শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন মিলনায়তনে

দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না-স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ৭:০২ পিএম
দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না-স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবঃ) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। সিন্ডিকেটসহ যেকোনো প্রকার অসাধু উপায়ে কেউ যদি সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। মাদক বর্তমান সমাজে একটি বড় সমস্যা। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগ কাম্য। আর তা নিশ্চিতে ময়মনসিংহের বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও তিনি নির্দেশ প্রদান করে বলেন দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

সার ও বীজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিতে যদি কোনো ডিলার জড়িত থাকে, তবে তার ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যাবে। কৃষকরা অবশ্যই ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ পাবে।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে সশস্ত্র বাহিনী, ময়মনসিংহ রেঞ্জের আওতাধীন সকল পুলিশ ইউনিট, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার ময়মনসিংহ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সাথে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় আলোচনাকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। মাদক বর্তমান সমাজে একটি বড় সমস্যা। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগ কাম্য। দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। এরপরেও এ ব্যাপারে কোনো ধরনের অভিযোগ এলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ধর্মীয় বিষয়কে সামনে এনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন এক্ষেত্রে হয়রানির শিকার না হন সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট গুজব প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এক্ষেত্রে জনসচেতনতা সৃষ্টিতেও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ জরুরী।

তিনি বলেন, ময়মনসিংহ শহরের যানজটের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। নগরীর যানজট কমিয়ে আনতে ভবিষ্যতে প্রজেক্ট পাসের আগে নগরীর রাস্তাসমূহের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। ফ্লাইওভার নির্মাণ করা যায় কিনা, উপদেষ্টা সে ব্যাপারে আলোকপাত করেন।

স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা বলেন, কৃষকরা যেন সময়মতো সার, বীজ ঠিকভাবে পায়, সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসকে তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পায়, ভোক্তা যেন সঠিকমূল্যে কৃষিপণ্য পায়, মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন ফায়দা না লুটতে পারে, তা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। স্টোরেজের ঘাটতি পূরণে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের জন্য ছোট ছোট স্টোরেজ নির্মাণের ব্যাপারে ব্যবস্থাগ্রহণে গুরুত্বারোপ করেন। বিভিন্ন অঞ্চলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে কৃষি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং এ ব্যাপারে সরকারও সার্বিক সহযোগিতা করবে।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাগণ নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে উপদেষ্টাকে অবগত করেন। এ সময় তিনি সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারসহ ময়মনসিংহ অঞ্চলের সভা সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহে ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, আহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২১ পিএম
ময়মনসিংহে ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, আহত ৫

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড়ে দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আকুয়া বাইপাস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে মো. সাদেক আলী (২৭) নামে এক যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার চৌদার গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। নিহত অপর নারী যাত্রীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়িয়া থেকে চিকিৎসাধীন এক আত্মীয়কে দেখতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন সাদেক আলী। অটোরিকশাটি আকুয়া বাইপাস মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার এক নারী যাত্রী নিহত হন। গুরুতর আহত চালকসহ পাঁচজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদেক আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ট্রাকটি শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের রহস্যময় ভূমিকায় ধ্বংসের মুখে দনিয়া ও বর্ণমালা কলেজ

এম. আনোয়ার হোসেন।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২২ পিএম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের রহস্যময় ভূমিকায় ধ্বংসের মুখে দনিয়া ও বর্ণমালা কলেজ

জাল সনদ, প্রশাসনিক অনিয়ম ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগে রাজধানীর দনিয়া কলেজ এবং বর্ণমালা আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ইমরান আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। একই ধরনের অভিযোগের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দনিয়া কলেজের সভাপতির পদ থেকে তাকে সরিয়ে দিলেও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন বর্ণমালা আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিনি কীভাবে সভাপতির দায়িত্বে বহাল রয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করেও ইমরান আহমেদ বিতর্কিত ইবাইস ইউনিভার্সিটির বিবিএ ও এমবিএ সনদ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে সভাপতির পদে থাকার যোগ্যতা দেখিয়েছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত প্রতিবেদনে ইবাইস ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম ও পরবর্তী সময়ে দেওয়া সনদের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, এসব অভিযোগের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ২৯ জুলাই ২০২৬ ইমরান আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করে দনিয়া কলেজের সভাপতি পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন তারেককে নিয়োগ দেয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই ইমরান আহমেদ পুনরায় ওই পদে কীভাবে বহাল হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দনিয়া কলেজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ৪ আগস্টের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা কলেজের অধ্যাপক ড. মোসা. আখতারা বানুকে দনিয়া কলেজে প্রেষণে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে ইমরান আহমেদপন্থী পক্ষ আদালতে রিট করে। ফলে মন্ত্রণালয়ের আদেশ কার্যকর হওয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে অনিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, বর্ণমালা আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজেও ইমরান আহমেদের সভাপতির পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দনিয়া কলেজের ক্ষেত্রে যেসব নথি ও যোগ্যতা নিয়ে আপত্তি উঠেছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়েও শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানটিতে তার সভাপতির পদে থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়নি।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে অবস্থানকালেও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে তার স্বাক্ষর ব্যবহৃত হয়েছে। গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি নথির মাধ্যমে জুন মাসের বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট সময়ে দেশে ছিলেন কি না, স্বাক্ষরটি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং বেতন বিলের অনুমোদন প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকদের কেউ কেউ।

অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানা গেছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একই ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা, সনদের বৈধতা ও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে এক প্রতিষ্ঠানে প্রশ্ন উঠলেও অন্য প্রতিষ্ঠানে তিনি কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তে এমন পার্থক্যের কারণ কী -এ নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগগুলোকে ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই, সনদের বৈধতা পরীক্ষা, আর্থিক লেনদেনের নিরীক্ষা এবং গভর্নিং বডির বৈধতা খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মুনসী হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীন আহমেদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গফরগাঁওয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের মুখে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি, হুমকিতে ফসলি জমি-সড়ক ও সেতু

শিবলী সাদিক খান, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৮ পিএম
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের মুখে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি, হুমকিতে ফসলি জমি-সড়ক ও সেতু

ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীতীরবর্তী ৫ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, শত শত একর ফসলি জমি, গুরুত্বপূর্ণ কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক এবং ব্রহ্মপুত্র ও কালিবানার মোহনায় নির্মিত একটি সেতু ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদীভাঙনের কবল থেকে জনবসতি, কৃষিজমি, সড়ক ও সেতু রক্ষার দাবিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।

আবেদনের অনুলিপি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁও আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বাচ্চু, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, র‌্যাব-১৪-এর অধিনায়ক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), পাগলা থানার ওসি, টাংগাব ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের কাছেও দেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারীদের অভিযোগ, পাগলা থানাধীন বাঁশিয়া বাজার থেকে ৮ নম্বর টাংগাব ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রান্তের টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে প্রতিনিয়ত ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, নদীতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী ৫ শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে যেকোনো সময় বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

শুধু বসতভিটাই নয়, নদীর তীরবর্তী শত শত একর ফসলি জমিও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষিজমি নদীতে বিলীন হলে স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এদিকে ময়মনসিংহ থেকে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের টোক চাঁনপুর ঘাট পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরঘেঁষা কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাছাকাছি থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙনে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির অংশবিশেষ নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র ও কালিবানার মোহনায় নির্মিত সেতুটিও ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, সেতুর আশপাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে নদীর গতিপথ ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে সেতুটির ভিত্তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবেদনকারীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নদীভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, কে.বি. ইসমাইল খান সড়ক এবং ব্রহ্মপুত্র-কালিবানার মোহনার সেতুটি রক্ষার জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।