বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৯ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৯ ১৪৩২

সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বলকে প্রান নাশের হুমকি; বিএমইউজে নিন্দা প্রতিবাদ

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৫:০৭ পিএম
সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বলকে প্রান নাশের হুমকি; বিএমইউজে নিন্দা প্রতিবাদ

ময়মনসিংহে লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আমেনা বেগম চম্পার সহযোগিতায় স্কুলের অফিস কক্ষে চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র মুলক গোপন বৈঠকের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বলকে প্রান নাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

চরনিলক্ষিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ সদস্য মোঃ ছিদিকুর রহমান শাহিন এর নেতৃত্বে অজ্ঞাত নামা কয়েকজন সাংবাদিকের পথরোধ করে প্রকাশ্যে খুন জখম করে লাস গুম করার হুমকির ঘটনায় রবিবার ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) কেন্দ্রীয় সভাপতি সোহেল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান এক যুক্ত বিবৃতিতে গভীর উদ্যেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অভিলম্ভে এদের আইনের আওতায় আনার জোড় দাবি জানিয়েছেন।

মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল দৈনিক কালের প্রতিচ্ছবি পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার এবং দৈনিক নতুন সময় পত্রিকার ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

জানা যায় গত ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ তারিখ ময়মনসিংহ সদর চরনিলক্ষীয়া আ’লীগের ষড়যন্ত্রমূলক গোপন বৈঠক শিরোনামে দৈনিক কালের প্রতিচ্ছবি ও দৈনিক নতুন সময় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদের সূত্র ধরে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা রুজু হয়। সেই আক্রোশে ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ তারিখ রাত ৭.২০ ঘটিকার সময় কোতোয়ালী থানাধীন সাহেব কাচাঁরী রাজগঞ্জ বাজারস্থ লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বলকে পেয়ে চরনিলক্ষিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ সদস্য মোঃ ছিদিকুর রহমান শাহিন এর নেতৃত্বে অজ্ঞাত নামা কয়েকজন পথরোধ করে প্রকাশ্যে খুন জখম করে গুম করার হুমকিসহ পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে জানিয়ে দেয় চরনিলক্ষিয়া ইউনিয়ন আ’লীগ এর সহ সভাপতি রফিকুল মাস্টার ও ময়মনসিংহ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল এর কিছু হলে তোর বাড়ী ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।

এ ঘটনায় সাংবাদিক মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। যাহার জিডি নং ৬৫৭ তারিখ ৭/০২/২০২৫ ইং।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিয়োগ বাণিজ্য ও জমি দখল- সম্পদের পাহাড় গড়েছেন যুবলীগ সভাপতি সেলিম!

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিয়োগ বাণিজ্য ও জমি দখল- সম্পদের পাহাড় গড়েছেন যুবলীগ সভাপতি সেলিম!

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্য, কৃষিজমি দখলের চেষ্টা, সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভাবখালী দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হন সেলিম। ওই সময় মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী, ঝাড়ুদারসহ একাধিক পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই মাদ্রাসায় জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত প্রায় ৭ লাখ টাকা এবং নারায়নপুর তোরার মোড় জামে মসজিদের ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ভাবখালী মৌজায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী ভাসমান কিছু জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন ফসলি জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপনে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে ভাবখালী গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাশে কৃষিজমিতে পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নামে জমি কেনার উদ্যোগ নেন সেলিম। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই জমিগুলোতে গম, ভুট্টা, মরিচ, বাদাম, ধান ও পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ফসল চাষ হয়। প্রতিবছর এসব জমি থেকে কয়েক হাজার টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৯ সাল থেকে এলাকায় পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও সাবেক যুবলীগ নেতা ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর নেতৃত্বে কিছু দালালের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে জমি কেনার চেষ্টা শুরু হয়। তবে অধিকাংশ কৃষক জমি বিক্রি করতে অনিচ্ছুক থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়াই কিছু জমিতে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড বসানো হলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা তা ভেঙে ফেলেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বারের ছেলে মকবুল হোসেন বলেন, “গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা এই কৃষিজমি। কিন্তু প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা করে সেলিম কৃষকদের মতামত ছাড়াই শিল্পকারখানা নির্মাণের পায়তারা করছেন। ইতোমধ্যে অনেকের জমি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জমি ছেড়ে দিতে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকিও দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “জমি রক্ষা ও জনজীবন নিরাপদ রাখতে আমরা বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ময়মনসিংহ ও আশপাশের এলাকায় জমি কেনাবেচা, দালালি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যেও তিনি জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ময়মনসিংহ ও নিজ এলাকায় হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালী ময়নার মোড় এলাকায় জমিসহ একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২ নম্বর ভাবখালী ইউনিয়নের ভাবখালী গ্রামের মাথালিয়া বাড়ি এলাকায়। স্কুলজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ভাবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী মীরের হাত ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। পরে ছাত্রলীগ থেকে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ভাবখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক যোগাযোগের সূত্র ধরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। পরবর্তীতে বিশেষ সুপারিশে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে কাগজে-কলমে দায়িত্বে থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিস করতেন না এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় থেকেই জমি কেনাবেচা, দালালি, ঘুষ ও মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেলিম। বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার জন্য জমি কেনার ব্যবস্থা করে দিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকরা আপত্তি জানালে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করে তা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষর জাল করা বা নকল সিলমোহর ব্যবহার করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়।

