রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে দাবি আদায়ে তুমুল যুদ্ধ: অবশেষে সংস্কারের আশ্বাস দিলেন-এডিএম

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ১:০৪ এম
ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে দাবি আদায়ে তুমুল যুদ্ধ: অবশেষে সংস্কারের আশ্বাস দিলেন-এডিএম

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দীর্ঘ সাড়ে ৭ ঘন্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বঞ্চিত সাংবাদিকরা। তুমুল বাকবিতন্ডা যুদ্ধ শেষে অবশেষে সংস্কারের আশ্বাস দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) উম্মে হাবীবা মীরা। সংস্কারের আশ্বাসে অনেকটাই বিজয়ের আনন্দে প্রেসক্লাব চত্বর ত্যাগ করে বঞ্চিত সাংবাদিকরা।

 

বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নগরীর গাঙ্গিনাপাড় মোড়ে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে প্রায় ২ শতাধিক সাংবাদিক এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। এতে অর্ধশতাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাসহ ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন। তাদের দাবি ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে অপেশাদার সাংবাদিকদের সদস্য পদ বাতিল করতে হবে, পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে “প্রেসক্লাব ফর প্রেসম্যান” করার জন্য গঠনতন্ত্র খসড়া প্রনয়ণ করতে হবে, উভয় পক্ষের সাংবাদিকদের নামের তালিকা করে নিয়ম নীতিমালা অনুসারে খসড়া ভোটার তালিকা নির্নয় করতে হবে, পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আলোচনা করে সমন্বয়ের ভিত্তিতে একটি এডহক কমিটি গঠন করে সম্মিলিত ভাবে সাধারণ সভার দাবি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এসময় আন্দোলনকারী সাংবাদিক নেতা মূখ্য সংগঠক বিএমইউজে সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক খান সহ অর্ধশতাধিক সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এসকল দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারী সাংবাদিকরা রাস্তায় বসে পড়লে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম প্রিন্স, থানা পুলিশ, ডিবি ও যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তা এসে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাইফুল ইসলামকে ঘোষণার গুঞ্জনে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারী সাংবাদিকরা। এক পর্যায়ে তারা প্রেসক্লাবে তালা দেয়ার ঘোষণা দেন এবং ভূয়া ভূয়া স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেলে জেলা প্রশাসকের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবীবা মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’পক্ষের মধ্যস্থতার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও বঞ্চিত সাংবাদিকদের সংস্কার কমিটির নেতৃবৃন্দদের বৈঠকের আহ্বান জানালে সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক মোঃ শামসুল আলম খানের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল শিবলী সাদিক খান, আলমগীর কবির উজ্জ্বল খান,‌ সাদেকুর রহমান আলোচনার টেবিলে বসেন। পরে দু’পক্ষের আলোচনায় ত্রুটিপূর্ণ গঠনতন্ত্র সংশোধন ও আন্দোলনকারী সাংবাদিকদের নামের তালিকা আগামী সোমবারের মধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিলের সিদ্ধান্ত হয়। এবং বুধবারের মধ্যে দু’পক্ষকে নিয়ে চুড়ান্ত সমঝোতার আশ্বাস দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবীবা মীরা। এ আশ্বাসে দীর্ঘ সাড়ে ৭ ঘন্টার আন্দোলন সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করেন বঞ্চিত সাংবাদিকরা।

 

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক মোঃ শামসুল আলম খান সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

 

আলোচনা শেষে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমিত রায় আন্দোলনকারী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সংস্কারের সংহতি প্রকাশ করেন।

 

এর আগে, সোমবার ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সংস্কার কমিটির আহবায়ক মোঃ শামসুল আলম খান ও সদস্য সচিব আজগর হোসেন রবিনের স্বাক্ষরিত এক পত্রে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার দাবি জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার বিশেষ শাখা, ময়মনসিংহ বরাবরে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।

পথনাটকে পরিচ্ছন্ন নগরের বার্তা, ময়মনসিংহে ‘আবর্জনা’ মঞ্চস্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০১ পিএম
পথনাটকে পরিচ্ছন্ন নগরের বার্তা, ময়মনসিংহে ‘আবর্জনা’ মঞ্চস্থ

পরিবেশ সংরক্ষণ, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের উদ্যোগে এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় পরিবেশ সচেতনতামূলক পথনাটক ‘আবর্জনা’ মঞ্চস্থ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকনোজ্জামান রোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সমনা আল মজীদ (উপসচিব), মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান, জেলা কালচারাল অফিসার আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন, সিরাক বাংলাদেশের প্রতিনিধি কামরান মিয়া, ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পথনাটকে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিক দায়িত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রতিপাদ্য ছিল, “শহর যদি হয় পরিষ্কার, সুস্থ থাকবে পরিবার।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রশাসক মো. রুকনোজ্জামান রোকন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুবসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

পথনাটকটি রচনা করেন যুব কাউন্সিলর মো. সজিব হাসান (সানি)। নির্দেশনায় ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম রবিন। এতে অভিনয় করেন মো. রবিন মিয়া, মিনহাজুল ইসলামসহ ময়মনসিংহ নগর যুব কাউন্সিলের সদস্যরা।

গ্রাহকের সুবিধার কথা ভেবে আধুনিক সেবায় এগিয়ে মেছিডেঙ্গীর সোহাগ মিয়া

মাহমুদ হাসান আলিফ, গৌরিপুর।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
গ্রাহকের সুবিধার কথা ভেবে আধুনিক সেবায় এগিয়ে মেছিডেঙ্গীর সোহাগ মিয়া

গৌরীপুরের লঙ্কার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত সোহাগ মিয়ার দোকানটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নিত্যপণ্য সংগ্রহের অন্যতম আস্থার স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দোকানটিতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

দোকান মালিক সোহাগ মিয়া জানান, স্থানীয় গ্রাহকদের আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি পণ্যের গুণগত মানের বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করছেন। দোকানের সব পণ্যের প্যাকেজিং ও মেয়াদ নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করতে পারেন।

ডিজিটাল সেবার এই যুগে সোহাগ মিয়া তার দোকানে বিকাশ এজেন্টসহ আধুনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছেন। এতে স্থানীয় মানুষ খুব সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারছেন, যা এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময় ও কষ্ট দুটোই সাশ্রয় করছে।

এলাকাবাসী জানান, সোহাগ মিয়ার দোকানে সব সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে এবং দোকানের পরিবেশ বেশ গোছানো।

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক সুজিত দাস বলেন, বাজারের মাঝামাঝি সময়ে এমন একটি দোকান থাকা আমাদের জন্য খুবই সুবিধাজনক। সোহাগ মিয়ার এই ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা ও গ্রাহকসেবার মানসিকতা স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দিনেও তিনি তার এই সেবার মান ধরে রেখে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

ময়মনসিংহে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪০০ বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

সুমন ভট্টাচার্য, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম
ময়মনসিংহে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪০০ বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

ময়মনসিংহে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির উদ্যোগে বীমা দাবির চেক হস্তান্তর ও ব্যবসা উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের মাঝে মোট ৪০০টি বীমা দাবির চেক হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য বি এম ইউসুফ আলী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী, ঊর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (আল-আমিন বীমা প্রকল্প) মো. আবু তাহের, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (জনপ্রিয় বীমা প্রকল্প) মো. কামাল হোসেন মহসিন এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ইসলামী ডিপিএস প্রকল্প) মোহাম্মদ খলিলুর রহমান সিকদার।

এ সময় বক্তব্য দেন আল-বারাকাহ ইসলামী ডিপিএস প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক কে এম বিল্লাল হোসেন, পপুলার ডিপিএস প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক মো. সোলায়মান হোসেন সোহাগ এবং পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির বিভিন্ন প্রকল্পের ইনচার্জরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (সমন্বয়কারী, ময়মনসিংহ) সাকিল মাহমুদ।

বক্তারা বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ও সেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুততম সময়ে বীমা দাবি পরিশোধে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা সম্প্রসারণ, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং বীমা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা গ্রাহকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪০০টি বীমা দাবির চেক তুলে দেন।