নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে ময়মনসিংহে ‘পিস আড্ডা’ আলোচনা সভা
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘পিস আড্ডা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ময়মনসিংহ-এ। সম্প্রতি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিরাক-বাংলাদেশ এবং বাস্তবায়ন করে নগর যুব কাউন্সিল, ময়মনসিংহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ-এর উপ-পরিচালক মো: হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হলেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গুজব, ভুয়া তথ্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা সহিংসতার কারণ হতে পারে। এসব প্রতিরোধে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কালের কণ্ঠস্বরের সম্পাদক মোহাম্মদ রিয়াদ। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাংস্কৃতিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক এবং ভিশন নাট্যাঙনের সভাপতি নাজমুল হাসান রাজু খান বলেন, তরুণরাই পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। সঠিক তথ্য যাচাই, সহনশীল মনোভাব এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে যুবসমাজ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুব কাউন্সিলর মো: সজিব হাসান সানি। এতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে কৃষ্টপুর ব্লাড সোসাইটির সভাপতি রাসেল, সাইবার কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সাকিব এবং টিআইবি’র ইয়েস গ্রুপের দলনেতাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন সনাতন ধর্মালম্বী পুরোহিত এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিরাও।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা গুজব ও অপপ্রচার শনাক্তকরণ, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল আচরণ, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যের দ্রুত বিস্তার যেমন সচেতনতা বাড়ায়, তেমনি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে তরুণ সাংবাদিক, অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে এবং তরুণদের মতামত ও সুপারিশ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।








