বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান ড. ইউনূসের

ইউটিভি ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:৩৯ পিএম
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান ড. ইউনূসের

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের সতর্ক হতে হবে, এই সঙ্কটের সমাধান না হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র অঞ্চল সমস্যায় পড়বে।’

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশেনের ফাঁকে ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অব্যশই এ বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি, আইসিসি প্রসিকিউটর করিম এ এ খান, আইওএম মহাপরিচালক অ্যামি পোপ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে নতুন করে ভাবার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমত আমরা চাই জাতিসংঘ মহাসচিব যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সকল পক্ষের উপস্থিতিতে একটি সম্মেলনের আয়োজন করুক।’

সম্মেলনে সঙ্কটের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা পূর্বক নতুন এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সমাধানের উপায় কী হতে পারে, তেমন প্রস্তাব আসতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন ।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দ্বিতীয়ত জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ যৌথভাবে পরিচালিত ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ কার্যক্রমে নতুন করে প্রাণশক্তি যোগ করার প্রয়োজন। যেহেতু এখন রোহিঙ্গাদের পেছনে ব্যয় করার মত তহবিলের অভাব রয়েছে, তাই রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করতে হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে ড. ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই আন্তরিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার দ্বারা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠান হচ্ছে তবে ড. ইউনুসের উপস্থিতি ও তার দৃষ্টিভঙ্গি এবারের আলোচনাকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।’

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বৈষম্য, রাষ্ট্রহীনতা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বন্ধ করতে আমাদের অবশ্যই প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

বৈঠকের পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বাসসকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে এবারের বৈঠকটি অত্যন্ত সফল ছিল। সবাই বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা এবং তাদের অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’

আইওএম মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘এই সঙ্কট সমাধানে আমাদের আরও কাজ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে।’

আইওএম মহাপরিচালক জানান, তারা এই লক্ষ্য অর্জনে সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশ ও তাদের আশ্রয়দানকারী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের নতুন সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এই মার্কিন সহায়তা জীবন রক্ষা বিশেষ করে সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, আশ্রয় এবং খাদ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।

এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশে অবস্থানরত কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থী বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে ‘আমাদের হতাশ করবেন না’ মর্মে একটি বার্তা পাঠিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ওই ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ভুলে যাওয়া যাবে না।’

নকলায় খেয়াঘাটে খাস আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১২:৫৬ এম
নকলায় খেয়াঘাটে খাস আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ পারাপারের নারায়ণখোলা-পিয়ারপুর খেয়াঘাটে খাস আদায়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সরকারি রাজস্ব লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে খেয়াঘাটে “লুটের রাজত্ব” চলছে।

জানা গেছে, উপজেলার ৮নং চর অষ্টধর ইউনিয়নের নারায়ণখোলা খেয়াঘাটে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাস আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নুরুল হককে। তিনি স্থানীয় মাঝিদের মাধ্যমে খাস আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন ঘাট থেকে প্রায় ৫ হাজার টাকা আদায় হলেও ১৫ দিন পর বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি হিসাবে জমা দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে এই খেয়াঘাট ২২ থেকে ২৮ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হতো। তবে বর্তমানে ইজারা না দিয়ে খাস আদায়ের নামে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। ন্যায্য দরদাতারা ইজারার সিডিউল কিনতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সাধারণ যাত্রীরা জানান, মোটরসাইকেল পারাপারের সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ২০ টাকা হলেও বর্তমানে চালকসহ আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা এবং যাত্রীসহ মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া রিজার্ভে পারাপারের সময় জনপ্রতি ১০ টাকা খাস নেওয়ার পরও নৌকায় গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা পর্যন্ত। রাত ১০টার পর প্রতিটি খেয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ভারী মালামাল পরিবহনেও নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

খেয়া মাঝি হালিম বলেন, “প্রতিদিন নায়েবকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এই টাকা আদায় না হলে আমাদের পোষায় না।” এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি লিটন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে ফোন করা হলে ওই ব্যক্তি কল রিসিভ করেননি।

খেয়াঘাটের কয়েকজন মাঝি জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ঘাটটির ইজারা হয়নি। পরে স্থানীয় নায়েবের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকায় খাস হিসেবে তারা ঘাট পরিচালনা করছেন। তাদের মেয়াদ আগামী কোরবানির ঈদের পাঁচদিন পর শেষ হবে বলেও জানান তারা।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নুরুল হক বলেন, “আগে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে শিডিউল বিক্রির মাধ্যমে ২২ থেকে ২৮ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে কেউ শিডিউল ক্রয় না করায় বিভাগীয় কমিশনারের পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে খাস আদায়ের দায়িত্ব দিয়েছেন।”

খাস আদায়ের অর্থ কোথায় জমা হয়— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রতি ১৫ দিন পর ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি ফান্ডে জমা দেওয়া হয়।” তবে মাঝিদের দাবি অনুযায়ী দৈনিক ৫ হাজার টাকা আদায় হলে ১৫ দিনে ৭৫ হাজার টাকা হওয়ার কথা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় লিটনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ইজারা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে খাস আদায়ের নামে সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের সুযোগ নিচ্ছে। এ কারণেই মাঝি ও ভূমি কর্মকর্তার বক্তব্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম এর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করলেও উচ্চ শব্দের কারণে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে

