বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ভাবখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নায়েবের বিরুদ্ধে ঘুষ–দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম
ভাবখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নায়েবের বিরুদ্ধে ঘুষ–দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২নং ভাবখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে জমি নামজারি (মিউটেশন), খাজনা আদায়সহ বিভিন্ন সেবা দিতে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি নিয়ম-নীতি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত নায়েব লুৎফর রহমান টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। অর্থের বিনিময়ে তিনি জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই প্রতিবেদন তৈরি করেন। এতে প্রতারিত হচ্ছেন অসংখ্য সাধারণ ভূমি মালিক, যারা পরবর্তীতে জমি সংক্রান্ত মামলা ও জটিলতায় পড়ছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, গ্রামের সহজ-সরল মানুষজন ভূমি অফিসে গেলে প্রতিটি ধাপে ধাপে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। নায়েবের এই ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ভাবখালী ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতারা।

ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে জমির খাজনা আদায়, দাখিলা প্রদান, নামজারি (মিউটেশন)সহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সেবা প্রদান করা হয়। সরকার ভূমি সেবা সহজীকরণ ও ডিজিটাল কার্যক্রম জোরদার করলেও ভাবখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ঘুষ ছাড়া সেবা নিতে গেলে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর তা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। দালাল চক্রের বাইরে গিয়ে সেবা নিতে চাইলে আবেদন বাতিলসহ নানা কৌশলে ভোগান্তিতে ফেলা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দালালদের মাধ্যমে এবং অফিসের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ঘুষের বিষয়ে সমঝোতা না করলে ফাইল দীর্ঘদিন টেবিলেই পড়ে থাকে। কিন্তু নায়েবের চাহিদামতো টাকা দিলেই মুহূর্তের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি নামজারি (খারিজ) ফাইলের জন্য নায়েবকে গড়ে ২ হাজার টাকা দিতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন মিস কেস, ১৪৪ ধারাসহ অন্যান্য মামলার প্রতিবেদনের জন্য ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রেও প্রথমে বেশি টাকা নির্ধারণ করে পরে ঘুষের বিনিময়ে কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা আরও জানান, নায়েব লুৎফর রহমান দালাল চক্রের সহায়তায় অবৈধভাবে জমি সংক্রান্ত কাজের অনুমোদন দিচ্ছেন। এতে ভূমি মালিকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ গ্রহণের জন্য নায়েবের নিয়োজিত দুইজন ব্যক্তি অফিসে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তাদের মাঝে একজন হচ্ছে নারী (তাসলিমা) ও একজন হচ্ছে পুরুষ (আরিফ)।

এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে প্রতিবেদক পরিচয় দিয়ে নায়েব লুৎফর রহমানের বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি অসৌজন্যমূলক ও কর্কশ আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ভাবখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, যথাযথ তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
ময়মনসিংহে মাদকবিরোধী অভিযান: ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে এসআই শাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মুক্তা, তামান্না ও রুনা নামের তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ শিবিরুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৬ এম
ময়মনসিংহের ফুলপুরে খাস জমি দখল ও খাল ভরাট, পানি নিষ্কাশনে চরম সংকটের আশঙ্কা

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের একাংশে খাস হালট জমি দখল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ দখল কার্যক্রমের ফলে খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা খাস জমি দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে করে খালটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। খালটি বালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি বহন করে পাশের ঢাকুয়া ইউনিয়নে পৌঁছে দেয়, যা পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাল ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পড়েছে। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল খালটি পুনরুদ্ধার এবং দখলমুক্ত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।

ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

নাজমুল হাসান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
ময়মনসিংহে শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগও

ময়মনসিংহ নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন আকুয়া মড়লপাড়া এলাকায় এক শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বর্তমানে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সুলতানা হাফিজুন নাহার তার স্বামী শফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আলীপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. মাসুদ রানার সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গার্মেন্টস পণ্যের শিপমেন্ট ব্যবসায় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ৩ মে ও ৫ জুন দুই দফায় মোট ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে মূল টাকা ও লভ্যাংশসহ মোট ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছেন বলেও দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাওনা টাকা চাইতে ফোন করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, একদিকে তারা অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছেন, অন্যদিকে অভিযুক্তের হুমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

কোতোয়ালী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।