শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিগত ২৯ বছরে যে সকল সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৩২ পিএম
বিগত ২৯ বছরে যে সকল সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা

বিগত ২৯ বছর অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে এযাবৎ যে সকল সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছে তাদের একটি খসড়া তালিকা প্রণয়ন শুরু করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে), নিম্নে বর্ণিত নিহত সাংবাদিক ছাড়াও যদি আরো কোন সাংবাদিক খুন গুম, নিখোঁজ হয়ে থাকে তাহলে সেই সকল সাংবাদিক এর নাম পরিচয় সহ আমাদেরকে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করার আহবান জানাচ্ছি।

এসকল হত্যাকান্ডের অধিকাংশ ঘটনা নিরবে নিভৃতে বিচারহীনতায় পরিবার গুলো নিঃস্ব হয়েছে। আমরা বিএমইউজে সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল নিহত সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাদের নামের তালিকা সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন বিএমইউজে।

১৯৯৬ সালের ৮ জুন সাতক্ষীরার পত্রদূত সম্পাদক শ ম আলাউদ্দীন খুন হন। এর দুই বছর পর ৩০ আগস্ট যশোরের দৈনিক রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল খুন হন। ২০০০ সালের ১৬ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠের যশোর প্রতিনিধি শামছুর রহমান কেবলকে নিজ কার্যালয়ে সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। ২০০২ সালের ২ মার্চ খুন করা হয় খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বাঞ্চলের সিনিয়র রিপোর্টার হারুন অর রশিদকে।

এর চার মাস পর খুন হন খুলনার অনির্বাণ পত্রিকার সাংবাদিক শুকুর হোসেন এবং আগস্টে শ্রীমঙ্গলে খুন হন দৈনিক পূবালী বার্তার সাংবাদিক সৈয়দ ফারুক আহমেদ। ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় নিহত হন দৈনিক সংবাদের খুলনা ব্যুরো প্রধান এবং প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মানিক সাহা।

একই বছরের ২ মার্চ কেরানীগঞ্জে দ্য নিউএজের সাংবাদিক আব্দুল লতিফ পাপ্পু নিহত হন। ওই বছরের ২৭ জুন নিজের অফিসে নিহত হন খুলনার দৈনিক জন্মভূমির সম্পাদক হুমায়ূন কবির বালু। ২২ আগস্ট চট্টগ্রামে খুন হন আজকের কাগজের সাংবাদিক কামাল হোসেন। এর দুই মাসের মাথায় অক্টোবরে বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক দুর্জয় বাংলার নির্বাহী সম্পাদক দীপংকর চক্রবর্তী নিজ বাসায় নিহত হন।

ওই বছরই খুন হন দৈনিক সংগ্রামের খুলনা প্রতিনিধি বেলাল হোসেন। ২০০৫-এর ২৯ মে কুমিল্লার দৈনিক মুক্তকণ্ঠের সাংবাদিক গোলাম মাহমুদ, ওই বছরের ৫ নভেম্বর দৈনিক সমকালের ফরিদপুর ব্যুরো চিফ গৌতম দাসকে হত্যা করা হয়।

এ ছাড়া ২০১১ সালের ২৮ জানুয়ারি পল্টনের নিজ বাসায় খুন হন দৈনিক জনতার সহসম্পাদক ফরহাদ খাঁ ও তার স্ত্রী রহিমা খাতুন। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম আতিক, জুলাই মাসে ঢাকার পাক্ষিক মুক্তমনের স্টাফ রিপোর্টার নুরুল ইসলাম ওরফে রানা, আগস্টে গাজীপুরে সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাহী সম্পাদক এমএম আহসান হাবিব বারি এবং ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সংবাদদাতা ও রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আবুল হাসান আসিফ খুন হন।

২০১০ সালের ৯ মে গুপ্তহত্যার শিকার হন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার সিনিয়র ক্যামেরাম্যান শফিকুল ইসলাম টুটুল। একই বছরের ২৮ এপ্রিল সাপ্তাহিক ২০০০-এর সিলেট প্রতিনিধি ফতেহ ওসমানী এবং ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশ্যে খুন হন বরিশালের মুলাদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনির হোসেন রাঢ়ী।

২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গলা কেটে হত্যা করা হয় দৈনিক ভোরের ডাকের গোবিন্দগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ফরিদুল ইসলাম রঞ্জুকে। ওই বছরের এপ্রিলে চট্টগ্রামের পোর্টকলোনিতে দৈনিক আজকের প্রত্যাশার সাংবাদিক মাহবুব টুটুলকে হত্যা করা হয়। একই বছরের এপ্রিলে উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কে ১০ নম্বর বাসা থেকে সাপ্তাহিক বজ্রকণ্ঠের সাংবাদিক আলতাফ হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি। ওই ঘটনার পর সাংবাদিক সমাজ আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এক যুগের বেশি সময় ধরেও মামলার তদন্ত শেষ করা হয়নি। ওই বছরের ১৫ জুন যশোরে খুন হন সাংবাদিক জামাল উদ্দিন।

