বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

নিখোঁজ বাক-প্রতিবন্ধী যুবককে ২৪ ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার করলো পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ৭ মে, ২০২৫, ৮:৪৬ এম
নিখোঁজ বাক-প্রতিবন্ধী যুবককে ২৪ ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার করলো পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা

ময়মনসিংহে ০৬ দিন ধরে নিখোঁজ সংগ্রাম(ছদ্মনাম)(২১) নামে বাকপ্রতিবন্ধী যুবককে অভিযোগপ্রাপ্তীর মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা। গতকাল বগুড়ার সান্তাহার রেল স্টেশন থেকে তাকে সুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ভিকটিম সংগ্রামের(ছদ্মনাম) বাড়ি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানায়।

জিডির বর্ণনা মতে গত ২৬ এপ্রিল ভিকটিম বাক প্রতিবন্ধী সংগ্রাম ময়মনসিংহের কালীবাড়ি এলাকায় তার খালার বাড়ি থেকে নেত্রকোণায় নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে সে আর বাড়িতে ফিরে না যাওয়ায় পরিবারের লোকজন সংগ্রামের মোবাইলে ফোন করলে তা বন্ধ পায়। ভিকটিম সংগ্রাম বাকপ্রতিবন্ধী হলেও তার সামান্য অক্ষর জ্ঞান ছিলো এবং স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে পারতো। এরপর সংগ্রামের বাবা আশেপাশে ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করে না পেয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানায় তার ছেলের নিখোঁজ সংক্রান্তে সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজ হওয়ার ০৫ দিন পরও ভিকটিম সংগ্রামের কোন সন্ধান না পেলে তারা বিষয়টি পিবিআই ময়মনসিংহকে জানায়।

অ্যাডিশনাল আইজিপি, পিবিআই জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর তত্ত্বাবধানে পিবিআই, ময়মনসিংহ ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার এর সার্বিক সহযোগিতায় পিবিআই ময়মনসিংহের আভিযানিক টিম উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পিবিআই টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজের মোবাইলের সন্ধান পায় নওগাঁ জেলার জগদ্দল এলাকায়। সেই সূত্র ধরে ভিকটিম বাকপ্রতিবন্ধী সংগ্রামকে রবিবার (৫মে) রাত ৯টায় বগুড়ার সান্তাহার রেল স্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ২৬/০৪/২০২৫ তারিখ সকাল ০৮ টায় ভিকটিম তার খালার বাড়ি ময়মনসিংহের কালীবাড়ি এলাকা থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য ভুলক্রমে ঢাকা গামী ট্রেনে উঠে ঢাকায় চলে যায়। দিশেহারা হয়ে ঢাকা থেকে সে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে উঠে বগুড়া জেলার সান্তাহার রেল স্টেশনে গিয়ে নামে। ক্ষুধার তাড়নায় সে খুবই স্বল্পমূল্যে তার কাছে থাকা মোবাইলটি সান্তাহার রেল স্টেশনে জনৈক আলামিনের কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর থেকে সে সান্তাহার রেল স্টেশনেই ভবঘুরে হিসাবে অবস্থান করতে থাকে। পিবিআইয়ের চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোনের ক্রেতা আলামিনকে শনাক্ত করে ও তাকে নিয়ে সান্তাহার রেল স্টেশনে বিভিন্ন স্থানে ভিকটিমকে খুঁজতে শুরু করে। একপর্যায়ে রেল স্টেশনের পরিত্যক্ত জায়গায় তাকে শুয়ে থাকতে দেখে সংগ্রামকে উদ্ধার করে। সংগ্রামকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংগ্রামের বাবা বলেন, গত ২৬ এপ্রিল সংগ্রাম ময়মনসিংহের কালীবাড়ি এলাকায় তার খালার বাড়ি থেকে নেত্রকোণায় বাড়িতে আসার জন্য বের হয় নিখোঁজ হয়। আমরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করে না পাইলে কোতোয়ালী থানায় জানাই। পরে পিবিআই পুলিশ সুপারকে জানাই। তারা আমার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করে দিয়েছে।

ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
ময়মনসিংহে পুলিশের সফল অভিযানে ৮ মামলার আসামি পিয়াল হাসান গ্রেপ্তার, মিলল চোরাই মোটরসাইকেল

ময়মনসিংহ নগরীর ধোপাখলা এলাকায় কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ শিবিরুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানাধীন ৩নং ফাঁড়ির চৌকস এস আই সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালিয়ে মোঃ পিয়াল হাসান (২৬) নামে এক চোর, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত পিয়াল হাসান বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা: রমজান আলী ও মাতা: পারভিন বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোতোয়ালী মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদক সংক্রান্ত মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২১ এম
ময়মনসিংহে কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল গ্রামে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে খাইরুল ইসলাম, মফিজ, আবেদ আলী, রাবেয়া খাতুন, লাকী আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই স্থানীয় কৃষকদল নেতা আশিকুর রহমান মিলনের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলন জমিটি ক্রয় করেছেন দাবি করে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জিডি করার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর জমিতে থাকা দোকানপাট ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় পরিবারের দুই সদস্য আহত হন।

এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দোকানের পাশেই থাকা তাদের পারিবারিক গোরস্থানের জমিও দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষকদল সভাপতি আশিকুর রহমান মিলনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ জানায়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম
বিধিমালা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি? ময়মনসিংহের ডিডি হারুনকে ঘিরে অভিযোগ

ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক উপপরিচালকের পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে পদোন্নতি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ময়মনসিংহে কর্মরত উপপরিচালক হারুন অর রশিদ ২০২১ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি লাভ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে তিনি এ পদোন্নতি নেন।

নিয়োগ বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, উপপরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশিদ ১৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে পদোন্নতি পাওয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ছিল ৭ বছরেরও কম।

এছাড়া ২০১৮ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ১৪০ নম্বরে। কিন্তু পদোন্নতির তালিকায় তাকে ৬০ নম্বরে উন্নীত করা হয়, যা জ্যেষ্ঠতা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি এই পদোন্নতি নিশ্চিত করেন। এতে জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন –

১) অবৈধ পদোন্নতি বাতিল,

২) পদোন্নতির মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা,

৩) সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে উপপরিচালক হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে সচিব স্যার অবগত আছেন, তিনিই সব ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।