনসিংহে সন্দেহজনক পরিচয়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তির কাছে থাকা দুটি পৃথক পরিচয়পত্র নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুযায়ী তার নাম জিহাদ হাসান রাব্বি। তবে অপর একটি পরিচয়পত্রে, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচয়পত্র বলে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে মো. আর্ক আহাম্মেদ নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচয়পত্র দুটির সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত পরিচয় উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমানে ওই ব্যক্তি ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বা উদ্ধার হওয়া পরিচয়পত্রের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।

ময়মনসিংহে মারধরের শিকার তরুণী, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম
ময়মনসিংহে মারধরের শিকার তরুণী, থানায় অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীর স্বদেশী বাজার এলাকায় এক তরুণীকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আসমা আক্তার (২০) কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে আসমা আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় কোনো কাজ করতে পারছেন না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন। এ অবস্থায় ভাড়া-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার, কাজল, আঁখি ও বাবুর সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নগরীর রমেশ সেন রোডের ২ নম্বর গেট এলাকায় অভিযুক্তরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন। একপর্যায়ে নাসরিন আক্তার তার তলপেটে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

এ ছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পুনরায় তার ওপর হামলা চালায়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তার বোন সুমিকেও মারধর করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত করলে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটিত হবে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁয় মিথ্যা মামলা দায়ের করে উল্টো কারাদণ্ড, জেলহাজতে বাদী

এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫২ এম
নওগাঁয় মিথ্যা মামলা দায়ের করে উল্টো কারাদণ্ড, জেলহাজতে বাদী

নওগাঁয় আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে নিজেই বিপাকে পড়েছেন শরিফুল ইসলাম ভুট্টু (৪৬) নামে এক ব্যক্তি। মামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে না পারায় উল্টো তাকেই কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নওগাঁর ১ নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরান এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম ভুট্টু নওগাঁ সদর উপজেলার চকগোয়ালী গ্রামের মৃত আহাদ আলী সরদারের ছেলে।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম ভুট্টু একই গ্রামের চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩৪২, ৩২৩, ৩৭৯ এবং ৫০৬(২)/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা গ্রহণের পর আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেন।

ডিবি পুলিশ সরেজমিন তদন্ত ও অনুসন্ধান শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। এ সময় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ইমরানের কাছে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে আদালত বাদীকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, মামলার অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় (মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধ) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় শরিফুল ইসলাম ভুট্টু নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আদালতের এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় আইনজীবী ও আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, এ আদেশের মাধ্যমে আদালতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। এটি বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।