রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ!

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ২১ মে, ২০২৫, ৩:৫৯ পিএম
গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ!

হামলা ভাংচুর লুটপাটের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী মিলন গনমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়ায় তার উপরেও বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মিলনের ডান হাত হাড় ভাঙ্গা জখম হয়েছে।

বুধবার(১৪ মে) বিকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ৭নং চর নীলক্ষীয়া ইউনিয়নে রাজগঞ্জ (সাহেব কাছারি) বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

এমন অভিযোগ উঠেছে গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চর ঘোড়ামারা গ্রামের সাইকেল মিস্ত্রী মৃত কাদির ফকিরের ছেলে বিএনপি নেতা মো: সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত সিরাজ জনতার রোষানল থেকে নিজেকে বাঁচাতে দৌঁড়ে বাজারের নিকটবর্তী একটি বাড়িতে আত্মগোপন করে। স্থানীয় শত শত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির চারপাশে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখে। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলামকে বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব করে সময় নেন।

তবে অদ্যবদি পর্যন্ত বিষয়টি কোনো প্রকার সুরাহা না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের বহিঃ প্রকাশ ঘটেছে। যেকোনো সময় আবারও ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো: সিরাজুল ইসলাম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি হামলা ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির নেতা। আমার ছেলে রিয়াদুল ইসলাম মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সদস্য ছিলো। আমার দ্বারা এমন কাজ কি সম্ভব?

তবে তার ছেলে রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ পলাতক ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগের দোষর সোমনাথ সাহার মিছিল মিটিংয়ের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা বা সমর্থক ছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। স্থানীয়ভাবে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি ছিলো বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গৌরীপুরের বিএনপির কয়েকজন নেতা আক্ষেপ করে বলেন, রাজনীতি করাটাও কঠিন হয়ে গেছে। উপজেলার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে সিরাজুল ইসলাম যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে স্থান পাওয়া এটা রাজনীতিতে ভালো বার্তা নয়, ৫ আগস্টের পর রাজনীতির মাঠে সরব হয়ে উঠা নেতাদের কমিটিতে স্থান মানেই ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন। সিরাজ আগস্ট পূর্বে রাজনীতির মাঠে কখনোই সক্রিয় ছিল না।

এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপি নেতা হান্নান এর মুঠো ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। এমনকি তার মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এর আগে সাহেব কাছারি বাজারে সোহাগের কাঁচা মালের আড়তে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে, তদন্ত শেষে দোষী সাব্যস্ত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কাঁচামালের আড়তে হামলা ভাংচুরের ঘটনায় মামলা বা মীমাংসা কোনটাই না হওয়ায় পরবর্তীতে নেক্কার জনক ঘটনাটি ঘটেছে। সচেতন মহল জানান, যে সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাদের ব্যর্থতাই পরবর্তী ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বর্তমানে যে প্রেক্ষাপটের সৃষ্টি হয়েছে তাতে আরও মারামারি কাটাকাটির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দায়িত্বশীলদের জোড়ালো ভূমিকা রাখা উচিৎ।

সি পার্লের সাগরবিলাসে ডুবছে রাষ্ট্রীয় অর্থ!

চুক্তি ভঙ্গ, কিস্তি খেলাপি আর রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আলোচনায় ‘সি পার্ল’

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৫:২০ পিএম
চুক্তি ভঙ্গ, কিস্তি খেলাপি আর রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আলোচনায় ‘সি পার্ল’

কক্সবাজারের ইনানি সৈকতে সাগরের নীল জলরাশির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিলাসবহুল ‘সি পার্ল বিচ রিসোর্ট’। বাইরের চাকচিক্য আর রমরমা ব্যবসার আড়ালে এবার সামনে এসেছে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। মানুষের আমানতের টাকা নিয়ে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে ফাঁদে ফেলে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের মূল হোতা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু। তিনি সি পার্ল রিসোর্টের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০১৭ সালে আইসিবিকে ৩২৫ কোটি টাকার বন্ডে বিনিয়োগে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ৮ বছর মেয়াদি ওই বিনিয়োগের শর্ত অনুযায়ী ১০ শতাংশ সুদে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ষান্মাসিক ভিত্তিতে কিস্তি পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু সি পার্ল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ না করায় ৩২৫ কোটি টাকার মূল বিনিয়োগ সুদে-আসলে বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৯৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৬ হাজার ৭৬৬ টাকায়। অর্থাৎ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা এখনো পাওনা আইসিবির।

অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু কিস্তি খেলাপিই নয়, বন্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তও লঙ্ঘন করেছে সি পার্ল কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী ২০ শতাংশ শেয়ার রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি। ঋণের বিপরীতে সম্পদের ওপর প্রথম চার্জ সৃষ্টি বা বন্ধকীকরণও সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে আইসিবির বিনিয়োগ কার্যত অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। এমনকি বিলম্বে কিস্তি পরিশোধের অতিরিক্ত সুদের শর্তও নানা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, বছরজুড়ে পর্যটকে ভরা ও রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করা একটি রিসোর্ট কেন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছে না? আইসিবির একাধিক সূত্র বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিবির এক কর্মকর্তা জানান, সি পার্ল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার তাগাদা দিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ আটকে থাকায় আইসিবি নিজেও আর্থিক চাপে পড়েছে।

সি পার্লের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছিল। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘বেঙ্গল ফাইন সিরামিক্স লিমিটেড’-এর কারখানা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় কয়েকশ সন্ত্রাসী নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে কারখানা দখল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দখলবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছে কীভাবে শত শত কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ অনুমোদন পেল? রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে দেশের আর্থিক খাত কতটা জিম্মি হয়ে পড়েছে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সি পার্লের এই বন্ড কেলেঙ্কারি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় অর্থ লুণ্ঠনের একটি সুপরিকল্পিত চিত্র, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রভাব এবং আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালালেন অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালালেন অভিযুক্ত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া নিজেই স্বজনদের ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পরিবার ও পুলিশ।

শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার (৯ মে) সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

নিহতরা হলেন— ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

জানা গেছে, পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফুরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে রাউতকোনা গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়। তার বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত ও বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। তাদের মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। অপরদিকে শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ এবং কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া মরদেহের পাশে বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া যায়। সেগুলোর সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফুরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া অভিযোগপত্র ও ঘটনাস্থলের আলামত গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ময়মনসিংহে ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে বাইক চুরির মূল হোতা আকাশ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১:৩৩ এম
ময়মনসিংহে ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে বাইক চুরির মূল হোতা আকাশ আটক

ময়মনসিংহে প্রতারণার মাধ্যমে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে আকাশ নামে এক যুবকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে জেলার তারাকান্দা উপজেলা থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় চৌকস উপ-পরিদর্শক (এস আই) আজাদ ও সংগীয় ফোর্সের পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন কৌশলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটরসাইকেল হাতিয়ে নিচ্ছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারাকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকাশকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আটক আকাশ বিভিন্ন সময় নিজেকে ক্রেতা বা পরিচিত ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যেত। তার স্ত্রীও এ প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কোতোয়ালী মডেল থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, আটক আকাশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, অপরিচিত ব্যক্তির কাছে মোটরসাইকেল বা মূল্যবান সামগ্রী হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা জরুরি।