২০১৪ সালের ২১ মে চুয়াডাঙ্গায় খুন হন দৈনিক মাথাভাঙা পত্রিকার সাংবাদিক সদরুল আলম নিপুল এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে রংপুরে খুন হন যুগের আলো পত্রিকার সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস, ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে খুন করা হয় দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুলকে। ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে খুন হন দৈনিক বিজয় পত্রিকার সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন। পরের বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীতে খুন হন বাংলাদেশ সমাচারের সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মোজাক্কির।

২০২২ সালের এপ্রিলে দৈনিক কুমিল্লার ডাকের সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাইম খুন হন। একই বছরের ৩ জুলাই নিখোঁজের পর লাশ মেলে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেলের।

সিরাজগঞ্জে নিহত সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন বলেন, তার স্বামীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত তৎকালীন পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হলেও সবাই কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছে। তিনি ৬ বছর ধরে অপেক্ষা করেও এখন পর্যন্ত স্বামী হত্যার বিচার পেলেন না। মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাগর -রুনি, জামালপুরের নাদিম ও শেলু আকন্দ ও সর্বশেষ ৭ আগষ্ট -২৫ রাত ৮ টায় গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা মসজিদ মার্কেটে সামনে খুন হয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামা তুহিন তার বাড়ী ফুলবাড়িয়া উপজেলায়।

অষ্টগ্রামে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ নিয়ে মতবিনিময়

মোক্তার হোসেন গোলাপ, হাওর অঞ্চল।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
অষ্টগ্রামে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ নিয়ে মতবিনিময়

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হাওরাঞ্চলের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়ন ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘হাওরাঞ্চল গ্রন্থাগার সংযোগ-২০২৬’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় হাওরাঞ্চলে ভাসমান নৌ-পাঠাগার স্থাপন, স্থানীয় পর্যায়ে পাঠক তৈরি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে বই ও তথ্য-জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অষ্টগ্রাম জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সহযোগিতা এবং সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বর্মনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপপরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন সরকার। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোবারক হোসেন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপগ্রন্থাগারিক রাসেল রানা, অষ্টগ্রামের স্বপ্নীল গণগ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, মিঠামইনের হাওর পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা ওমর ফারুকসহ অন্যরা।

সভায় বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রন্থাগারগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্গম হাওর এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে বই ও তথ্য-জ্ঞান পৌঁছে দিতে ভাসমান নৌ-পাঠাগার চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

হাওরাঞ্চলের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পাঠক তৈরির উদ্যোগ, বই পড়ার সংস্কৃতি বিস্তৃত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।

মিঠামইনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

মিঠামইন প্রতিনিধি।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
মিঠামইনে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে আঘাত ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের মুখে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরদিন বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় তারা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ নিয়ে আলোচনা হলেও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কোনো সমাধান হয়নি। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক আঘাত বন্ধ করা, বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

তবে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিদ্যালয়ের পাশের ব্রিজে গিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। তখন তিনি তাদের ‘শুধু শাসন করেছেন’।

বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনার বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।

রূপগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বাসায় কৃষকদলের অবৈধ পকেট কমিটির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৯ এম
রূপগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বাসায় কৃষকদলের অবৈধ পকেট কমিটির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের বাসায় উপজেলা কৃষক দলের খসড়া কমিটি ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদে এই নেতার বিরুদ্ধেই সংবাদ সম্মেলন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দল। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হোড়গাঁও বাজারের কৃষক দলের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দলের সভাপতি ডা. শাহিন মিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের বাসায় কৃষক দলের খসড়া কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, এমন একটি ভিডিও ও সংবাদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাসুরউদ্দিন বাচ্ছুও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জেলা কৃষক দল এ বিষয়ে কিছুই জানে না। এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় সুসংগঠিত কৃষক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের কমিটি বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে। আমি জেলা কৃষক দলের সভাপতি এবং উপজেলা কমিটির সভাপতি শাহ আলম বেপারী ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল। সারা বাংলাদেশের মধ্যে রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষক দল সফল, উজ্জীবিত ও সুসংগঠিত। এটা একটা চক্রান্ত, এরা বিএনপির মঙ্গল চায় না। পূর্বের রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের যে কমিটি ছিল, সেটিই এখনও বহাল রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ বা খসড়া কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সাংগঠনিক বিধিবিধান এবং অভিভাবক কমিটির সম্মতি অপরিহার্য। মূল দলের সভাপতি বা সম্পাদকের বাসভবনে জেলা বা কেন্দ্রীয় অনুমোদন ছাড়া সহযোগী সংগঠনের খসড়া কমিটি ঘোষণার ঘটনা দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোয়াটার-কোন্দল ও চেইন অব কমান্ড ভঙ্গের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। এতে স্থানীয় পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা তৈরি হতে পারে, যা আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্বাচনী মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা।