নিতাই সার্জিক্যালে নকল ওষুধের অভিযোগ, ছড়াচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে
ময়মনসিংহ নগরীর ব্যস্ত দুর্গাবাড়ি রোড। এই এলাকার ‘নিতাই সার্জিক্যাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে উঠেছে নকল ও মানহীন ওষুধ বিক্রি ও সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে এসব ওষুধ শুধু ময়মনসিংহেই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ওষুধ ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে।
প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নিতাই পাল নামে এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নিতাই সার্জিক্যালের কার্যক্রম এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিডিওচিত্রে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওষুধ দেখা যায়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নকল কিংবা মানহীন ওষুধ বাজারে প্রবেশ করলে এর সরাসরি ঝুঁকিতে পড়েন সাধারণ রোগীরা। কারণ ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে রোগীর চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। আর অভিযোগ অনুযায়ী এসব ওষুধ যদি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে, তাহলে ঝুঁকির পরিধি আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, নিতাই সার্জিক্যালে বিক্রি বা মজুত থাকা ওষুধ আদৌ নকল কিংবা মানহীন কি না, সেটি এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়নি। ফলে কেবল অভিযোগ বা ভিডিওচিত্রের ভিত্তিতে ওষুধকে নকল ঘোষণা না করে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে পারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ওষুধের নমুনা সংগ্রহ, ব্যাচ নম্বর ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই এবং পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এসব ওষুধ কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের ক্ষেত্রে সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পর্যায়ে নকল বা অননুমোদিত ওষুধ বাজারে ঢুকে পড়লে তা দ্রুত শনাক্ত ও প্রত্যাহার করা জরুরি। অন্যথায় অজান্তেই রোগীদের হাতে পৌঁছে যেতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ।
এদিকে নিতাই সার্জিক্যালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ বা নিতাই পালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, নিতাই সার্জিক্যালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্য? প্রতিষ্ঠানে থাকা ওষুধগুলোর উৎস কী? সেগুলোর বৈধতা ও মান ঠিক আছে কি না? আর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের যে দাবি উঠেছে, তারই বা সত্যতা কতটুকু?
এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ঔষধ প্রশাসনের অভিযান, নমুনা পরীক্ষা ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তে। অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ করা ওষুধ দ্রুত বাজার থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।