ঘুষ-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য ভালুকার কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস,নায়েব মুফিজুলের কাছে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
ঘুষ-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য ভালুকার কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস,নায়েব মুফিজুলের কাছে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুষ ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।এখানে অনিয়মটা যেন নিয়ম,প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছে সেবা গ্রহীতারা, ওই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না। ভূমি সংক্রান্ত যে কোন সেবার বিনিময়ে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। অফিসে গ্রাহকদের হয়রানি নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মফিজুল ইসলামের ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। সহকারী ভূমি কর্মকর্তার কাছে রীতিমত জিম্মি হয়ে পড়েছে সেবাগ্রহীতারা এমন অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মহলে।

সরেজমিনে জানা গেছে, কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, জমির পর্চা (খসড়া) তুলা সহ ভূমি সংক্রান্ত সকল কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিক ভাবে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে। চুক্তির টাকা ছাড়া কোন ফাইলই নড়ে না। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কোন কাজ আদায় করা যায় না। এই ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহক থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার পরও বিভিন্ন ভাবে হয়রারি করছে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অগোচরে মাঠ পর্যায়ের কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বলে জমির কাজে আসা ভূক্তভোগীরা বলছেন।

ভূমি অফিসে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গ্রাহক জানান, এই অফিসের কর্মকর্তা মোঃ মফিজুল ইসলাম ভূমি অফিসে কাজে আসা গ্রাহকদের কাজ সম্পাদনের বিষয়ে টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেন। আর এই চুক্তি করার জন্য তিনি রেখেছেন একটি দালাল সিন্ডিকেট। অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পরও

সেবা প্রাপ্তির ২০ শতাংশ লোকই চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। আজ না-কাল এভাবে সময়ক্ষেপন করে গ্রাহকদের হয়রানি করছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত হারে দাবিকৃত উৎকোচ না দিলে সেবা গ্রহীতারা পান না তাদের কাঙ্খিত সেবা।

ভুক্তভোগীরা জানান, দুর্নীতির একটি অভিনব কৌশল এখানে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে নামজারি বা খারিজের আবেদনের ক্ষেত্রে কেউ যদি নিয়ম মেনে সরাসরি আবেদন করেন এবং ঘুষ না দেন, তখন এই ভূমি অফিস থেকে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। যেমন—জমির দাগ নম্বর ভুল লেখা বা হোল্ডিং নম্বর নেই বলে উল্লেখ করা হয়।

এই ভুল প্রতিবেদনের কারণে এসিল্যান্ড অফিস থেকে আবেদনটি সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হয়। এরপর ভুক্তভোগী যখন পুনরায় ভূমি অফিসে যোগাযোগ করেন, তখন তাকে দালালদের মাধ্যমে ‘স্যারকে খুশি’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে সেবা প্রার্থীরা তখন ঘুষ দিতে বাধ্য হন।

ভূক্তভোগীরা আরও জানান, এই ভূমি অফিসের দুর্নীতি এমন চরমে পৌঁছেছে যে সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া কোন হয় না। নামজারির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মোটা অংক টাকা আদায় করে উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন স্তরে ভাগ দেয়ার কথা বলে। ভুক্তভোগীদের দাবী এই ভূমি কর্মকর্তার দুর্নীতি রোধে দুদকের সু-হস্তক্ষেপ জরুরি।

এ ব্যাপারে জানতে ভূমি কর্মকর্তা মফিজুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

আরজেএফ’র ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৫ সাংবাদিক

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ।। প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
আরজেএফ’র ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৫ সাংবাদিক

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের সংগঠন রুর‌্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)’র ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত পাঁচ সাংবাদিককে “বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে “উন্নয়ন ও গণমাধ্যম” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে সংগঠনটি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরজেএফ’র চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম। প্রধান আলোচক ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. হাবিবুর রহমান হাবিব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরএভার বরিশালের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন খোকন, এস আর মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন হাউজের স্বত্বাধিকারী অ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাইফুল হোসেন অপু, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার সম্পাদক ও প্রকাশক কবি অশোক ধর, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশন (এফবিজেও)’র মহাসচিব শামছুল আলম এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল (বিসিআরসি)’র সভাপতি আলী আশরাফ আখন্দ।

স্বাগত বক্তব্য দেন আরজেএফ’র মহাসচিব সেকেন্দার আলম শেখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আরজেএফ’র ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম, ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিপি মাহবুব এবং মানবাধিকার সংগঠক মো. মনিরুল ইসলাম মনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সদস্য সচিব মিলন মল্লিক।

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সারাদেশ থেকে যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজন সাংবাদিককে “আরজেএফ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন— বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা মহানগর সংবাদদাতা খোন্দকার এরফান আলী, দৈনিক যায়যায়দিনের সিনিয়র রিপোর্টার মোহাম্মদ হোসেন (এমএইচ সৈকত), দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. রিয়াজুল ইসলাম (রিয়াজ মোস্তাফিজ), দৈনিক ঘোষণার বিশেষ প্রতিনিধি মো. রেজাউল ইসলাম এবং স্টাফ রিপোর্টার মো. সজিব।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এছাড়া তৃতীয় পর্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ জন গুণী ব্যক্তিকে “আরজেএফ বর্ষসেরা সম্মাননা” প্রদান করা হয়।