তবে গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আইনের আওতায় এলেও সেলিম এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলছেন, সেলিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউছুফ আব্দুল্লাহ আল মামুন (সেলিম)-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

ময়মনসিংহের দাপুনিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের রাজত্ব, সেবাগ্রহীতাদের চরম ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম
ময়মনসিংহের দাপুনিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের রাজত্ব, সেবাগ্রহীতাদের চরম ভোগান্তি

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জমির খাজনা পরিশোধ থেকে শুরু করে নামজারি পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি দাপ্তরিক কাজেই ঘুষ দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে নামজারি (মিউটেশন) প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এই দপ্তরে দালালদের মধ্যস্থতা ছাড়া কোনো কাজই এগোয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ফাইলের ওপর দালালদের সঙ্গে করা চুক্তির বিশেষ ‘সাংকেতিক চিহ্ন’ না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে আবেদন বাতিল করে দেন। ফলে সাধারণ মানুষকে একদিকে যেমন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, অন্যদিকে পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘ ভোগান্তি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনলাইনে আবেদন করার পর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। নির্দিষ্ট দালাল না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি আবেদনকারীর সঙ্গেও অর্থের চুক্তি করা হয়। চুক্তি সম্পন্ন হলে ফাইলের ওপর বিশেষ চিহ্ন দেওয়া হয়, যা দেখে পরবর্তী ধাপের কর্মকর্তারা ফাইলটি দ্রুত অগ্রসর করেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতিদিন অফিস সময় শেষে বিশেষ চিহ্নযুক্ত ফাইলের হিসাব অনুযায়ী ঘুষের টাকা লেনদেন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষেত্রেও ভূমি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সরাসরি এই চুক্তিতে জড়িত থাকেন। যারা এই অনৈতিক চুক্তিতে রাজি হন না, তাদের আবেদন নানা ত্রুটি দেখিয়ে বাতিল করে দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এই দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

ইউনিয়নের কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, নামজারি করাতে তাদের ভূমি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমি জমির নামজারি করতে সব কাগজপত্র ঠিকঠাক দিয়েছি। কিন্তু টাকা না দিলে কোনো কাজ এগোয় না। কয়েক মাস ধরে ঘুরছি, এখনো ফাইল এগোয়নি।”

অভিযোগ রয়েছে, অফিস টাইম শেষে নির্দিষ্ট দালালদের নিয়ে রাত পর্যন্ত চলে অবৈধ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ। দালাল সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে সেবা নিতে চাইলে সেবাগ্রহীতাদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। এমনকি চাহিদামতো ঘুষ না দিলে দীর্ঘদিনেও ফাইল টেবিল থেকে নড়ে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রতিটি নামজারি খারিজের নথির পেছনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এছাড়া মিসকেস, ১৪৪ ধারাসহ বিভিন্ন মামলার প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, খাজনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও অনিয়ম করা হচ্ছে। নায়েব শফিকুল ইসলাম ইচ্ছামতো বেশি খাজনা নির্ধারণ করলেও পরে অতিরিক্ত টাকা দিলে তা কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি মিউটেশনের সরকারি ফি প্রায় ১,১৭০ টাকা হলেও দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মিউটেশনের জন্য ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসিল্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে এই টাকা আদায় করা হয়।

স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীরা জানান, জমির নামজারি, খতিয়ান দেখা, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা খাজনা আদায় প্রতিটি ধাপেই অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। ফলে প্রতিদিন অনেক মানুষকে অফিসের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

স্থানীয়দের দাবি, দাপুনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই দুর্নীতি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৫ এম
ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের ময়মনসিংহ জেলা শাখার আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) নগরীর গ্রীন পার্ক রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সুধীজনরা অংশগ্রহণ করেন। রমজানের পবিত্রতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা, সমাজের কল্যাণ ও দেশ-জাতির উন্নতির জন্য একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান জুয়েল আকন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজচিন্তক ড. ইদ্রিস খান। প্রধান অতিথি হিসেবে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ৩ ইন্সপেক্টরসহ তাজুল ইসলাম।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাপ্তি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পলাশসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্শেদ কামাল মিজান।

প্রধান আলোচক ড. ইদ্রিস খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই মাস আমাদেরকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজ জাতির বিবেক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইইউজে)’র সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের পেশার মানউন্নয়ন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, মফস্বল সাংবাদিকরা অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারষ্পরিক সম্পর্ক জোরধার করার আহবান জানিয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পারে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে এবং পেশাগত উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন। এ ধরনের ইফতার মাহফিল সাংবাদিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পলাশ বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য গড়ে তোলা বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজের উন্নয়ন ও কল্যাণে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সংগঠনটি আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পবিত্র রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। তারা সমাজে ন্যায়, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, জনকণ্ঠ প্রতিনিধি, আলমগীর কবির উজ্জ্বল, আমার সংবাদ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল আমিন, এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি তাসলিমা রত্না সহ ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ ময়মনসিংহের কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে উপস্থিত সকলের মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়। আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।